ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার স্বপ্ন বাণিজ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সম্ভাবনাময় কয়েকটি শিল্প খাতকে পরিকল্পিতভাবে বিকশিত করতে পারলে বর্তমান ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয় আগামীতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি খাতে কার্যকর নীতিসহায়তা দেওয়া সম্ভব হলে দেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করা যাবে। তিনি জানান, চামড়া ও পাটখাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সভায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এতে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলো চিহ্নিত করে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জাতিসংঘে করা আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের জন্য আরও তিন বছর সময় পেতে পারে। তবে এই অতিরিক্ত সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানো না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেলেও বাজারে বাংলাদেশের উচ্চ হিস্যার কারণে শুল্ক সুবিধা সীমিত হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্যও প্রতিযোগিতামূলক চাপে পড়তে পারে।

এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতে ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের বাজারে রপ্তানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।

র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, বর্তমানে কৃষি ও উৎপাদন খাত মিলিয়ে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করে এমন পণ্যের সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৪। এসব খাতের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি বিদ্যমান রপ্তানি প্রণোদনার বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে পাটশিল্প উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে না হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে। তাই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার স্বপ্ন বাণিজ্যমন্ত্রীর

আপডেট টাইম : ০৬:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সম্ভাবনাময় কয়েকটি শিল্প খাতকে পরিকল্পিতভাবে বিকশিত করতে পারলে বর্তমান ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয় আগামীতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি খাতে কার্যকর নীতিসহায়তা দেওয়া সম্ভব হলে দেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করা যাবে। তিনি জানান, চামড়া ও পাটখাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সভায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এতে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলো চিহ্নিত করে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জাতিসংঘে করা আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের জন্য আরও তিন বছর সময় পেতে পারে। তবে এই অতিরিক্ত সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানো না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেলেও বাজারে বাংলাদেশের উচ্চ হিস্যার কারণে শুল্ক সুবিধা সীমিত হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্যও প্রতিযোগিতামূলক চাপে পড়তে পারে।

এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতে ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের বাজারে রপ্তানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।

র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, বর্তমানে কৃষি ও উৎপাদন খাত মিলিয়ে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করে এমন পণ্যের সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৪। এসব খাতের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি বিদ্যমান রপ্তানি প্রণোদনার বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে পাটশিল্প উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে না হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে। তাই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।


প্রিন্ট