ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানের রুমায় কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে চার যুবক (আটক)

মোঃ সিমান্ত তালুকদার

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার ১ নম্বর পাইন্দু ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তংমক পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই কিশোরীর গর্ভধারণ ও পরবর্তী শারীরিক জটিলতার বিষয়টিও সামনে এসেছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক সময়ে ওই চারজনকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।আটক ব্যক্তিরা হলেন—ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিংনু মারমা, ক্রোচিং অংয়ের ছেলে উহাইমং মারমা, মংচ মারমার ছেলে সিংহ্লা মারমা এবং মৃত মংচহ্লা মারমার ছেলে উশৈনু মারমা।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিংনু মারমা তাকে ধর্ষণ করেন। এর পরদিন উহাইমং মারমা ও সিংহ্লা মারমা এবং পরবর্তীতে উশৈনু মারমা তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছে কিশোরী। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উশৈনু মারমা এক সন্তানের বাবা।

কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় চার মাস পর উহাইমং মারমা তাকে এক পাতা ট্যাবলেট দেন। ওই ট্যাবলেট খাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে তার মা-বাবা তাকে চিকিৎসার জন্য রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। হাসপাতালে চিকিৎসার সময় কিশোরীর গর্ভধারণ ও পরবর্তী শারীরিক জটিলতার বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় বলে দাবি তাদের। এ ছাড়া পাড়াবাসীর কাছ থেকেও তারা ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে চারজনের মধ্যে একজনকে আটক করা হয়। পরে বিকেলে আরও তিনজন রুমা থানায় উপস্থিত হলে তাদেরও আটক করা হয়। এরপর চারজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক চারজনই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত সময়কাল, ঘটনার ধরন, অভিযোগের বিস্তারিত এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ বিষয়ে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে আটক করে থানার হাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। আগামীকাল সকালে তাদের বান্দরবান আদালতে পাঠানো হবে।”পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিচয় আইনগত ও মানবিক কারণে প্রকাশ করা হয়নি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বান্দরবানের রুমায় কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে চার যুবক (আটক)

আপডেট টাইম : ০৭:৪৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ সিমান্ত তালুকদার

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার ১ নম্বর পাইন্দু ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তংমক পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই কিশোরীর গর্ভধারণ ও পরবর্তী শারীরিক জটিলতার বিষয়টিও সামনে এসেছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক সময়ে ওই চারজনকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।আটক ব্যক্তিরা হলেন—ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিংনু মারমা, ক্রোচিং অংয়ের ছেলে উহাইমং মারমা, মংচ মারমার ছেলে সিংহ্লা মারমা এবং মৃত মংচহ্লা মারমার ছেলে উশৈনু মারমা।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিংনু মারমা তাকে ধর্ষণ করেন। এর পরদিন উহাইমং মারমা ও সিংহ্লা মারমা এবং পরবর্তীতে উশৈনু মারমা তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছে কিশোরী। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উশৈনু মারমা এক সন্তানের বাবা।

কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় চার মাস পর উহাইমং মারমা তাকে এক পাতা ট্যাবলেট দেন। ওই ট্যাবলেট খাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে তার মা-বাবা তাকে চিকিৎসার জন্য রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। হাসপাতালে চিকিৎসার সময় কিশোরীর গর্ভধারণ ও পরবর্তী শারীরিক জটিলতার বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় বলে দাবি তাদের। এ ছাড়া পাড়াবাসীর কাছ থেকেও তারা ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে চারজনের মধ্যে একজনকে আটক করা হয়। পরে বিকেলে আরও তিনজন রুমা থানায় উপস্থিত হলে তাদেরও আটক করা হয়। এরপর চারজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক চারজনই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত সময়কাল, ঘটনার ধরন, অভিযোগের বিস্তারিত এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ বিষয়ে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে আটক করে থানার হাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। আগামীকাল সকালে তাদের বান্দরবান আদালতে পাঠানো হবে।”পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিচয় আইনগত ও মানবিক কারণে প্রকাশ করা হয়নি।


প্রিন্ট