ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের ন্যায্য দাবী আদায়ে নির্বাহী অফিসারের সাথে সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত, সরবরাহ বন্ধ অক্টোবরে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করবে বিমান : মিল্লাত নিয়মিত রেড মিট খান!জেনে নিন কী হতে পারে? ফ্রান্সের জয়রথ চলছেই, তুরস্ককে হারিয়ে ইতালির স্বস্তি প্রাক্তনকে ভুলতে কত বছর লাগে? গবেষণার উত্তর চমকে দেবে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরু করলো মালয়েশিয়া রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণা-উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির

তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের শীর্ষ কূটনীতিকের বৈঠক

 জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক করার অপেক্ষায় রয়েছে চীন। বেইজিংয়ে বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেশি ইওয়াইয়ার সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এশিয়ার দুই অর্থনৈতিক শক্তি চীন ও জাপানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছিলেন, তাইওয়ানে কোনো হামলা হলে টোকিও তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।

এর প্রতিক্রিয়ায় চীন তার নাগরিকদের জাপান ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক করে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর ফলে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুর্লভ খনিজ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেশি ইওয়াইয়া প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে চীন সফর করছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোই এ প্রতিনিধিদলের মূল লক্ষ্য। গত নভেম্বর থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার বেইজিংয়ে ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ইওয়াইয়া। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ওয়াং ই বলেন, চীন-জাপান সম্পর্ক আবারও একটি গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের নেতৃত্বের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সংশোধন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ বলে মন্তব্য করেন ওয়াং।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি বলেন, ‘জাপানের পক্ষের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো তাইওয়ান ইস্যুতে দেশটির নেতাদের ভুল বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সংশোধন করা।’

ইওয়াইয়ার এই চীন সফরের এক মাস আগে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন জাপানি আইনপ্রণেতা সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়ে বেইজিং সফর করেছিলেন। তবে তাদের সেই সফরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

রোববার টোকিওর হানেদা বিমানবন্দর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইওয়াইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি কঠিন সময়। তাই সংলাপের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের পথ খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

ইওয়াইয়া ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। দেশটির ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) তিনি এখনো প্রভাবশালী নেতা। তবে দলের কিছু সদস্য চীনের বিষয়ে তার অবস্থানকে অতিরিক্ত নমনীয় বলে সমালোচনা করেছেন।

জাপান সরকার জানিয়েছে, চীনা পক্ষের দেওয়া তথ্য সম্পর্কে তারা অবগত। তবে এটি একটি বেসরকারি অর্থনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে তারা।

জাপান সরকারের মুখপাত্র মিনোরু কিহারা বলেন, চীন ও জাপানের মধ্যে এখনো বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় ও মতপার্থক্য রয়েছে। সে কারণেই দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে এবং বিস্তৃত পরিসরে যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে জাপান মনে করে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ইওয়াইয়া বেইজিংয়ে গিয়ে ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

সেই বৈঠকে দুই দেশ চীনা পর্যটকদের জন্য জাপানের ভিসা-সংক্রান্ত নিয়ম কিছুটা সহজ করার বিষয়ে সম্মত হয়। এর আগে চীনও জাপানি পর্যটকদের জন্য একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের শীর্ষ কূটনীতিকের বৈঠক

আপডেট টাইম : ০২:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক করার অপেক্ষায় রয়েছে চীন। বেইজিংয়ে বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেশি ইওয়াইয়ার সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এশিয়ার দুই অর্থনৈতিক শক্তি চীন ও জাপানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছিলেন, তাইওয়ানে কোনো হামলা হলে টোকিও তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।

এর প্রতিক্রিয়ায় চীন তার নাগরিকদের জাপান ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক করে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর ফলে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুর্লভ খনিজ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেশি ইওয়াইয়া প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে চীন সফর করছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোই এ প্রতিনিধিদলের মূল লক্ষ্য। গত নভেম্বর থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার বেইজিংয়ে ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ইওয়াইয়া। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ওয়াং ই বলেন, চীন-জাপান সম্পর্ক আবারও একটি গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের নেতৃত্বের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সংশোধন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ বলে মন্তব্য করেন ওয়াং।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি বলেন, ‘জাপানের পক্ষের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো তাইওয়ান ইস্যুতে দেশটির নেতাদের ভুল বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সংশোধন করা।’

ইওয়াইয়ার এই চীন সফরের এক মাস আগে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন জাপানি আইনপ্রণেতা সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়ে বেইজিং সফর করেছিলেন। তবে তাদের সেই সফরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

রোববার টোকিওর হানেদা বিমানবন্দর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইওয়াইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি কঠিন সময়। তাই সংলাপের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের পথ খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

ইওয়াইয়া ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। দেশটির ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) তিনি এখনো প্রভাবশালী নেতা। তবে দলের কিছু সদস্য চীনের বিষয়ে তার অবস্থানকে অতিরিক্ত নমনীয় বলে সমালোচনা করেছেন।

জাপান সরকার জানিয়েছে, চীনা পক্ষের দেওয়া তথ্য সম্পর্কে তারা অবগত। তবে এটি একটি বেসরকারি অর্থনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে তারা।

জাপান সরকারের মুখপাত্র মিনোরু কিহারা বলেন, চীন ও জাপানের মধ্যে এখনো বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় ও মতপার্থক্য রয়েছে। সে কারণেই দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে এবং বিস্তৃত পরিসরে যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে জাপান মনে করে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ইওয়াইয়া বেইজিংয়ে গিয়ে ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

সেই বৈঠকে দুই দেশ চীনা পর্যটকদের জন্য জাপানের ভিসা-সংক্রান্ত নিয়ম কিছুটা সহজ করার বিষয়ে সম্মত হয়। এর আগে চীনও জাপানি পর্যটকদের জন্য একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল।


প্রিন্ট