ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনিকে গলা কেটে হত্যা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় আজ ঘোষিত হচ্ছে না। অনিবার্য কারণে রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪- এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। তবে অনিবার্য কারণে রায় ঘোষণা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের চার মাসের মাথায় মামলাটির রায় হতে যাচ্ছে। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১০ কার্যদিবসে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছায়।

মামলার একমাত্র আসামি ৪৫ বছর বয়সী বাবু শেখ গত ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। এর আগে ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

নিহত ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটমচালক। ইরা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ড ইকো-পার্ক এলাকায় ধর্ষণচেষ্টার পর শিশু ইরাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকায়। তিনি সীতাকুণ্ডে ইরা মনিদের পরিবারের পাশের ঘরে ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ইরাকে ফুসলিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাবু শেখ ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে সেখান থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান।

সেদিন দুপুরে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা পাহাড়ে গলা কাটা অবস্থায় ইরা মনিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছেছিল। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ স্বীকার করেন, পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ইরা বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তিনি ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ইরা মনির মায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ২১ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে অনিয়মের অভিযোগে দুই হাসপাতালকে জরিমানা

ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা

আপডেট টাইম : ০৩:৪০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনিকে গলা কেটে হত্যা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় আজ ঘোষিত হচ্ছে না। অনিবার্য কারণে রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪- এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। তবে অনিবার্য কারণে রায় ঘোষণা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের চার মাসের মাথায় মামলাটির রায় হতে যাচ্ছে। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১০ কার্যদিবসে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছায়।

মামলার একমাত্র আসামি ৪৫ বছর বয়সী বাবু শেখ গত ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। এর আগে ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

নিহত ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটমচালক। ইরা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ড ইকো-পার্ক এলাকায় ধর্ষণচেষ্টার পর শিশু ইরাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকায়। তিনি সীতাকুণ্ডে ইরা মনিদের পরিবারের পাশের ঘরে ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ইরাকে ফুসলিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাবু শেখ ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে সেখান থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান।

সেদিন দুপুরে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা পাহাড়ে গলা কাটা অবস্থায় ইরা মনিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছেছিল। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ স্বীকার করেন, পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ইরা বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তিনি ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ইরা মনির মায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ২১ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।


প্রিন্ট