ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গফরগাঁওয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে ৩ বছরের ২ শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রামে খ্রিস্টানদের প্রতারণা-হুমকির অভিযোগ, আলেমদের সহায়তায় ইসলামে ফিরলেন দেলু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্ম উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী সুনামগঞ্জে জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত তাহিরপুরে দোকানের গোডাউনের তালা ভেঙে ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরির মামলায় এক যুবক আটক ‎ সাব্বাস ট্রাফিক পুলিশ নবীপ্রেমে আদাবর ১০ নম্বর এলাকায় মিলাদ মাহফিল, আয়োজনে বশির মাইজভান্ডারী শিবপুরে তৃনমুল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়ার চিহ্নিত করন, ও বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত জমি জালিয়াতি, বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ; পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন কালিয়াকৈরে শিয়ালের কামড়ে নারী- শিশুসহ আহত ২০

জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী আর নেই

নিউজ ডেস্ক : জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী (৭৮) আর নেই।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতলে মারা যান। জামিলুর রেজা চৌধুরীর জামাতা অধ্যাপক জিয়া ওয়াদুদ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।

জামিলুর রেজা চৌধুরী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য।

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া ফ্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা বাচ্চু শেখ বলেন, ভোর রাতে স্যারকে সেহরি খাওয়ার জন্য ডাকা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি সাড়া দিচ্ছিলেন না। পরে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাদ জোহর ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

১৯৪৩ সালের ১৫ নভেম্বর সিলেটের প্রকৌশলী আবিদ রেজা চৌধুরী ও হায়াতুন নেছা চৌধুরীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জামিলুর রেজা চৌধুরী। পরিবারে তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয় ৷

বাবার বদলির চাকরির কারণে প্রাথমিক শেষ করে ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে ভর্তি হয়।এরপর ঢাকায় প্রথমে নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও পরে সেইন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল থেকে ১৯৫৭ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন।

১৯৫৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন তখনকার আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় )। ১৯৬৩ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে সেখানেই প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন।

এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৪ সালে যুক্তরাজ্য চলে যান জামিলুর রেজা। সেখানে সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডভান্স স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৬৮ সালে সেখানেই পিএইচডি শেষ করেন। দেশে এসে এরপর আবার বুয়েটে শিক্ষকতা শুরু করেন জামিলুর রেজা। ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বুয়েটে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এরপর ২০০১ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে ২০১০ সাল পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে ছিলেন তিনি। সবশেষ তিনি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য কর্মরত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু,পদ্মা সেতুসহ এ পর্যন্ত যতো মেগা প্রজেক্ট হয়েছে তার প্রায় সবগুলোর সঙ্গে তিনি কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন। তার হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল ‘বাংলাদেশের ইমারত বিধি’। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বঙ্গবন্ধু সেতুর ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান ছিলেন। এছাড়া চলমান পদ্মা সেতুর আন্তর্জাতিক পরামরর্শক প্যানেলেরও নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন তিনি।

অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদক সম্মাননা লাভ করেন। একুশে পদক পাওয়া গুণী এ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে ২০১৮ সালে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গফরগাঁওয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে ৩ বছরের ২ শিশুর মৃত্যু

জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী আর নেই

আপডেট টাইম : ০১:২১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

নিউজ ডেস্ক : জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী (৭৮) আর নেই।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতলে মারা যান। জামিলুর রেজা চৌধুরীর জামাতা অধ্যাপক জিয়া ওয়াদুদ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।

জামিলুর রেজা চৌধুরী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য।

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া ফ্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা বাচ্চু শেখ বলেন, ভোর রাতে স্যারকে সেহরি খাওয়ার জন্য ডাকা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি সাড়া দিচ্ছিলেন না। পরে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাদ জোহর ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

১৯৪৩ সালের ১৫ নভেম্বর সিলেটের প্রকৌশলী আবিদ রেজা চৌধুরী ও হায়াতুন নেছা চৌধুরীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জামিলুর রেজা চৌধুরী। পরিবারে তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয় ৷

বাবার বদলির চাকরির কারণে প্রাথমিক শেষ করে ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে ভর্তি হয়।এরপর ঢাকায় প্রথমে নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও পরে সেইন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল থেকে ১৯৫৭ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন।

১৯৫৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন তখনকার আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় )। ১৯৬৩ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে সেখানেই প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন।

এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৪ সালে যুক্তরাজ্য চলে যান জামিলুর রেজা। সেখানে সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডভান্স স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৬৮ সালে সেখানেই পিএইচডি শেষ করেন। দেশে এসে এরপর আবার বুয়েটে শিক্ষকতা শুরু করেন জামিলুর রেজা। ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বুয়েটে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এরপর ২০০১ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে ২০১০ সাল পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে ছিলেন তিনি। সবশেষ তিনি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য কর্মরত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু,পদ্মা সেতুসহ এ পর্যন্ত যতো মেগা প্রজেক্ট হয়েছে তার প্রায় সবগুলোর সঙ্গে তিনি কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন। তার হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল ‘বাংলাদেশের ইমারত বিধি’। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বঙ্গবন্ধু সেতুর ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান ছিলেন। এছাড়া চলমান পদ্মা সেতুর আন্তর্জাতিক পরামরর্শক প্যানেলেরও নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন তিনি।

অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদক সম্মাননা লাভ করেন। একুশে পদক পাওয়া গুণী এ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে ২০১৮ সালে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।


প্রিন্ট