ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঊলিপুরে ২৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মগোপনে বিএনপি নেতা জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ দেশের এভিয়েশন হাবের অগ্রযাত্রায় লুফথানসার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সরকার : বিমান মন্ত্রী ঢাকা-জার্কাতা অংশীদারিত্ব জোরদারে ৫ প্রস্তাব পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর তৃণমূলের আস্থায় এম কফিল উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে আলোচনায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি অনুমোদন মৃধাবাড়ি থেকে কাজলা সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস প্রস্তুতি ম্যাচে কুইন্সল্যান্ডের কাছে হারলো বাংলাদেশ নারী দল কালিয়াকৈরে বিভিন্ন পূজা মন্ডপে দিনরাত জেগে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা তৈরীর কারিগররা

যুদ্ধক্লান্ত উত্তর ইসরাইলিরা নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন পুনর্বিবেচনা করছেন

লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তর ইসরাইলের যেসব এলাকায় হিজবুল্লাহ হাজার হাজার রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, সেখানকার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর একসময়ের সমর্থকরা এখন নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, তা নতুন করে ভাবছেন।

যুদ্ধের পর এটিই হতে যাচ্ছে ইসরাইলের প্রথম নির্বাচন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইসরাইলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ডাকনাম ‘বিবি’ ব্যবহার করে গাছের চারা বিক্রির ব্যবসায়ী সিগাল মালাখি বলেন, ‘আমার পরিচিত অনেকেই ডানপন্থী ছিলেন ও বিবিকে সমর্থন করতেন। কিন্তু এখন আর করছেন না।’

নেতানিয়াহুর ঐতিহ্যগত সমর্থনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে অনেক ভোটার এএফপিকে জানিয়েছেন, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তারা আর তার ডানপন্থী সরকারকে সমর্থন করতে পারছেন না।

তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলে হামলা শুরু করে।

ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার পর, হামাসের সমর্থনে তারা ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়।

টানা হামলায় উত্তর ইসরাইলের জনজীবন ব্যাপকভাবে বদলে যায়। হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। মালাখির মতো অনেক ব্যবসায়ীকে বছরের পর বছর তাদের ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

উত্তর ইসরাইলের বাসিন্দারা লেবানন সীমান্তের ওপার থেকে রকেট হামলার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত।
তবে তাদের মতে, এবারের সংঘাত ছিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র।

মালাখি বলেন, ‘আমরা কাতিউশা রকেট আর বোমার শব্দ শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু এই যুদ্ধ ছিল ভিন্ন।’

মার্চে তার গাছের চারার নার্সারি আবার চালু হয়েছে।
যুদ্ধের সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আপনি বাইরে বের হলে এক সেকেন্ডের মধ্যেই আশ্রয়ের দিকে দৌড়াতে হতো।’

২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যায়। তবে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের ২০২৫ সালের শুরুর আগে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়নি।

এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উত্তর সীমান্তে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া ও দীর্ঘদিন ধরে ভূমধ্যসাগরের তীরে ইসরাইলের সবচেয়ে উত্তরের শহর নাহারিয়ায় বসবাসকারী ম্যাক্সিম জারবাইলভও এবার সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সারা জীবন আমি লিকুদকে, বিবি নেতানিয়াহুকে ভোট দিয়েছি। কিন্তু এবার আমি (গাদি) আইজেনকোটকে ভোট দিতে চাই।’
আইজেনকোট সাবেক সেনাপ্রধান ও নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঊলিপুরে ২৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মগোপনে বিএনপি নেতা

যুদ্ধক্লান্ত উত্তর ইসরাইলিরা নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন পুনর্বিবেচনা করছেন

আপডেট টাইম : ০১:২৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তর ইসরাইলের যেসব এলাকায় হিজবুল্লাহ হাজার হাজার রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, সেখানকার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর একসময়ের সমর্থকরা এখন নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, তা নতুন করে ভাবছেন।

যুদ্ধের পর এটিই হতে যাচ্ছে ইসরাইলের প্রথম নির্বাচন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইসরাইলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ডাকনাম ‘বিবি’ ব্যবহার করে গাছের চারা বিক্রির ব্যবসায়ী সিগাল মালাখি বলেন, ‘আমার পরিচিত অনেকেই ডানপন্থী ছিলেন ও বিবিকে সমর্থন করতেন। কিন্তু এখন আর করছেন না।’

নেতানিয়াহুর ঐতিহ্যগত সমর্থনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে অনেক ভোটার এএফপিকে জানিয়েছেন, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তারা আর তার ডানপন্থী সরকারকে সমর্থন করতে পারছেন না।

তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলে হামলা শুরু করে।

ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার পর, হামাসের সমর্থনে তারা ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়।

টানা হামলায় উত্তর ইসরাইলের জনজীবন ব্যাপকভাবে বদলে যায়। হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। মালাখির মতো অনেক ব্যবসায়ীকে বছরের পর বছর তাদের ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

উত্তর ইসরাইলের বাসিন্দারা লেবানন সীমান্তের ওপার থেকে রকেট হামলার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত।
তবে তাদের মতে, এবারের সংঘাত ছিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র।

মালাখি বলেন, ‘আমরা কাতিউশা রকেট আর বোমার শব্দ শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু এই যুদ্ধ ছিল ভিন্ন।’

মার্চে তার গাছের চারার নার্সারি আবার চালু হয়েছে।
যুদ্ধের সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আপনি বাইরে বের হলে এক সেকেন্ডের মধ্যেই আশ্রয়ের দিকে দৌড়াতে হতো।’

২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যায়। তবে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের ২০২৫ সালের শুরুর আগে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়নি।

এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উত্তর সীমান্তে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া ও দীর্ঘদিন ধরে ভূমধ্যসাগরের তীরে ইসরাইলের সবচেয়ে উত্তরের শহর নাহারিয়ায় বসবাসকারী ম্যাক্সিম জারবাইলভও এবার সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সারা জীবন আমি লিকুদকে, বিবি নেতানিয়াহুকে ভোট দিয়েছি। কিন্তু এবার আমি (গাদি) আইজেনকোটকে ভোট দিতে চাই।’
আইজেনকোট সাবেক সেনাপ্রধান ও নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।


প্রিন্ট