ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বর্ষায় পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো করা যাবে না বিনিয়োগকারীর সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সিএমএসএফ, আসছে নতুন আইন ‘জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না’: রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ নেত্রকোণায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ হিলির অসমাপ্ত উন্নয়নমুলক কাজগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে-সমাজকল্যানমন্ত্রী,- ডা. এজেডএম জাহিদ শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী বিদেশ ভ্রমণ প্যাকেজের মূল্য দেওয়া যাবে বাংলাদেশি টাকায় হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির আল্লামা শাহ আহমেদ শফীর (রহ.) কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা

ভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কবি-সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : ডোরহীন বাঁধন

ডোরহীন বাঁধনঃ-মাধুরী ব্যানার্জীঃ শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিনই দেখা হতো বৃদ্ধা কমলাদেবী আর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে তিথির। বাসস্ট্যান্ডের এক কোণে বসে কমলাদেবী ফুল বিক্রি করতেন। তিথি প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে তাঁর কাছ থেকে একটি করে জুঁইফুল কিনত।

একদিন কমলাদেবী বললেন, — “মা, তুই তো প্রতিদিন ফুল কিনিস, কিন্তু নিজের জন্য নয় কেন?”তিথি হেসে উত্তর দিল, — “মা নেই। বাবার ছবির সামনে রেখে যাই। মনে হয় উনিও গন্ধটা পান।”সেদিন থেকে কমলাদেবীর চোখে তিথি আর সাধারণ ক্রেতা রইল না। প্রতিদিন সে ফুলের সঙ্গে একটি বাড়তি ফুল গুঁজে দিত। তিথিও মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে টিফিনের লুচি কিংবা নাড়ু এনে দিত।কোনো রক্তের সম্পর্ক ছিল না, কোনো আত্মীয়তার পরিচয়ও নয়। তবু দুজনের অপেক্ষা যেন প্রতিদিন একে অপরকে ঘিরেই থাকত।

একদিন টানা তিন দিন তিথি এল না। কমলাদেবী অস্থির হয়ে উঠলেন। চতুর্থ দিনে জানতে পারলেন, তিথি ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি।নিজের সামান্য সঞ্চয় থেকে কিছু টাকা নিয়ে তিনি হাসপাতালে পৌঁছালেন। তিথির বাবা বিস্ময়ে বললেন, — “আপনি?”কমলাদেবী শুধু মৃদু হেসে বললেন, — “আমি ওর কেউ নই… তবু মনে হলো, না এলে মনটা শান্তি পাবে না।”সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর তিথি দৌড়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরল। কমলাদেবীর কাঁপা হাত আশীর্বাদের মতো নেমে এল তার মাথায়।

সেদিন বাসস্ট্যান্ডে কেউ বুঝতে পারেনি— সম্পর্কের জন্য সব সময় রক্তের দরকার হয় না। কিছু বন্ধন জন্ম নেয় মমতায়, বিশ্বাসে আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়। সেই বন্ধনের কোনো সুতো থাকে না, কোনো নাম থাকে না; তবু সেটাই হয় সবচেয়ে শক্ত, সবচেয়ে স্থায়ী।ডোরহীন বাঁধন— এভাবেই মানুষের হৃদয়কে অদৃশ্য এক সেতুতে চিরকাল বেঁধে রাখে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ষায় পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো করা যাবে না

ভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কবি-সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : ডোরহীন বাঁধন

আপডেট টাইম : ০৪:২১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ডোরহীন বাঁধনঃ-মাধুরী ব্যানার্জীঃ শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিনই দেখা হতো বৃদ্ধা কমলাদেবী আর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে তিথির। বাসস্ট্যান্ডের এক কোণে বসে কমলাদেবী ফুল বিক্রি করতেন। তিথি প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে তাঁর কাছ থেকে একটি করে জুঁইফুল কিনত।

একদিন কমলাদেবী বললেন, — “মা, তুই তো প্রতিদিন ফুল কিনিস, কিন্তু নিজের জন্য নয় কেন?”তিথি হেসে উত্তর দিল, — “মা নেই। বাবার ছবির সামনে রেখে যাই। মনে হয় উনিও গন্ধটা পান।”সেদিন থেকে কমলাদেবীর চোখে তিথি আর সাধারণ ক্রেতা রইল না। প্রতিদিন সে ফুলের সঙ্গে একটি বাড়তি ফুল গুঁজে দিত। তিথিও মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে টিফিনের লুচি কিংবা নাড়ু এনে দিত।কোনো রক্তের সম্পর্ক ছিল না, কোনো আত্মীয়তার পরিচয়ও নয়। তবু দুজনের অপেক্ষা যেন প্রতিদিন একে অপরকে ঘিরেই থাকত।

একদিন টানা তিন দিন তিথি এল না। কমলাদেবী অস্থির হয়ে উঠলেন। চতুর্থ দিনে জানতে পারলেন, তিথি ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি।নিজের সামান্য সঞ্চয় থেকে কিছু টাকা নিয়ে তিনি হাসপাতালে পৌঁছালেন। তিথির বাবা বিস্ময়ে বললেন, — “আপনি?”কমলাদেবী শুধু মৃদু হেসে বললেন, — “আমি ওর কেউ নই… তবু মনে হলো, না এলে মনটা শান্তি পাবে না।”সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর তিথি দৌড়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরল। কমলাদেবীর কাঁপা হাত আশীর্বাদের মতো নেমে এল তার মাথায়।

সেদিন বাসস্ট্যান্ডে কেউ বুঝতে পারেনি— সম্পর্কের জন্য সব সময় রক্তের দরকার হয় না। কিছু বন্ধন জন্ম নেয় মমতায়, বিশ্বাসে আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়। সেই বন্ধনের কোনো সুতো থাকে না, কোনো নাম থাকে না; তবু সেটাই হয় সবচেয়ে শক্ত, সবচেয়ে স্থায়ী।ডোরহীন বাঁধন— এভাবেই মানুষের হৃদয়কে অদৃশ্য এক সেতুতে চিরকাল বেঁধে রাখে।


প্রিন্ট