কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে শনিবার রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টে সমতা এনেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
আগের লিগ ম্যাচে রিয়াল বেতিসের কাছে হারের পর হোসে মরিনহোর দল জয়ের ধারায় ফিরেছে প্রতিবেশী রায়োর বিপক্ষে দাপুটে জয়ের মাধ্যমে।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জুড বেলিংহাম ও আলভারো ক্যারেয়াসও গোল করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সফরকারীদের হয়ে একটি গোল শোধ করেন সার্জিও কামেয়ো।
রায়োর বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোলের লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় মরিনহোর দল।
ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদ টিভিকে বলেন মরিনহো, “জয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে লা লিগায় আগের ম্যাচে হারের পর। প্রথমার্ধেই আমরা ম্যাচ শেষ করে দিয়েছি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের পর এভাবে কাজ করা সহজ নয়। শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও।”
১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। ফ্লোরিয়ান লেজুনে অসাবধানতাবশত ক্যারেয়াসকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। রায়োর গোলরক্ষক এমিল অডেরোকে ভুল দিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপ্পে।
দ্বিতীয় গোলটিতেও ভূমিকা রাখেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের চাপে লেজুনে বল হারালে ক্যারেয়াস এমবাপ্পের সঙ্গে পাস বিনিময় করে জোরালো শটে গোল করেন।
রিয়ালের হয়ে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া ক্লাবটির রেকর্ড সাইনিং ইয়ান দিয়োমান্দে ডান দিক থেকে দ্রুতগতির ড্রিবলে ভেতরে ঢুকে রায়োর রক্ষণভাগকে বিপাকে ফেলেন, কিন্তু তার শট অনেক ওপর দিয়ে ও বাইরে চলে যায়।
রিয়ালের তৃতীয় গোলটি করেন বেলিংহাম। ভিনিসিয়াস বাঁ দিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ইংল্যান্ডের এই তারকাকে বল বাড়িয়ে দেন চলতি মৌসুমে দারুণ ফর্মে থাকা বেলিংহাম গোলটি করেন, যা এ মৌসুমে তার তৃতীয়।
এমবাপ্পে দূরপাল্লার জোরালো শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। অন্যদিকে পেদ্রো দিয়াজের শট দূর্দান্তভাবে সেভ করেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। বেলজিয়ান গোলরক্ষক শক্ত হাতে দিয়াজের শট ঠেকিয়ে দেন।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ফেরার চেষ্টা করা রায়ো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলবঞ্চিত হয়। দিয়াজের শটে পোস্টে লেগে ফেরত আসে।
এই সপ্তাহে ব্যালন ডি’অর জয়ের পক্ষে নিজের দাবি তুলে ধরা এমবাপ্পে দ্বিতীয় গোলটি করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার নীচু শট পোস্টে বাইরে দিয়ে চলে যায়।
৫১ মিনিটে রায়ো একটি গোল শোধ করে। ভিনিসিয়াসের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বল কেড়ে নিয়ে কামেয়ো কোর্তোয়ার পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান।
চলতি মৌসুমে এটি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের ষষ্ঠ গোল, ফলে বার্সেলোনার রাফিনিয়া ও এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা।
১৫তম স্থানে থাকা বেনাত সান হোসের দল আরও গোল করার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু কোর্তোয়া জিওর্গি সিতাইশভিলির শট ঠেকিয়ে দেন এবং লেজুনের আরেকটি প্রচেষ্টাও রুখে দেন।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে তুর্কি মিডফিল্ডার আরদা গুলেরকে মাঠে নামান মরিনহো।
যোগ করা সময়ে রিয়ালের চতুর্থ গোলটি এমবাপ্পেকে দিয়ে করাতে ভূমিকা রাখেন গুলের। নিচু শটে গোল করে সুযোগটি নিখুঁতভাবে কাজে লাগান এমবাপ্পে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে এটি এমবাপ্পের সপ্তম গোল।
মঙ্গলবার রিয়াল মাদ্রিদ এলচের বিপক্ষে খেলবে। অন্যদিকে রায়ো ভায়েকানো নিজেদের মাঠে এস্পানিওলকে আতিথ্য দেবে।
এর আগে শনিবার রেসিং সান্তান্দার তৃতীয় স্থানে থাকা আলাভেসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে। এস্পানিওল ২-০ গোলে ওসাসুনাকে হারিয়েছে এবং অ্যাথলেটিক বিলবাও নিজেদের মাঠে এলচের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 























