মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সঙ্গে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান তিনি।
ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাও তিনি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। মানুষ যার কাছে প্রাপ্তির আশা করে, তার কাছেই প্রত্যাশা করে। আমাদের অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে কিশোর গ্যাং। তারা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দিন দিন বিচরণ করছে। মাদক যদি এখনই রোধ করতে না পারি, একসময় এর বিস্তার দিন দিন বাড়তেই থাকবে। এখনই যদি এটাকে টেনে ধরতে না পারি, তাহলে একসময় এই সমাজ ভেঙে যাবে। এই পরিবেশ থাকবে না, অসুস্থ মানুষের বসবাসে পরিণত হবে। আমাদের প্রথম টার্গেট— কীভাবে মাদক নির্মূল করা যায়।’
মাদক নির্মূলে প্রতিটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে টিম গঠন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তালিকা তৈরি করেন। সেই তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। এখনই কীভাবে নিয়ন্ত্রণের আওতায় এবং লাইসেন্সের আওতায় আনা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতি আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আইনশৃঙ্খলা এবং উন্নয়নের কাজগুলো করা সম্ভব। উন্নয়নমূলক কাজ ধীরগতির হলে আমাকে অবহিত করবেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতি মাসে জেলাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আপডেট নেবেন। এজন্য সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা অবাধে মাদক বিক্রি, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাই রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশের আরো জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সংসদ সদস্যরা।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী ও ফেরদৌসী আহমেদ, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক দক্ষিণ) মো. তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আব্দুর রাফিউল আলমসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 


















