ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হোয়াটসঅ্যাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বন্ধ অনেক অ্যাকাউন্ট বর্ষাকালে ত্বক ভালো রাখতে যে ৫ কাজ করবেন ঘুমের মধ্যে বারবার গলা শুকিয়ে যায়, এটি কি ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত খুবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর গণভোজের আয়োজন রাজধানীতে মাদ্রাসার শৌচাগারে ছাত্রের লাশ: হত্যা মামলায় দুই শিক্ষক কারাগারে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান হলেন ড. এম. তামিম উলিপুরে এনামুল হক ক্বারী নামে ধ/র্ষকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বিএনপির সক্রিয় অংশগ্রহণেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কালীগঞ্জে মা/দকসেবীকে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অবৈধ অভিবাসন : ৫ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান ইইউ প্রেসিডেন্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী গত সপ্তাহে স্পেনের সেউতায় অনুপ্রবেশের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ইউরোপের দেশগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি জরুরি বৈঠক করবেন।

স্পেন জানিয়েছে, সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ জনকে ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা ৫০ হাজারের চেয়েও বেশি। স্পেনের সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনায় ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে মরক্কোর অংশে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১১ জন।

সংকট মোকাবিলায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠকে বসবেন ইইউভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সেউতার পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে পাঠানো এক চিঠিতে উরসুলা ফন ডার লেয়েন সংকট মোকাবিলায় তার দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তবে তিনি বলেন, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সেউতার পরিস্থিতির জেরে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির সুবিধা স্থগিত করেছে। ইউরোপের ২৯টি দেশ ও ৪৫ কোটির বেশি মানুষের জন্য প্রযোজ্য এই চুক্তির আওতায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত তল্লাশি ছাড়াই যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।

ইতালির এ পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক। এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশ স্পেনের শেনজেন সদস্যপদ সাময়িক স্থগিতেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

এসব প্রতিক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, কিছু ইউরোপীয় সরকারের অবস্থান নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, সেউতা নিজেই শেনজেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

তার দাবি, বেশিরভাগ দেশ স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও কিছু সরকার পূর্বধারণা, ভুয়া তথ্য, অজ্ঞতা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে স্পেনের সমালোচনা করছে।

চিঠিতে ফন ডার লেয়েন বলেন, ইউরোপের বহিরাগত সীমান্ত রক্ষা করা সব সদস্য দেশের যৌথ দায়িত্ব। প্রয়োজনে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা (বর্ডার ব্যারিয়ার) স্থাপন এবং কঠোর নজরদারির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, সেউতার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় ইইউকে পাঁচটি বিষয়ে আরও জোর দিতে হবে। সেগুলো হলো- অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বহিরাগত সীমান্ত আরও শক্তিশালী করা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্র ভেঙে দেওয়া ও অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করা।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ অভিযোগ করেন, মানবপাচারকারীরা দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের সুযোগ নিচ্ছে। ওই রায়ে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতার ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, বর্তমানে সেউতার পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পানিতে ভাসমান বিশেষ প্রতিবন্ধক (ইনফ্ল্যাটেবল ব্যারিয়ার) স্থাপনের কাজ চলছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হোয়াটসঅ্যাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বন্ধ অনেক অ্যাকাউন্ট

অবৈধ অভিবাসন : ৫ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান ইইউ প্রেসিডেন্টের

আপডেট টাইম : ০৪:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী গত সপ্তাহে স্পেনের সেউতায় অনুপ্রবেশের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ইউরোপের দেশগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি জরুরি বৈঠক করবেন।

স্পেন জানিয়েছে, সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ জনকে ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা ৫০ হাজারের চেয়েও বেশি। স্পেনের সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনায় ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে মরক্কোর অংশে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১১ জন।

সংকট মোকাবিলায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠকে বসবেন ইইউভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সেউতার পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে পাঠানো এক চিঠিতে উরসুলা ফন ডার লেয়েন সংকট মোকাবিলায় তার দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তবে তিনি বলেন, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সেউতার পরিস্থিতির জেরে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির সুবিধা স্থগিত করেছে। ইউরোপের ২৯টি দেশ ও ৪৫ কোটির বেশি মানুষের জন্য প্রযোজ্য এই চুক্তির আওতায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত তল্লাশি ছাড়াই যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।

ইতালির এ পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক। এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশ স্পেনের শেনজেন সদস্যপদ সাময়িক স্থগিতেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

এসব প্রতিক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, কিছু ইউরোপীয় সরকারের অবস্থান নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, সেউতা নিজেই শেনজেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

তার দাবি, বেশিরভাগ দেশ স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও কিছু সরকার পূর্বধারণা, ভুয়া তথ্য, অজ্ঞতা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে স্পেনের সমালোচনা করছে।

চিঠিতে ফন ডার লেয়েন বলেন, ইউরোপের বহিরাগত সীমান্ত রক্ষা করা সব সদস্য দেশের যৌথ দায়িত্ব। প্রয়োজনে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা (বর্ডার ব্যারিয়ার) স্থাপন এবং কঠোর নজরদারির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, সেউতার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় ইইউকে পাঁচটি বিষয়ে আরও জোর দিতে হবে। সেগুলো হলো- অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বহিরাগত সীমান্ত আরও শক্তিশালী করা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্র ভেঙে দেওয়া ও অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করা।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ অভিযোগ করেন, মানবপাচারকারীরা দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের সুযোগ নিচ্ছে। ওই রায়ে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতার ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, বর্তমানে সেউতার পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পানিতে ভাসমান বিশেষ প্রতিবন্ধক (ইনফ্ল্যাটেবল ব্যারিয়ার) স্থাপনের কাজ চলছে।


প্রিন্ট