ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ খোদ সভানেত্রীর সামনে

নিজস্ব প্রতিবেদক,
শ্রমিক লীগের কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে। দলের কার্যনিবাহী সংসদের বৈঠকে খোদ সভাপতি শেখ হাসিনার সামনেই এ অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য বিপুল ঘোষ। অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা ধমকান আব্দুর রহমানকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে অনুষ্ঠিত কার্যনিবাহী সংসদের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে বক্তব্য দেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শোনেন তিনি। এ সময় বিপুল ঘোষ এ কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মামলার আসামি নাসিরকে শ্রমিক লীগের ফরিদপুর জেলার সভাপতি ও বিএনপির শ্রমিক দলের শ্রম সম্পাদক ইমান আলীকে সাধারণ সম্পাদক করার সুপারিশ করেছিলেন আব্দুর রহমান। শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমন আলী এখনো বিএনপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক দল থেকে পদত্যাগ করেননি বলেও অভিযোগ করেন বিপুল ঘোষ। বলেন, আব্দুর রহমানের সুপারিশে শ্রমিক লীগে পদ পাওয়ার পর ইমান আলী এক একর দশ শতাংশ জায়গা জোর করে দখল করেছেন। পদ পেতে আব্দুর রহমানের নির্দেশে কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরুকে ৫ লাখ টাকা দেন নাসির ও ইমন আলী। এমনকি ফরিদপুর পৌর শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, যুগ্ম আহবায়ককে পাশ কাটিয়ে ওই কমিটি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিপুল ঘোষ।
বৃহস্পতিবার দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে শেষে এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহলে আব্দুর রহমানকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, দলের সভাপমিণ্ডলীর সদস্য হয়ে আব্দুর রহমান শ্রমিক লীগের কমিটি বাণিজ্যে যুক্ত থাকায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন শেখ হাসিনা। টাকা ছাড়া শ্রমিক লীগের কোনো কমিটি হয় না এটা যেমন সত্য, আব্দুর রহমান কমিটির বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত এটাও তেমন সত্য।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগের অপর একজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বলেন, দলের একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ ধরণের কমিটি বাণিজ্যে যুক্ত থাকা মোটেও কাম্য নয়। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা যদি কমিটির বাণিজ্যের যুক্ত থেকে বিএনপি-জামায়াতের লোককে পদপদবি দেন তাহলে দলের ক্ষতি করা ছাড়া আর কিছু নয়। এই নিয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, শ্রমিক লীগের কমিটি বাণিজ্যের কারণে নিয়মবহির্ভূতভাবে একই জায়গায় একাধিক কমিটি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে কমিটি দিয়েছিলেন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু। এজন্য শ্রমিক লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। শ্রমিক লীগের বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা ও কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে জড়িত বলেও নেতারা অভিযোগ তোলেন কার্যনির্বাহী কমিটির ওই বৈঠকে।
এর আগেও তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের কমিটি বাণিজ্যে করার অভিযোগ ওঠেছিল।
এছাড়া খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে নিজ এলাকা ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা) এলাকায় কমিটি ও মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও প্রবল। খোদ নিজের ইউনিয়ন মধুখালীর কামালদিয়া ইউনিয়নে সর্বশেষ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী বিপুল ভোটে পরাজিত হন।
সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, আব্দুর রহমান নিজের কেন্দ্রেও নৌকা জিততে পারেনি। বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯ টিতেই নৌকার প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। আলফাডাঙ্গায় ৬ টির মধ্যে ৩টিতে নৌকা পরাজিত হয়,পৌরসভায়ও আব্দুর রহমানের পছন্দের প্রার্থী জিততে পারেনি। আর মধুখালীর ৪টি ইউনিয়নেও হেরেছে নৌকার প্রার্থী। গোটা বিষয়টিকে আব্দুর রহমানের সাংগঠনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন দলের নীতিনির্ধারকেরা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ খোদ সভানেত্রীর সামনে

আপডেট টাইম : ০৮:৪৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,
শ্রমিক লীগের কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে। দলের কার্যনিবাহী সংসদের বৈঠকে খোদ সভাপতি শেখ হাসিনার সামনেই এ অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য বিপুল ঘোষ। অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা ধমকান আব্দুর রহমানকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে অনুষ্ঠিত কার্যনিবাহী সংসদের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে বক্তব্য দেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শোনেন তিনি। এ সময় বিপুল ঘোষ এ কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মামলার আসামি নাসিরকে শ্রমিক লীগের ফরিদপুর জেলার সভাপতি ও বিএনপির শ্রমিক দলের শ্রম সম্পাদক ইমান আলীকে সাধারণ সম্পাদক করার সুপারিশ করেছিলেন আব্দুর রহমান। শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমন আলী এখনো বিএনপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক দল থেকে পদত্যাগ করেননি বলেও অভিযোগ করেন বিপুল ঘোষ। বলেন, আব্দুর রহমানের সুপারিশে শ্রমিক লীগে পদ পাওয়ার পর ইমান আলী এক একর দশ শতাংশ জায়গা জোর করে দখল করেছেন। পদ পেতে আব্দুর রহমানের নির্দেশে কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরুকে ৫ লাখ টাকা দেন নাসির ও ইমন আলী। এমনকি ফরিদপুর পৌর শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, যুগ্ম আহবায়ককে পাশ কাটিয়ে ওই কমিটি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিপুল ঘোষ।
বৃহস্পতিবার দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে শেষে এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহলে আব্দুর রহমানকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, দলের সভাপমিণ্ডলীর সদস্য হয়ে আব্দুর রহমান শ্রমিক লীগের কমিটি বাণিজ্যে যুক্ত থাকায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন শেখ হাসিনা। টাকা ছাড়া শ্রমিক লীগের কোনো কমিটি হয় না এটা যেমন সত্য, আব্দুর রহমান কমিটির বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত এটাও তেমন সত্য।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগের অপর একজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বলেন, দলের একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ ধরণের কমিটি বাণিজ্যে যুক্ত থাকা মোটেও কাম্য নয়। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা যদি কমিটির বাণিজ্যের যুক্ত থেকে বিএনপি-জামায়াতের লোককে পদপদবি দেন তাহলে দলের ক্ষতি করা ছাড়া আর কিছু নয়। এই নিয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, শ্রমিক লীগের কমিটি বাণিজ্যের কারণে নিয়মবহির্ভূতভাবে একই জায়গায় একাধিক কমিটি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে কমিটি দিয়েছিলেন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু। এজন্য শ্রমিক লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। শ্রমিক লীগের বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা ও কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে জড়িত বলেও নেতারা অভিযোগ তোলেন কার্যনির্বাহী কমিটির ওই বৈঠকে।
এর আগেও তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের কমিটি বাণিজ্যে করার অভিযোগ ওঠেছিল।
এছাড়া খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে নিজ এলাকা ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা) এলাকায় কমিটি ও মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও প্রবল। খোদ নিজের ইউনিয়ন মধুখালীর কামালদিয়া ইউনিয়নে সর্বশেষ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী বিপুল ভোটে পরাজিত হন।
সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, আব্দুর রহমান নিজের কেন্দ্রেও নৌকা জিততে পারেনি। বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯ টিতেই নৌকার প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। আলফাডাঙ্গায় ৬ টির মধ্যে ৩টিতে নৌকা পরাজিত হয়,পৌরসভায়ও আব্দুর রহমানের পছন্দের প্রার্থী জিততে পারেনি। আর মধুখালীর ৪টি ইউনিয়নেও হেরেছে নৌকার প্রার্থী। গোটা বিষয়টিকে আব্দুর রহমানের সাংগঠনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন দলের নীতিনির্ধারকেরা।


প্রিন্ট