ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

‎সাংবাদিক সালিম সামাদ আর নেই, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের প্রিয় মানুষ ‎

এস চাঙমা সত্যজিৎ, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ

‎বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার ব্যক্তিত্ব সালিম সামাদ আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

‎সালিম সামাদ ছিলেন একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পেশাদার লেখক, গবেষক, পরিবেশবাদী এবং মানবাধিকার কর্মী। তাঁর লেখা বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ ম্যাগাজিন, ভারতের ‘ইন্ডিয়া টুডে’ ও ‘আউটলুক’ এবং পাকিস্তানের ‘সাউথ এশিয়া’ ম্যাগাজিনসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাঁর পেশার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পরিবেশ ও উন্নয়ন সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেন।

‎পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অধিকারের বিষয়েও তিনি সোচ্চার ছিলেন। ১৯৯০ দশকে ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান শাহজাহান ও আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ জাতীয় কমিটি’ নামক প্রগতিশীল ও উদারমনা বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের একটি নাগরিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে তিনি পাহাড়ী জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

‎১৯৯৩ সালে লোগাং গণহত্যার প্রথম বার্ষিকীতে তৎকালীন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও গণ পরিষদের আমন্ত্রণে অন্য অনেকের সাথে সাংবাদিক সালিম সামাদও খাগড়াছড়ির লোগাং পোড়াভিটা দেখতে গিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ বান্দরবান শহরে সাম্প্রদায়িক হামলার পর ঢাকা থেকে সাংবাদিক, লেখক, মানবাধিকার কর্মী ও ছাত্র-রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের যে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিল, তার মধ্যে ছিলেন তিনিও একজন।

‎সালিম সামাদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভায়ও অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনিই বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সাংবাদিক যিনি ১৯৮০ সালে শান্তিবাহিনীর গোপন আস্তানায় গিয়ে গেরিলাদের সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি রাঙামাটির নানিয়ারচরের হয়ে খাগড়াছড়ির কমলছড়ি বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিক সালিম সামাদ খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে যান। এরপর তিনি সাপ্তাহিক রোববার ম্যাগাজিনে তাঁর সেই গোপন শান্তিবাহিনী গেরিলাদের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ঝড় তুলেছিলেন।

‎তিনি ১৯৮০ দশকে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ডিজিএফআই কর্তৃক একবার গুমের শিকার হয়েছিলেন। শারীরিক নির্যাতনের পর তাঁকে রাঙামাটির কাপ্তাই সড়কে চোখ বাঁধা অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০০২ সালে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হন।

সাংবাদিক‎সালিম সামাদ সব সময়ই হাসিখুশী, প্রাণবন্ত ও বন্ধুবৎসল ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ তাঁকে আজীবন একজন বন্ধু হিসেবে মনে রাখবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ

‎সাংবাদিক সালিম সামাদ আর নেই, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের প্রিয় মানুষ ‎

আপডেট টাইম : ১১:১৬:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এস চাঙমা সত্যজিৎ, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ

‎বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার ব্যক্তিত্ব সালিম সামাদ আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

‎সালিম সামাদ ছিলেন একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পেশাদার লেখক, গবেষক, পরিবেশবাদী এবং মানবাধিকার কর্মী। তাঁর লেখা বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ ম্যাগাজিন, ভারতের ‘ইন্ডিয়া টুডে’ ও ‘আউটলুক’ এবং পাকিস্তানের ‘সাউথ এশিয়া’ ম্যাগাজিনসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাঁর পেশার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পরিবেশ ও উন্নয়ন সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেন।

‎পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অধিকারের বিষয়েও তিনি সোচ্চার ছিলেন। ১৯৯০ দশকে ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান শাহজাহান ও আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ জাতীয় কমিটি’ নামক প্রগতিশীল ও উদারমনা বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের একটি নাগরিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে তিনি পাহাড়ী জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

‎১৯৯৩ সালে লোগাং গণহত্যার প্রথম বার্ষিকীতে তৎকালীন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও গণ পরিষদের আমন্ত্রণে অন্য অনেকের সাথে সাংবাদিক সালিম সামাদও খাগড়াছড়ির লোগাং পোড়াভিটা দেখতে গিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ বান্দরবান শহরে সাম্প্রদায়িক হামলার পর ঢাকা থেকে সাংবাদিক, লেখক, মানবাধিকার কর্মী ও ছাত্র-রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের যে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিল, তার মধ্যে ছিলেন তিনিও একজন।

‎সালিম সামাদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভায়ও অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনিই বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সাংবাদিক যিনি ১৯৮০ সালে শান্তিবাহিনীর গোপন আস্তানায় গিয়ে গেরিলাদের সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি রাঙামাটির নানিয়ারচরের হয়ে খাগড়াছড়ির কমলছড়ি বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিক সালিম সামাদ খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে যান। এরপর তিনি সাপ্তাহিক রোববার ম্যাগাজিনে তাঁর সেই গোপন শান্তিবাহিনী গেরিলাদের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ঝড় তুলেছিলেন।

‎তিনি ১৯৮০ দশকে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ডিজিএফআই কর্তৃক একবার গুমের শিকার হয়েছিলেন। শারীরিক নির্যাতনের পর তাঁকে রাঙামাটির কাপ্তাই সড়কে চোখ বাঁধা অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০০২ সালে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হন।

সাংবাদিক‎সালিম সামাদ সব সময়ই হাসিখুশী, প্রাণবন্ত ও বন্ধুবৎসল ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ তাঁকে আজীবন একজন বন্ধু হিসেবে মনে রাখবে।


প্রিন্ট