ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর ব্ল্যাক কফি কী সত্যিই ওজন কমাতে পারে? ঝগড়ার পরে সম্পর্ক ঠিক করতে কী করবেন?

ভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কবি-সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : ডোরহীন বাঁধন

ডোরহীন বাঁধনঃ-মাধুরী ব্যানার্জীঃ শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিনই দেখা হতো বৃদ্ধা কমলাদেবী আর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে তিথির। বাসস্ট্যান্ডের এক কোণে বসে কমলাদেবী ফুল বিক্রি করতেন। তিথি প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে তাঁর কাছ থেকে একটি করে জুঁইফুল কিনত।

একদিন কমলাদেবী বললেন, — “মা, তুই তো প্রতিদিন ফুল কিনিস, কিন্তু নিজের জন্য নয় কেন?”তিথি হেসে উত্তর দিল, — “মা নেই। বাবার ছবির সামনে রেখে যাই। মনে হয় উনিও গন্ধটা পান।”সেদিন থেকে কমলাদেবীর চোখে তিথি আর সাধারণ ক্রেতা রইল না। প্রতিদিন সে ফুলের সঙ্গে একটি বাড়তি ফুল গুঁজে দিত। তিথিও মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে টিফিনের লুচি কিংবা নাড়ু এনে দিত।কোনো রক্তের সম্পর্ক ছিল না, কোনো আত্মীয়তার পরিচয়ও নয়। তবু দুজনের অপেক্ষা যেন প্রতিদিন একে অপরকে ঘিরেই থাকত।

একদিন টানা তিন দিন তিথি এল না। কমলাদেবী অস্থির হয়ে উঠলেন। চতুর্থ দিনে জানতে পারলেন, তিথি ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি।নিজের সামান্য সঞ্চয় থেকে কিছু টাকা নিয়ে তিনি হাসপাতালে পৌঁছালেন। তিথির বাবা বিস্ময়ে বললেন, — “আপনি?”কমলাদেবী শুধু মৃদু হেসে বললেন, — “আমি ওর কেউ নই… তবু মনে হলো, না এলে মনটা শান্তি পাবে না।”সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর তিথি দৌড়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরল। কমলাদেবীর কাঁপা হাত আশীর্বাদের মতো নেমে এল তার মাথায়।

সেদিন বাসস্ট্যান্ডে কেউ বুঝতে পারেনি— সম্পর্কের জন্য সব সময় রক্তের দরকার হয় না। কিছু বন্ধন জন্ম নেয় মমতায়, বিশ্বাসে আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়। সেই বন্ধনের কোনো সুতো থাকে না, কোনো নাম থাকে না; তবু সেটাই হয় সবচেয়ে শক্ত, সবচেয়ে স্থায়ী।ডোরহীন বাঁধন— এভাবেই মানুষের হৃদয়কে অদৃশ্য এক সেতুতে চিরকাল বেঁধে রাখে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’

ভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কবি-সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : ডোরহীন বাঁধন

আপডেট টাইম : ০৪:২১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ডোরহীন বাঁধনঃ-মাধুরী ব্যানার্জীঃ শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিনই দেখা হতো বৃদ্ধা কমলাদেবী আর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে তিথির। বাসস্ট্যান্ডের এক কোণে বসে কমলাদেবী ফুল বিক্রি করতেন। তিথি প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে তাঁর কাছ থেকে একটি করে জুঁইফুল কিনত।

একদিন কমলাদেবী বললেন, — “মা, তুই তো প্রতিদিন ফুল কিনিস, কিন্তু নিজের জন্য নয় কেন?”তিথি হেসে উত্তর দিল, — “মা নেই। বাবার ছবির সামনে রেখে যাই। মনে হয় উনিও গন্ধটা পান।”সেদিন থেকে কমলাদেবীর চোখে তিথি আর সাধারণ ক্রেতা রইল না। প্রতিদিন সে ফুলের সঙ্গে একটি বাড়তি ফুল গুঁজে দিত। তিথিও মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে টিফিনের লুচি কিংবা নাড়ু এনে দিত।কোনো রক্তের সম্পর্ক ছিল না, কোনো আত্মীয়তার পরিচয়ও নয়। তবু দুজনের অপেক্ষা যেন প্রতিদিন একে অপরকে ঘিরেই থাকত।

একদিন টানা তিন দিন তিথি এল না। কমলাদেবী অস্থির হয়ে উঠলেন। চতুর্থ দিনে জানতে পারলেন, তিথি ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি।নিজের সামান্য সঞ্চয় থেকে কিছু টাকা নিয়ে তিনি হাসপাতালে পৌঁছালেন। তিথির বাবা বিস্ময়ে বললেন, — “আপনি?”কমলাদেবী শুধু মৃদু হেসে বললেন, — “আমি ওর কেউ নই… তবু মনে হলো, না এলে মনটা শান্তি পাবে না।”সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর তিথি দৌড়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরল। কমলাদেবীর কাঁপা হাত আশীর্বাদের মতো নেমে এল তার মাথায়।

সেদিন বাসস্ট্যান্ডে কেউ বুঝতে পারেনি— সম্পর্কের জন্য সব সময় রক্তের দরকার হয় না। কিছু বন্ধন জন্ম নেয় মমতায়, বিশ্বাসে আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়। সেই বন্ধনের কোনো সুতো থাকে না, কোনো নাম থাকে না; তবু সেটাই হয় সবচেয়ে শক্ত, সবচেয়ে স্থায়ী।ডোরহীন বাঁধন— এভাবেই মানুষের হৃদয়কে অদৃশ্য এক সেতুতে চিরকাল বেঁধে রাখে।


প্রিন্ট