সাবহেড:
জ্যেষ্ঠদের বাদ দিয়ে কনিষ্ঠদের বদলি, শূন্য পদ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত নিয়েও প্রশ্ন; আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সাম্প্রতিক বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নীতিমালা অনুসরণ না করা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
গত ৪ অক্টোবর কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমানের ১ অক্টোবর স্বাক্ষরিত বদলি-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি হয়। আদেশ প্রকাশের পরই কয়েকজন শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ২০২৬ সালের বদলি নীতিমালায় শূন্য পদের বিপরীতে বদলি, একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অগ্রাধিকার এবং স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামী/পিতার স্থায়ী ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু কাউখালীর কয়েকটি বদলিতে এসব বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ ৫ নম্বর বেতকা গোয়ালতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যালয়টির চার সহকারী শিক্ষক—শারমিন আক্তার, মো. আবু হানিফ, মাসুদা খানম ও তুলি কর্মকার—বদলির আবেদন করেন। জ্যেষ্ঠতার ক্রমে প্রথম দুজনকে বাদ দিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
৬১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শূন্য পদের বিপরীতে আশোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. শোয়াইবুর রহমান ও ছোট বিড়াল জুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শারমিন লীরা আবেদন করেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শারমিন লীরা জ্যেষ্ঠ হলেও তাকে বাছাই প্রক্রিয়ায় ডাকা হয়নি। পরে শোয়াইবুর রহমানকে ওই পদে পদায়ন করা হয়েছে। শারমিন লীরার আবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও তাকে জানানো হয় বলে অভিযোগ।
এ ছাড়া ৮ নম্বর হোগলা বেতকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. রাসেল হোসেনের আবেদনও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
৫৮ নম্বর মুক্তারকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগে থেকেই তিনজন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও আরও দুজনকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং শিক্ষক সংকটে থাকা অন্যান্য বিদ্যালয়ে পদায়নের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে ৪৮ নম্বর দত্তের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারাহ তাসনিম এনির আবেদনে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ না থাকলেও তাকে ৬৫ নম্বর গোসনতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা আরও দাবি করেন, পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক থাকা বিদ্যালয় থেকে প্রতিস্থাপন ছাড়া বদলি এবং প্রতিস্থাপন-সাপেক্ষে পদায়নের ক্ষেত্রে নীতিমালার বিধানও যথাযথভাবে মানা হয়নি। এসব অনিয়মের পেছনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা পুরো বদলি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কাউখালী
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
মোঃ ওয়াহিদুর রহমান- বলেন উপজেলায় বদলিজনিত প্রক্রিয়ায় কোন অনিয়ম নাই, আমি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা করেছি।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 


















