নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজবাড়ীতে বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার শেখ প্রকাশ্যে রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর পক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন এবং নিজে সামনে থেকে গণসংযোগ পরিচালনা করেছেন বলে নাম প্রকাশ অনেক একাধিক স্থানীয় জনতা বিষয়টা নিশ্চিত করেন ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় রাজিব মোল্লার দায়েরকৃত মামলায় ১৬৭ নং আসামি হিসাবে চেয়ারম্যান দেলোয়ার শেখ এজাহারভুক্ত আসামী । দীর্ঘদিন আত্মগোপন বা গ্রেফতার না হয়ে তিনি রহস্যজনকভাবে বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ করেন। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রসমাজ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো গ্রেফতার হয়নী, যা চরম হতাশাজনক। তাদের দাবি, একজন চিহ্নিত দোসর হিসেবে এখনও তিনি পরিষদ পরিচালনা করছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মিটিংয়ে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। এসব মিটিংয়ের মাধ্যমে সরকারের গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্য তার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পলাতক দোসর ও ক্যাডারদের কাছে পাচার হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও নির্যাতন মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজবাড়ীর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী ও ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এমনকি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছে। এতে জুলাই যোদ্ধারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার পাশাপাশি রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর তথ্য পাচারেরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী জেলা জাসাসের সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ হিটু বলেন, “রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছি, সেখানে ফ্যাসিস্টদের দোসররা, যারা জুলাই আন্দোলনের সময় আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম আক্রমণ চালিয়েছে, তারা আজ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি নির্দিষ্ট করে দাদশী ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার শেখের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও দেলোয়ার শেখ উপজেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় অংশ নিচ্ছেন। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যালয়ের অনেক গোপনীয় সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমে আসার আগেই এসব চিহ্নিত ব্যক্তিরা জেনে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি । ”
কাদের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে ও পুনর্বাসনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয়তাবাদী দলের ভেতর থেকেও কেউ কেউ তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত আপত্তিকর। পদ্মা পাড়ের জননন্দিত নেতা ও সংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী জনাব আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সাহেবের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি—দলের ভেতর থেকে যারা ফ্যাসিস্টদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে যেন অবিলম্বে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কথা স্মরণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক মীর মাহমুদ সুজন বলেন, “আমরা যখন গুলির মুখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেছি, তখন যারা আমাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করছে না। কিছু সংখ্যক গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আসছে, যা জুলাই যোদ্ধাদের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ফেলছে।”
আইনশৃঙ্খলা সভায় আসামির উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “একজন চিহ্নিত অপরাধী বা ফ্যাসিবাদের দোসর যখন প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকে, তখন প্রশাসনের গোপনীয় তথ্য বাইরে লিক হবে না—এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। এটি শুধু জুলাই যোদ্ধাদের জন্যই নয়, পুরো রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি। তা ছাড়া, কোনো ফ্যাসিবাদীদের দেওয়া ফুলের শুভেচ্ছা যখন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা গ্রহণ করেন, তখন পরোক্ষভাবে তাঁরাও ওই বলয়ের অংশ হয়ে যান কিনা, তা অনুধাবন করা জরুরি।”
আইনগত প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও ফলাফল না পাওয়ায় হতাশ প্রকাশ করে সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার বক্তব্য দিয়েছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই নতুন করে আর কিছু মন্তব্য করতে চাই না। এখন পুরোটাই আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর নির্ভর করছে।”
ঘটনার বাস্তবতায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে এই মামলার বাদী ও ছাত্রনেতা রাজীব মোল্লা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি ও অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার শেখের বিরুদ্ধে দাদশী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী কেরামত আলীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা-মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। আসামিদের প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক বলয়ে যাতায়াত বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন জুলাই যোদ্ধারা সহ রাজবাড়ীর সচেতন মহল।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়জুল রহমান বলেন, এটা আসলে সরকার কর্তৃক মিটিং এর নির্ধারিত ফরমেশন করা আছে, এটাও আমি দেখব এবং এদের বিরুদ্ধে কি ধরনের অভিযোগ ও কি ধরনের এজাহার পরবর্তীতে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জাবে ।
রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন
মুঠো ফোনে বলেন,বিষয়টি জেনে যাচাই-বাছাই করা হবে ।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















