ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ২০২৬-২০২৮ সাধারণ গ্রুপের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে তালম ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিডি ও তরুণীর অনশন উন্মোচিত চার ভাইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য নরসিংদী তে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট জনগণের ভালোবাসায় মির্জা ফখরুল: নীতি, আদর্শ ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ সংসদ কক্ষে নিজের আসনে বসে ভোট গ্রহণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর আপনারা যেমন তার যত্ন করেন ঠিক সেইভাবে শিশু চারাটিকেও প্রতিদিন যত্ন করতে হবে-ইউএনও, এটিএম কামরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রত্যাশা সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের

‎সাংবাদিক সালিম সামাদ আর নেই, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের প্রিয় মানুষ ‎

এস চাঙমা সত্যজিৎ, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ

‎বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার ব্যক্তিত্ব সালিম সামাদ আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

‎সালিম সামাদ ছিলেন একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পেশাদার লেখক, গবেষক, পরিবেশবাদী এবং মানবাধিকার কর্মী। তাঁর লেখা বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ ম্যাগাজিন, ভারতের ‘ইন্ডিয়া টুডে’ ও ‘আউটলুক’ এবং পাকিস্তানের ‘সাউথ এশিয়া’ ম্যাগাজিনসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাঁর পেশার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পরিবেশ ও উন্নয়ন সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেন।

‎পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অধিকারের বিষয়েও তিনি সোচ্চার ছিলেন। ১৯৯০ দশকে ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান শাহজাহান ও আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ জাতীয় কমিটি’ নামক প্রগতিশীল ও উদারমনা বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের একটি নাগরিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে তিনি পাহাড়ী জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

‎১৯৯৩ সালে লোগাং গণহত্যার প্রথম বার্ষিকীতে তৎকালীন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও গণ পরিষদের আমন্ত্রণে অন্য অনেকের সাথে সাংবাদিক সালিম সামাদও খাগড়াছড়ির লোগাং পোড়াভিটা দেখতে গিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ বান্দরবান শহরে সাম্প্রদায়িক হামলার পর ঢাকা থেকে সাংবাদিক, লেখক, মানবাধিকার কর্মী ও ছাত্র-রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের যে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিল, তার মধ্যে ছিলেন তিনিও একজন।

‎সালিম সামাদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভায়ও অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনিই বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সাংবাদিক যিনি ১৯৮০ সালে শান্তিবাহিনীর গোপন আস্তানায় গিয়ে গেরিলাদের সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি রাঙামাটির নানিয়ারচরের হয়ে খাগড়াছড়ির কমলছড়ি বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিক সালিম সামাদ খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে যান। এরপর তিনি সাপ্তাহিক রোববার ম্যাগাজিনে তাঁর সেই গোপন শান্তিবাহিনী গেরিলাদের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ঝড় তুলেছিলেন।

‎তিনি ১৯৮০ দশকে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ডিজিএফআই কর্তৃক একবার গুমের শিকার হয়েছিলেন। শারীরিক নির্যাতনের পর তাঁকে রাঙামাটির কাপ্তাই সড়কে চোখ বাঁধা অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০০২ সালে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হন।

সাংবাদিক‎সালিম সামাদ সব সময়ই হাসিখুশী, প্রাণবন্ত ও বন্ধুবৎসল ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ তাঁকে আজীবন একজন বন্ধু হিসেবে মনে রাখবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক

‎সাংবাদিক সালিম সামাদ আর নেই, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের প্রিয় মানুষ ‎

আপডেট টাইম : ১১:১৬:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এস চাঙমা সত্যজিৎ, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ

‎বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার ব্যক্তিত্ব সালিম সামাদ আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

‎সালিম সামাদ ছিলেন একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পেশাদার লেখক, গবেষক, পরিবেশবাদী এবং মানবাধিকার কর্মী। তাঁর লেখা বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ ম্যাগাজিন, ভারতের ‘ইন্ডিয়া টুডে’ ও ‘আউটলুক’ এবং পাকিস্তানের ‘সাউথ এশিয়া’ ম্যাগাজিনসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাঁর পেশার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পরিবেশ ও উন্নয়ন সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেন।

‎পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অধিকারের বিষয়েও তিনি সোচ্চার ছিলেন। ১৯৯০ দশকে ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান শাহজাহান ও আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ জাতীয় কমিটি’ নামক প্রগতিশীল ও উদারমনা বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের একটি নাগরিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে তিনি পাহাড়ী জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

‎১৯৯৩ সালে লোগাং গণহত্যার প্রথম বার্ষিকীতে তৎকালীন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও গণ পরিষদের আমন্ত্রণে অন্য অনেকের সাথে সাংবাদিক সালিম সামাদও খাগড়াছড়ির লোগাং পোড়াভিটা দেখতে গিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ বান্দরবান শহরে সাম্প্রদায়িক হামলার পর ঢাকা থেকে সাংবাদিক, লেখক, মানবাধিকার কর্মী ও ছাত্র-রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের যে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিল, তার মধ্যে ছিলেন তিনিও একজন।

‎সালিম সামাদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভায়ও অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনিই বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সাংবাদিক যিনি ১৯৮০ সালে শান্তিবাহিনীর গোপন আস্তানায় গিয়ে গেরিলাদের সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি রাঙামাটির নানিয়ারচরের হয়ে খাগড়াছড়ির কমলছড়ি বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিক সালিম সামাদ খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে যান। এরপর তিনি সাপ্তাহিক রোববার ম্যাগাজিনে তাঁর সেই গোপন শান্তিবাহিনী গেরিলাদের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ঝড় তুলেছিলেন।

‎তিনি ১৯৮০ দশকে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ডিজিএফআই কর্তৃক একবার গুমের শিকার হয়েছিলেন। শারীরিক নির্যাতনের পর তাঁকে রাঙামাটির কাপ্তাই সড়কে চোখ বাঁধা অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০০২ সালে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হন।

সাংবাদিক‎সালিম সামাদ সব সময়ই হাসিখুশী, প্রাণবন্ত ও বন্ধুবৎসল ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ তাঁকে আজীবন একজন বন্ধু হিসেবে মনে রাখবে।


প্রিন্ট