বাংলাদেশে এয়ারবাস ও মেনজিস এভিয়েশনের প্রস্তাবিত বিনিয়োগকে সমর্থন জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
তিনি জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, প্রযুক্তি ও জনশক্তির সক্ষমতা বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে এয়ারবাস ও মেনজিস এভিয়েশনের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাজ্য অত্যন্ত আগ্রহী।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার বলেন, প্রস্তাবিত দুটি বিনিয়োগ বাংলাদেশের বৃহত্তর এভিয়েশন উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে এয়ারবাসের বিনিয়োগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে আন্তর্জাতিক মানের গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং সেবা চালুর ক্ষেত্রে মেনজিস আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নিয়ে আসতে চায়।
কুক বলেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনে শুধু অবকাঠামোতে বিনিয়োগই নয়, বরং দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান নিয়ে আসতে পারে-এমন শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বও প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, এয়ারবাসের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ আধুনিক মিশ্র বহরের মাধ্যমে বিমানের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।
কুক বলেন, বাংলাদেশে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) সক্ষমতা গড়ে তুলতে এয়ারবাস সহযোগিতার আগ্রহও জানিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
হাইকমিশনার বাংলাদেশে দ্বিতীয় যাত্রী গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলার চালুর প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে মেনজিস এভিয়েশনের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘মেনজিস এভিয়েশন যে সুযোগ নিয়ে এসেছে, তা নিয়েও আমরা সমানভাবে আগ্রহী।’
কুক মেনজিসকে বিশ্বের অন্যতম বড় এভিয়েশন গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং কোম্পানি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী ৩৫০টিরও বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং যাত্রী, কার্গো ও গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং সেবায় ‘বিশ্বমানের দক্ষতা’ নিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, তৃতীয় টার্মিনালে ১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি এভিয়েশন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠাসহ বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে মেনজিসের।
কুক বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক দক্ষতা বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে পারে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে দ্বিতীয় যাত্রী গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেতে মেনজিস প্রতিযোগিতা করছে।
এর আগে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নির্বাচিত হলে প্রথম বছরেই গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম, আধুনিক এভিয়েশন প্রযুক্তি এবং জনশক্তি উন্নয়নে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
কুক বলেন, বিমান নির্মাণ ও বিমানবন্দর পরিচালনা থেকে শুরু করে যাত্রীসেবা, প্রযুক্তি এবং গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং পর্যন্ত এভিয়েশন খাতের সামগ্রিক কার্যক্রমে যুক্তরাজ্যের ব্যাপক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে বিনিয়োগের মাধ্যমে যাত্রীদের সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং একটি কানেক্টেড আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
হাইকমিশনার এ বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত এভিয়েশন সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের কথা স্মরণ করে বলেন, ওই সমঝোতা দুই দেশের যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং এভিয়েশন খাতে সুযোগ সম্প্রসারণের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মিল্লাতের নেতৃত্বে এভিয়েশন, যোগাযোগ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী।
কুক বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য উভয় দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করতে পারে- এমন আরও বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বে উৎসাহ দিতে ব্রিটিশ হাইকমিশন কাজ করতে চায়।
তিনি বিনিয়োগে সহায়তা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এয়ারবাস ও মেনজিসের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের রূপান্তরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে-আকাশপথে এয়ারলাইনসের সক্ষমতা আধুনিকায়ন এবং ভূমিতে বিমানবন্দর পরিচালনব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 















