ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রাথমিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই -এটিএম কামরুল ইসলাম মোঃ মুক্তাদির হোসেন মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় নামজারি বাতিল মহাসড়কের পাশে অবৈধ ফুটপাত ও স্থাপনা উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ ডিমলায় নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন ইউক্রেনের খারকিভে বক্সিং ক্লাবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির আকস্মিক সফর সাক্ষরতা বাড়াতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর পঞ্চগড়ে শরতের শুরুতেই ঘন কুয়াশা বেদে পল্লীর উন্নয়নে খাসজমি, সেলাই মেশিন ও ৫ লাখ টাকার সহায়তা দিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক রাবি উপাচার্যের সাথে ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় নবীনগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উদযাপিত

মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় নামজারি বাতিল

স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

নামজারি করে দিতে চাওয়া হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা| টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় নামজারি আবেদন করা হয় নামঞ্জুর| একই বণ্টননামা ও মালিকানা কাগজের ভিত্তিতে ভাইয়ের নামজারি মঞ্জুর হলেও নিজের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বজিৎ সরকার নামে এক কৃষক| এখানেই শেষ নয়, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য হোল্ডিং অনুমোদনের আবেদন করার পর মাত্র একদিনের মধ্যে সেটিও বাতিল করা হয়েছে| এমনই গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে| বিশ্বজিৎ উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের পুতুল সরকারের ছেলে|

বিশ্বজিৎ তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ১ আগস্ট বিশ্বজিৎ নিজের নামে তিনটি ক্রয় দলিল এবং সহোদর ভাইদের সঙ্গে বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া মোট ২৭৫ শতাংশ জমির নামজারির জন্য আবেদন করেন (নং-৪২৩৯৮৩৮)| যা তদন্তের জন্য সারোয়ারের কাছে পাঠানো হয়| কিন্তু সারোয়ার বিশ্বজিৎকে একাধিকবার ফোন করে তার অফিসে এবং অফিসের সামনের রাস্তায় দেখা করতে বলেন| বিশ্বজিৎ দেখা করলে সারোয়ার বিশ্বজিতের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন| বিশ্বজিৎ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সারোয়ার তাতে রাজি হননি| এদিকে গত ১৭ আগস্ট ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য হোল্ডিং অনুমোদনের আবেদন করেন বিশ্বজিৎ| কিন্তু পরদিনই আবেদনটি বাতিল করেন সারোয়ার|

বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, একই দলিল ও সংশ্লিষ্ট মালিকানা কাগজের ভিত্তিতে আমার ভাইয়ের নামে নামজারি মঞ্জুর হয়েছে| পরবর্তীতে ভাই সেই জমি অন্যত্র হস্তান্তরও করেছেন| আমার বিরুদ্ধে খাজনা পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে নামজারি আবেদন না মঞ্জুর করেছেন এবং আমার ভাইয়ের নামজারি নাকি ভুলবশত করেছেন| তাই তিনি (সারোয়ার) প্রয়োজনে আমার ভাইয়ের নামজারি খতিয়ান, বণ্টননামা ও হস্তান্তর দলিল বাতিল করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন|

মধ্যনগর অভিযুক্ত গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘আমি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছি তার প্রমাণ দিতে পারবেনা| বিশ্বজিতের ভাইয়ের বাটোয়ারা দলিলটি সম্প্রতি হওয়ায় আমি ধরে নিয়েছিলাম উক্ত জায়গার খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং সরলমনে তা মঞ্জুর করেছি| সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে তা বাতিল করা হবে| আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|’বাদশাগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার জানান, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী বণ্টননামা হস্তান্তর দলিল নয়| তাই বণ্টননামা দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ বাধ্যতামূলক নয়| ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩-এর ৬(২) ও ৬(৩) ধারার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন|


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই -এটিএম কামরুল ইসলাম মোঃ মুক্তাদির হোসেন

মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় নামজারি বাতিল

আপডেট টাইম : ০৪:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

নামজারি করে দিতে চাওয়া হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা| টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় নামজারি আবেদন করা হয় নামঞ্জুর| একই বণ্টননামা ও মালিকানা কাগজের ভিত্তিতে ভাইয়ের নামজারি মঞ্জুর হলেও নিজের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বজিৎ সরকার নামে এক কৃষক| এখানেই শেষ নয়, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য হোল্ডিং অনুমোদনের আবেদন করার পর মাত্র একদিনের মধ্যে সেটিও বাতিল করা হয়েছে| এমনই গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে| বিশ্বজিৎ উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের পুতুল সরকারের ছেলে|

বিশ্বজিৎ তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ১ আগস্ট বিশ্বজিৎ নিজের নামে তিনটি ক্রয় দলিল এবং সহোদর ভাইদের সঙ্গে বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া মোট ২৭৫ শতাংশ জমির নামজারির জন্য আবেদন করেন (নং-৪২৩৯৮৩৮)| যা তদন্তের জন্য সারোয়ারের কাছে পাঠানো হয়| কিন্তু সারোয়ার বিশ্বজিৎকে একাধিকবার ফোন করে তার অফিসে এবং অফিসের সামনের রাস্তায় দেখা করতে বলেন| বিশ্বজিৎ দেখা করলে সারোয়ার বিশ্বজিতের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন| বিশ্বজিৎ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সারোয়ার তাতে রাজি হননি| এদিকে গত ১৭ আগস্ট ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য হোল্ডিং অনুমোদনের আবেদন করেন বিশ্বজিৎ| কিন্তু পরদিনই আবেদনটি বাতিল করেন সারোয়ার|

বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, একই দলিল ও সংশ্লিষ্ট মালিকানা কাগজের ভিত্তিতে আমার ভাইয়ের নামে নামজারি মঞ্জুর হয়েছে| পরবর্তীতে ভাই সেই জমি অন্যত্র হস্তান্তরও করেছেন| আমার বিরুদ্ধে খাজনা পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে নামজারি আবেদন না মঞ্জুর করেছেন এবং আমার ভাইয়ের নামজারি নাকি ভুলবশত করেছেন| তাই তিনি (সারোয়ার) প্রয়োজনে আমার ভাইয়ের নামজারি খতিয়ান, বণ্টননামা ও হস্তান্তর দলিল বাতিল করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন|

মধ্যনগর অভিযুক্ত গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘আমি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছি তার প্রমাণ দিতে পারবেনা| বিশ্বজিতের ভাইয়ের বাটোয়ারা দলিলটি সম্প্রতি হওয়ায় আমি ধরে নিয়েছিলাম উক্ত জায়গার খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং সরলমনে তা মঞ্জুর করেছি| সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে তা বাতিল করা হবে| আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|’বাদশাগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার জানান, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী বণ্টননামা হস্তান্তর দলিল নয়| তাই বণ্টননামা দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ বাধ্যতামূলক নয়| ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩-এর ৬(২) ও ৬(৩) ধারার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন|


প্রিন্ট