ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একাকীত্ব কাটিয়ে উঠতে মেনে চলুন ১০টি অভ্যাস শ্যামল, মোজাম্মেল ও রূপার তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় ফের বাড়ল গোলাপি সাজে নতুন লুকে নজর কাড়লেন জয়া আহসান জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবারের পূজায় কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেনি : পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট প্রস্তুত, চালু হলেই মিলবে নিরবচ্ছিন্ন সেবা আইপিএল প্রশ্নে মুখ খুললেন ধোনি, নিজেকে বললেন ‘পুরোনো ভিন্টেজ গাড়ি’ বিক্ষোভ ঠেকাতে মিলান শহরে সেনা মোতায়েন করছে ইতালি সংবিধান সংস্কারের নামে অপচেষ্টা করছে সরকার: গোলাম পরওয়ার মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত

মান নিয়ে আপস নয়, প্রকল্প এলাকায় এলজিইডির তদারকি জোরদার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া

কুড়িগ্রামে সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের গুণগত মান, অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলমান সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও ড্রেনেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দাপ্তরিক নথিতে প্রকল্পের অগ্রগতি দেখানোর পাশাপাশি বাস্তবে কাজের অগ্রগতি কতটুকু, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান ঠিক আছে কি না এবং অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পর্যায়ক্রমে প্রকল্প পরিদর্শন করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কোনো ত্রুটি, ঘাটতি বা অনুমোদিত পরিকল্পনার সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এলজিইডি কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করাই তদারকির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। কাজ শেষ হওয়ার পর নয়, নির্মাণের প্রতিটি ধাপেই প্রকল্পের অগ্রগতি ও গুণগত মান যাচাই করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “কাজ শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ নয়। কাজটি নির্ধারিত মান অনুযায়ী হয়েছে কি না, জনগণ তার সুফল পাচ্ছেন কি না এবং প্রকল্পটি কতটা টেকসই হবে—এসব বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের উন্নয়নকাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে চাই। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত কোনো প্রকল্পের মান নিয়ে আপস করার সুযোগ নেই।”

এলজিইডির আওতায় বাস্তবায়নাধীন এসব অবকাঠামো জেলার গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সড়ক, সেতু ও কালভার্টের উন্নয়ন হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, রোগী পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলাকালে নিয়মিত তদারকি থাকলে নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধন করা সম্ভব। একই সঙ্গে এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও কাজের মান বজায় রাখার চাপ তৈরি হয়।

মাঠপর্যায়ের তদন্ত প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, তদন্তের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং অনুমোদিত নকশা, প্রাক্কলন ও নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, “কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, নির্মাণকাজের গুণগত মান এবং প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ে তদারকি আরও জোরদার করা হচ্ছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

একাকীত্ব কাটিয়ে উঠতে মেনে চলুন ১০টি অভ্যাস

মান নিয়ে আপস নয়, প্রকল্প এলাকায় এলজিইডির তদারকি জোরদার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া

আপডেট টাইম : ০৫:০২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামে সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের গুণগত মান, অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলমান সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও ড্রেনেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দাপ্তরিক নথিতে প্রকল্পের অগ্রগতি দেখানোর পাশাপাশি বাস্তবে কাজের অগ্রগতি কতটুকু, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান ঠিক আছে কি না এবং অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পর্যায়ক্রমে প্রকল্প পরিদর্শন করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কোনো ত্রুটি, ঘাটতি বা অনুমোদিত পরিকল্পনার সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এলজিইডি কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করাই তদারকির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। কাজ শেষ হওয়ার পর নয়, নির্মাণের প্রতিটি ধাপেই প্রকল্পের অগ্রগতি ও গুণগত মান যাচাই করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “কাজ শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ নয়। কাজটি নির্ধারিত মান অনুযায়ী হয়েছে কি না, জনগণ তার সুফল পাচ্ছেন কি না এবং প্রকল্পটি কতটা টেকসই হবে—এসব বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের উন্নয়নকাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে চাই। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত কোনো প্রকল্পের মান নিয়ে আপস করার সুযোগ নেই।”

এলজিইডির আওতায় বাস্তবায়নাধীন এসব অবকাঠামো জেলার গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সড়ক, সেতু ও কালভার্টের উন্নয়ন হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, রোগী পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলাকালে নিয়মিত তদারকি থাকলে নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধন করা সম্ভব। একই সঙ্গে এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও কাজের মান বজায় রাখার চাপ তৈরি হয়।

মাঠপর্যায়ের তদন্ত প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, তদন্তের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং অনুমোদিত নকশা, প্রাক্কলন ও নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, “কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, নির্মাণকাজের গুণগত মান এবং প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ে তদারকি আরও জোরদার করা হচ্ছে।


প্রিন্ট