শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান

সংস্কারের চাপ নিয়ে বসছে ডব্লিউটিও সম্মেলন

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতির অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট সংকটের মধ্যেই সংস্কারের পথ খুঁজতে আগামী সপ্তাহে ক্যামেরুনের ইয়াউনদেতে সম্মেলনে বসছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)’র সদস্য রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী এই মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন সাধারণত প্রতি দুই বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ক্যামেরুনের রাজধানীতে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনের গুরুত্ব এবার অনেক বেশি। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে খোদ ডব্লিউটিও।

সংস্থাটির মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়ালা গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, বর্তমান কঠিন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’। এটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর আমূল সংস্কার প্রয়োজন।

দুই বছর আগে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সম্মেলনে মৎস্য ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এবার ইয়াউনদেতে ১৬৬টি সদস্য দেশকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। তাদের প্রধান কাজ হবে ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদ এবং নতুন চুক্তি করতে ব্যর্থ হওয়া এই সংস্থাটিকে পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা তৈরি করা।

কলম্বিয়া ল স্কুলের অধ্যাপক পেত্রোস মাভ্রোইদিস সতর্ক করে বলেন, ‘আগের সম্মেলনগুলোর তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি উত্তপ্ত হতে পারে।’

তার মতে, এই সম্মেলন থেকে বড় কোনো সাফল্য পাওয়া আশ্চর্যজনক হবে; বরং এটি হবে মূলত ‘ক্ষতি কমিয়ে আনার’ চেষ্টা।

ডব্লিউটিও বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় সংস্থাটির সেকেলে নিয়মগুলো সংস্কারের জন্য ব্যাপক চাপ বাড়ছে।

মহাপরিচালক ওকোনজো-ইওয়ালা জোর দিয়ে বলেছেন, ‘বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা কোনো সমাধান নয়। ইয়াউনদে সম্মেলনকে অবশ্যই একটি মোড় পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নও সতর্ক করেছে যে, সংস্থাটি এখন একটি অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে দাঁড়িয়ে আছে। ব্রিটেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সংস্কার না করলে সংস্থাটি গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এরউইন বলিঙ্গারও মনে করেন, ডব্লিউটিও গুরুত্ব হারালে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই ডব্লিউটিও’র প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। ট্রাম্প ইতোমধ্যে একতরফা শুল্ক আরোপ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বহুমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানছেন।

ডব্লিউটিও’র সাবেক প্রধান (২০০৫-২০১৩) প্যাসকেল ল্যামি বলেন, ‘আমেরিকানরা কার্যত ডব্লিউটিও থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তারা এখন আর কোনো নিয়ম মানছে না।’

ওয়াশিংটন বর্তমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করছে। ডব্লিউটিও’র কাছে জমা দেওয়া এক নথিতে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বর্তমান ব্যবস্থাটি বিশ্বে স্থায়ী ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে।

সংস্থাটির মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোসেফ বার্লুন জানান, তার দেশ বর্তমান সংস্কার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে ডব্লিউটিও’র ‘মোস্ট-ফেভারড নেশন’ (এমএফএন) নীতির তীব্র বিরোধী। এই নীতি অনুযায়ী, এক দেশের জন্য প্রদত্ত বাণিজ্য সুবিধা অন্য সব সদস্য দেশের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হয়। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে এই নীতি বর্তমান যুগের জন্য অনুপযুক্ত। চীন এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ অবশ্য এই নিয়মটি বহাল রাখার পক্ষে।

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার অনেক আগে থেকেই ডব্লিউটিও কাঠামোগত বাধার সম্মুখীন। সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় এখানে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এছাড়া ২০১৯ সাল থেকে বিচারক নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার কারণে সংস্থাটির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও অচল হয়ে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পশ্চিমা কূটনীতিক এএফপি’কে বলেন, ‘ডব্লিউটিও এখন চরম চাপের মধ্যে আছে। পুরো ব্যবস্থাটি এর আগে কখনও এমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি।’

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার একজন প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হামিদ মামদুহও একই মত প্রকাশ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com