ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

কাপড় ধুতে বলায় স্ত্রীকে হত্যা, যে সাজা পেল পাষণ্ড স্বামী

কুমিল্লায় কাপড় ধুয়ে দিতে বলায় খালেদা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মোজাম্মেল হোসেন রাজুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক রোজিনা খান। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. মোজাম্মেল হোসেন রাজু কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শাটিষক গ্রামের নুরুন্নবী প্রকাশ নুর আলমের ছেলে। নিহত খালেদা আক্তার কুমিল্লা নাঙ্গলকোট উপজেলার পূর্ব দৈয়ারার মো. মোবারক হোসেনের মেয়ে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রেম করে খালেদা আক্তারকে বিয়ে করেন মোজাম্মেল হোসেন রাজু। তাদের দাম্পত্যজীবনে মিম নামে তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান ছিল। বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল বেকার থাকায় খালেদা তার শিশুসন্তান মিমকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর মোজাম্মেল তার শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসেন। রাতে স্বামী-স্ত্রী ও শিশুসন্তান ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে স্বামী মোজাম্মেলকে কাপড় ধুতে বলেন খালেদা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে খালেদার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মোজাম্মেল। পরে মরদেহ পুকুরঘাটের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় মোজাম্মেল হোসেন রাজুকে আসামি করে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা মো. মোবারক হোসেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। আদালতে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় জড়িত একমাত্র আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আশা করছি, উচ্চ আদালত এ রায় বহাল রাখবেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

কাপড় ধুতে বলায় স্ত্রীকে হত্যা, যে সাজা পেল পাষণ্ড স্বামী

আপডেট টাইম : ০৩:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

কুমিল্লায় কাপড় ধুয়ে দিতে বলায় খালেদা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মোজাম্মেল হোসেন রাজুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক রোজিনা খান। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. মোজাম্মেল হোসেন রাজু কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শাটিষক গ্রামের নুরুন্নবী প্রকাশ নুর আলমের ছেলে। নিহত খালেদা আক্তার কুমিল্লা নাঙ্গলকোট উপজেলার পূর্ব দৈয়ারার মো. মোবারক হোসেনের মেয়ে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রেম করে খালেদা আক্তারকে বিয়ে করেন মোজাম্মেল হোসেন রাজু। তাদের দাম্পত্যজীবনে মিম নামে তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান ছিল। বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল বেকার থাকায় খালেদা তার শিশুসন্তান মিমকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর মোজাম্মেল তার শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসেন। রাতে স্বামী-স্ত্রী ও শিশুসন্তান ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে স্বামী মোজাম্মেলকে কাপড় ধুতে বলেন খালেদা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে খালেদার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মোজাম্মেল। পরে মরদেহ পুকুরঘাটের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় মোজাম্মেল হোসেন রাজুকে আসামি করে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা মো. মোবারক হোসেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। আদালতে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় জড়িত একমাত্র আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আশা করছি, উচ্চ আদালত এ রায় বহাল রাখবেন।


প্রিন্ট