ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

জম্মু-কাশ্মীরে ১১ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসে রিয়াসি ও রামবান জেলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রিয়াসির মাহোর এলাকার বাদার গ্রামে একই পরিবারের ৭ জন রয়েছেন।

রাতের বৃষ্টিতে নাজির আহমেদের বাড়ি ধসে পড়লে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার স্ত্রী ও ৫ সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে রামবান এবং রিয়াসি জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের ফলে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার থেকে ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরে শুরু হয় প্রবল বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে গেছে সেতু এবং তলিয়ে গেছে বাড়িঘর। কর্মকর্তারা জানান, পাঁচ বছর বয়সী শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। গত বুধবার ভূমিধসের ফলে জম্মুর ঐতিহাসিক বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের যাত্রাপথে ৪১ জন মারা যান।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। বুধবার জম্মু এবং উদমপুরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জম্মুতে ২৯৬ মিলিমিটার (১১.৬ ইঞ্চি) বৃষ্টি হয়েছে, যা ১৯৭৩ সালের রেকর্ডের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি। উদমপুরে ৬২৯.৪ মিলিমিটার (২৪.৮ ইঞ্চি) বৃষ্টি হয়েছে, যা ২০১৯ সালের রেকর্ডের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

বন্যা এবং ভূমিধস সাধারণত জুন-সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষা মৌসুমে ঘটে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অযত্নে উন্নয়ন পরিকল্পনার কারণে এসব দুর্যোগ বার বার হচ্ছে এবং তীব্রতাও বেড়ে গেছে। আগস্ট ১৪ তারিখে ভারতের কাশ্মীরের চিসোটি গ্রামে প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট স্রোত কমপক্ষে ৬৫ জনের প্রাণ কেড়েছে এবং আরো ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। আগস্ট ৫ তারিখে ভারতীয় উত্তারখণ্ডের ধারালি শহরে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে বৃষ্টির কারণে শহরটি মাটির তলদেশে চাপা পড়ে। ওই ঘটনায় মৃত্যু সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়ে যেতে পারে, তবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি এখনো।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

জম্মু-কাশ্মীরে ১১ জনের মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৮:০১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসে রিয়াসি ও রামবান জেলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রিয়াসির মাহোর এলাকার বাদার গ্রামে একই পরিবারের ৭ জন রয়েছেন।

রাতের বৃষ্টিতে নাজির আহমেদের বাড়ি ধসে পড়লে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার স্ত্রী ও ৫ সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে রামবান এবং রিয়াসি জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের ফলে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার থেকে ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরে শুরু হয় প্রবল বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে গেছে সেতু এবং তলিয়ে গেছে বাড়িঘর। কর্মকর্তারা জানান, পাঁচ বছর বয়সী শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। গত বুধবার ভূমিধসের ফলে জম্মুর ঐতিহাসিক বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের যাত্রাপথে ৪১ জন মারা যান।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। বুধবার জম্মু এবং উদমপুরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জম্মুতে ২৯৬ মিলিমিটার (১১.৬ ইঞ্চি) বৃষ্টি হয়েছে, যা ১৯৭৩ সালের রেকর্ডের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি। উদমপুরে ৬২৯.৪ মিলিমিটার (২৪.৮ ইঞ্চি) বৃষ্টি হয়েছে, যা ২০১৯ সালের রেকর্ডের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

বন্যা এবং ভূমিধস সাধারণত জুন-সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষা মৌসুমে ঘটে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অযত্নে উন্নয়ন পরিকল্পনার কারণে এসব দুর্যোগ বার বার হচ্ছে এবং তীব্রতাও বেড়ে গেছে। আগস্ট ১৪ তারিখে ভারতের কাশ্মীরের চিসোটি গ্রামে প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট স্রোত কমপক্ষে ৬৫ জনের প্রাণ কেড়েছে এবং আরো ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। আগস্ট ৫ তারিখে ভারতীয় উত্তারখণ্ডের ধারালি শহরে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে বৃষ্টির কারণে শহরটি মাটির তলদেশে চাপা পড়ে। ওই ঘটনায় মৃত্যু সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়ে যেতে পারে, তবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি এখনো।


প্রিন্ট