সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
মিরপুরে আমিনুল হকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ায় মিললো সাইকেল ইরান যুদ্ধ শেষে চুক্তিতে রাজি হতে প্রস্তুত নন ট্রাম্প খুলনায় অস্ত্র, গোলাবারুদসহ সন্ত্রাসী খবির মোল্লা গ্রুপের ৭ সদস্য আটক শ্যামপুরে ডিএসসিসির মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান শুরু পবিত্র রমজানে অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রীদের নিয়ে অপতথ্য প্রচার শনাক্ত : বাংলাফ্যাক্ট কারিগরি-মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদানের আবেদন আহ্বান ইউএনজিএ সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় রাশিয়ার সমর্থন চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে ২০০জন হাফেজকে সংবর্ধনা দেন ইসলামী ছাত্রশিবির গোদাগাড়ীতে পরকীয়া প্রেমের টানে চুরি সোনা ও নগদ টাকাসহ পুত্রবধূ ও তার প্রেমিক গ্রেফতার

ছেলের সঙ্গে একই স্কুলে পড়েন মা!

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২
  • ২০৮ বার পঠিত

শিক্ষার কোনো বয়স নেই। ইচ্ছে থাকলে বয়সের বাধা অতিক্রম করেও শুরু করা যায় পড়াশোনা। এ কথাটি প্রমাণ করেছেন পার্বতী সুনার। ছেলে রেশম যে স্কুলের ছাত্র, মা পার্বতীও সে একই স্কুলে পড়ছেন। নেপালের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের কাঞ্চনপুর জেলার পুনর্বাসের জীবন জ্যোতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারা।

এগারো বছরের রেশমের সঙ্গে ইউনিফর্ম পরে সকালে স্কুল যান পার্বতী। ছোট ছেলে অর্জুনও থাকে সঙ্গে। পার্বতী বলেন, সন্তানের বয়সীদের সঙ্গে লেখাপড়া করতে বেশ ভালো লাগে, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরে তিনি গর্বিত।

পুনর্বাসের স্কুলে যাওয়ার পাশাপাশি নিউ ওয়ার্ল্ড ভিশন কম্পিউটার স্কুলে ছেলের সঙ্গে কম্পিউটারের প্রশিক্ষণও নেন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী পার্বতী। কল থেকে পাম্প করে পানি তোলেন মা পার্বতী। তারপর দুই ছেলেকে গোসল করিয়ে, খাবার খাইয়ে তৈরি হন। জানালেন, সন্তানদের সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুর মতো।

স্কুলে যাওয়ার আগে দুই ছেলেকে তৈরি করেন মা। তারপর নিজেও ইউনিফর্ম পরে স্কুল যাওয়ার জন্য তৈরি হন। তিনি মনে করেন, অন্তত বাড়ির কাজ ভালোভাবে সামলানোর জন্যও লেখাপড়া শেখা উচিত। পার্বতীর বড় ছেলে রেশমের একবার জ্বর হয়েছিল। তখন আর পাঁচজন মায়ের মতো তিনিও সারাক্ষণ সন্তানের সেবা করেছেন, যাতে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। সুস্থ হয়ে আবারও মায়ের সঙ্গে স্কুলে ফিরেছে রেশম।

পার্বতীর স্বামী যম বাহাদুর সুনার ভারতের চেন্নাইয়ে শ্রমিকের কাজ করেন। স্কুলের বিরতিতে কখনো কখনও তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে নেন তিনি। কখনও বা বাড়ি ফিরে পড়াশোনা আর সংসারের কাজের মাঝে কথা বলেন স্বামীর সঙ্গে। টিফিনের সময় বন্ধুদের সঙ্গে দিব্যি খেলাধুলায় মাতেন পার্বতী। সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে ভালোবাসেন তিনি। তাই পড়ার পাশাপাশি হাসিঠাট্টায় যোগ দিতেও ভোলেন না।

কাজের জন্য স্বামী দেশের বাইরে। গোটা সংসারের সব দায়িত্ব সামলাতে হয় পার্বতীকেই। ছেলেদের নিয়ে হাটবাজারও করেন তিনি। ছেলেদের আবদার মেনে মাঝে মধ্যে বাইরের খাবার কিনে দিতে হয় তাকে। পুনর্বাসের জীবন জ্যোতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারত বাসনেট বলেন, ছাত্রী হিসাবে পার্বতী আহামরি কিছু না হলেও তার শেখার ইচ্ছা প্রবল। ক্লাসের পড়া বুঝতে কোনো সমস্যা হলে শিক্ষকদের কাছ থেকে জেনে নিতে চান তিনি।

সন্তানের সঙ্গে মন দিয়ে হোমওয়ার্ক সেরে নেন পার্বতী। হোমওয়ার্ক না করলে শিক্ষকরা বকুনি দেবেন, তাই বাড়ির কাজের সঙ্গে নিজের পড়াশোনায় কোনো কমতি রাখতে চান না তিনি। স্কুল, সংসারের পাশাপাশি কৃষিকাজও সামলাতে হয় পার্বতীকে। গোয়ালঘর পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে মাঠে ফসল তোলা পর্যন্ত সবই করেন পার্বতী।

বিরতির সময় সন্তান ও সন্তানসম বন্ধুদের সঙ্গে সঙ্গে টিফিন ভাগ করে খেতে ভোলেন না পার্বতী। তিনি মনে করেন, শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। দুই সন্তানও তাকে সবসময় সাহায্য করে।

সূত্র: এবিসি নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com