জেলায় পৃথক দু’টি স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়।
সোমবার সকাল ১০টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাসস’কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নেত্রকোণা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি রেইডিং টিম তার নেতৃত্বে গতকাল সকালে প্রথম অভিযানটি পরিচালনা করে নেত্রকোণা সদর থানাধীন মদনপুর ইউনিয়নের ইটাখলা বাজারস্থ রকি সেন্টার নামক সিমেন্ট দোকানের পূর্ব পাশে পাকা রাস্তার ওপর। সেখান থেকে আসামি শফিকুল ইসলামের পরিহিত এক্সপার্ট নামক বার্মিজ স্যান্ডেলের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১৪শ’ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আটক শফিকুল ইসলামের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোণা পৌরসভার বনুয়াপাড়া এলাকাস্থ অপর আসামি সুজ্জল মিয়ার ভাড়া বাড়িতে দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। সেখানে সুজ্জল মিয়ার ব্যবহৃত খাটের তোষকের নিচ থেকে আরও ৬শ’ পিস ইয়াবাসহ সুজ্জলকে আটক করা হয়।
আটক আসামিরা হলেন- নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা থানাধীন চিরাম ইউনিয়নের নৈহাটি (আতকাপাড়া) গ্রামের মৃত হাছেন আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (২২) এবং একই ইউনিয়নের বন্দের বাড়ী গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে সুজ্জল মিয়া (৩০)।
আটকরা সম্পর্কে পরস্পর শালা-দুলাভাই।
অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে সর্বমোট ২ হাজার পিস কমলা বর্ণের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। যার মোট ওজন ২শ’ গ্রাম এবং বাজার মূল্য ৮ লক্ষ টাকা। এছাড়া মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ ৬৬ হাজার টাকা যার মধ্যে ১ হাজার টাকার নোট ৪০টি, ৫শ’ টাকার নোট ৫০টি ও ২শ’ টাকার নোট ৫টি এবং মাদক কারবারে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোনসেট জব্দ করা হয়। জব্দ মোবাইলগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি ১৫ হাজার টাকা মূল্যের এবং অপরটি ২৮ হাজার টাকা মূল্যের।
মাদক বহনে ব্যবহৃত ৩শ’ টাকা মূল্যের স্যান্ডেলসহ নগদ অর্থ ব্যতীত উদ্ধারকৃত আলামতের মোট বাজার মূল্য ৮ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮শ’ টাকা।
সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক আরো জানান, আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আল আমিন বাদী হয়ে নেত্রকোণা সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মাদকের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা সোচ্চার এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। মাদকমুক্ত সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গড়তে ‘মাদক কে না বলি, সুন্দর জীবন গড়ি’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















