বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::

হামের টিকা পেয়ে স্বস্তিতে অভিভাবকরা

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত

আট মাস বয়সী শিশু সুমাইয়া আক্তারকে হামের টিকা দিতে রাজধানীর কামরাঙ্গীচর থেকে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এসেছেন মা রত্না বেগম।

বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে দুশ্চিন্তা কিছুটা কমল। আশপাশে হামের রোগী বাড়ায় মেয়েকে নিয়ে অনেক চিন্তায় ছিলাম। মেয়েকে হামের টিকা দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। যদিও কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তারপরও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল।’

লালবাগ থানার দোতালা মসজিদ এলাকা থেকে তিন বছরের ছেলে তামিম হাসানকে হামের টিকা দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন শামসুন্নাহার। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে একটু স্বস্তির মধ্যে দিন কাটাতে পারব। ছেলেকে টিকা দিতে পেরেছি। দ্রুত এমন উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বাচ্চাদের যত্নসহকারে হামের টিকা দিচ্ছেন তাহমিনা আক্তার।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে টিকা কার্যক্রম শুরু করেছি। এলাকার অভিভাবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিশুদের নিয়ে আসছেন। একে একে সবাইকে টিকা দিচ্ছি।’

গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। দ্বিতীয় দফায় গত ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু করে সরকার।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর আওতায় মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিএসসিসি এলাকাজুড়ে সর্বমোট ৫৪০টি টিকাদানকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৯০টি স্থায়ী এবং ৪৫০টি অস্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে সেবা দেবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি চলবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, লম্বা লাইনে অভিভাবকরা দাঁড়িয়ে আছেন; সবার কোলে ছোট শিশু। কেউ কেউ আবার বাচ্চাকে বোঝাচ্ছেন টিকার কোনো ব্যাথ্যা নেই। আবার কেউ বলছেন টিকা নিলেই খেলনা কিনে দেবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত মিরপুর-১২ এলাকার রাড্ডা এম সি পি এইচ টিকা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাহফুজা আক্তার নামের এক অভিভাবক তার দুই সন্তানকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছেন। একজনের বয়স সাত মাস, আরেকজনের দুই বছর। টিকা দেওয়া শেষ করে মাহফুজা আক্তার বলেন, কিছুদিন থেকেই হাম নিয়ে খুব ভয়ে ছিলাম। আজ টিকা দিতে পেরে ভালো লাগছে। ভয় অনেকটাই কেটে গেছে।

সেলিনা পারভীন নামের এক নারী বলেন, আমার নাতনীর বয়স চার বছর। এমনিতে সুস্থ, কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু হামের কথা শুনে তাকেও টিকা দিয়ে নিয়েছি।

শিশুদের টিকা দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ অভিভাবক। তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ও অনেকেই মারা যাচ্ছে; গণমাধ্যমে এমন খবর দেখে এবং টিকা দেওয়া হবে মাইকিং শুনে বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক বাসস’কে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সাধারণ মানুষ তাদের সন্তানদের টিকা দিতে কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাচ্চাদের টিকা দিচ্ছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় ছিল। সাধারণ মানুষ যাতে সুষ্ঠভাবে তাদের আদরের সন্তানকে টিকা দিতে পারেন সেজন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। টিকার কোন ঘাটতি নেই।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, রাজধানীতে হামের টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং শতভাগ শিশুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

সরকার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনতে চান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমার বিশ্বাস, আগামী ছয় মাস ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সঠিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলে হাম-রুবেলা থেকে আমরা স্থায়ী সাফল্য অর্জন করতে পারব।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com