ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম পটুয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার

শেষবারের মতো আপন ঠিকানায় ফিরছেন বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে হাসিমুখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশ ছেড়েছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বাবা-মায়ের চোখজুড়ে ছিল গর্ব, পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে মেয়েটি একদিন অনেক সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরবেন। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় সেই একই বিমানবন্দরেই এবার ফিরল বৃষ্টির নিথর দেহ। যে মেয়েকে একদিন জীবনের নতুন অধ্যায়ে পাঠানো হয়েছিল স্বপ্ন নিয়ে, আজ তাকে কফিনবন্দি অবস্থায় গ্রহণ করতে হলো পরিবারকে।

শনিবার (৯ মে) যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বিশেষায়িত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে মাদারীপুরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহবাহী গাড়িটি গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেয়।

এ সময় বৃষ্টির বাবা, মা, ভাই, মামা, নানা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কফিন গ্রহণের পর স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ কেউ কফিন ছুঁয়ে শেষবারের মতো বৃষ্টিকে বিদায় জানান। এ সময় মায়ের আহাজারি থামছিল না। বারবার তিনি কাঁদতে কাঁদতে মেয়ের নাম ধরে ডাকছিলেন।

এর আগে, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ঘটনায় মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ সরাসরি মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে বাদ আসর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে–০২২০ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে এমিরেটসের ইকে–০৫৮২ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। মরদেহ বিমানে তোলার সময় অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

শেষবারের মতো আপন ঠিকানায় ফিরছেন বৃষ্টি

আপডেট টাইম : ০২:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে হাসিমুখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশ ছেড়েছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বাবা-মায়ের চোখজুড়ে ছিল গর্ব, পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে মেয়েটি একদিন অনেক সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরবেন। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় সেই একই বিমানবন্দরেই এবার ফিরল বৃষ্টির নিথর দেহ। যে মেয়েকে একদিন জীবনের নতুন অধ্যায়ে পাঠানো হয়েছিল স্বপ্ন নিয়ে, আজ তাকে কফিনবন্দি অবস্থায় গ্রহণ করতে হলো পরিবারকে।

শনিবার (৯ মে) যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বিশেষায়িত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে মাদারীপুরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহবাহী গাড়িটি গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেয়।

এ সময় বৃষ্টির বাবা, মা, ভাই, মামা, নানা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কফিন গ্রহণের পর স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ কেউ কফিন ছুঁয়ে শেষবারের মতো বৃষ্টিকে বিদায় জানান। এ সময় মায়ের আহাজারি থামছিল না। বারবার তিনি কাঁদতে কাঁদতে মেয়ের নাম ধরে ডাকছিলেন।

এর আগে, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ঘটনায় মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ সরাসরি মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে বাদ আসর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে–০২২০ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে এমিরেটসের ইকে–০৫৮২ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। মরদেহ বিমানে তোলার সময় অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট