ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

রস টেলর সংবাদ সম্মেলনে হাসতে হাসতে, কাঁদলেন

ক্রীড়া ডেস্ক: দল ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। তারপরও কাল সিডনি টেস্ট শেষে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রস টেলর সংবাদ সম্মেলনে আসলেন হাসতে হাসতে। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলাও শুরু করলেন হাসিমুখেই। কিন্তু সেই হাসির মধ্যেই হঠাৎ কেঁদে ফেললেন তিনি। সেই কান্নার স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে, দুহাতে বারবার মুছেও চোখের জলের স্রোতে বাঁধ দিতে পারলেন না। নিরুপায় হয়ে ক্ষমা চেয়ে কাঁদতে কাঁদতেই সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করলেন।

শুরুতে টেলরের মুখে হাসি ফোটাটা স্বাভাবিকই ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজেই স্টিফেন ফ্লেমিংকে টপকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট রানের মালিক বনে গেছেন। দেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার আনন্দে টেলরের মুখে হাসি তো ঝরবেই।

তবে সেই হাসির মধ্যেই হঠাৎ টেলরের চোখ জোড়া জলের বাষ্পে ঝাপসা হয়ে উঠে গুরু মার্টিন ক্রো’র কথা মনে পড়ায়। এক সময় নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট রানের মালিক ছিলেন কিংবদন্তি মার্টিন ক্রো। সেই ক্রোই ছিলেন টেলরের ক্রিকেট গুরু। টেলরকে আজকের টেলর হয়ে উঠতে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তিনি।

দিয়েছেন ক্রিকেটীয় পরামর্শ। গড়ে দিয়েছেন ক্যারিয়ারের ভিত্তি। অনুপ্রাণিত করেছেন খেলাটা চালিয়ে যাওয়ার। শুধু তাই নয়, কিংবদন্তি মার্টিন ক্রো টেলরের পরিচয় দিতেন নিজের ছেলে হিসেবে। মানে মার্টিন ক্রো একই সঙ্গে টেলরের ‘গুরু এবং বাবা।’ এমনকি মার্টিন ক্রোই নিজের ‘ছাত্র এবং ছেলে’ টেলরের মনে বুনে দিয়েছিলেন দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট রান করার স্বপ্ন। বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে নিউজিল্যান্ডের সর্বো্চ্চ টেস্ট রানের মালিক দেখতে চাই।’

গুরুর আঁকিয়ে দেওয়া সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। ফ্লেমিংকে পেছনে ফেলে টেলর এখন নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট রানের মালিক। ফ্লেমিং ১১১ টেস্টে করেছেন ৭১৭২ রান। টেলর ৯৯ টেস্টেই করে ফেললেন ৭১৭৪ রান। শিষ্য তার এঁকে দেওয়া স্বপ্ন পূরণ করেছে। বেঁচে থাকলে নিশ্চয় ‘ছেলে’র অর্জনে খুব খুশি হতেন। দুহাত তুলে ঈশ্বরের কাছে আশির্বাদ করতেন। কিন্তু মার্টিন ক্রো আর দুনিয়ায় নেই। ২০১৬ সালে ক্যানসারের কাছে হার মেনে ওপাড়ে চলে গেছেন।

প্রয়াত গুরুর কথা মনে করেই তাই কাঁদলেন টেলর। সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে যাওয়ার আগে কান্না জড়িত কণ্ঠে কান্নার কারণটাও জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘দেশের পক্ষে সর্বো্চ্চ টেস্ট রান করা। সত্যিই আমি খুব খুশি। কিন্তু আমি আসলে আবেগি হয়ে পড়েছি আমার গুরু মার্টিন ক্রো’র কথা মনে পড়ায়। আসলে তিনিই আমার ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমাকে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক হিসেবে দেখতে চান। সত্যি বলতে, আমি কখনোই এটা বিশ্বাস করতাম না। তার ভালোবাসাই আজ আমাকে এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। আমি এই কীর্তি উদযাপন করতে পারছি।’

গুরু ক্রো’র ছাত্র বনে যাওয়ার ঘটনার বর্ণনা করে টেলর বলেছেন, ‘আমি যখন নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা শুরু করি, আমার ভালো একটা ওয়ানডে ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছিল। তখন আমার মাত্র ৩-৪টি প্রথম শ্রেণীর সেঞ্চুরি ছিল। টি-টোয়েন্টি খেলাটাও সবে শুরু করেছি। আমি সব সময় নিজেকে ওয়ানডে ক্রিকেটারই মনে করতাম। টেস্টে নিজেকে অতটা ভালো মনে হতো না। ঠিক তখনই আমি পরামর্শ নিতে মার্টিন ক্রো’র কাছে যাই। তিনিই আমার ক্যারিয়ারের পথটা বদলে দিয়েছেন। আর সেজন্যই আজ আমি এখানে।’

কথাগুলো বলার সময় তার দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জল। ফলে কথা অসমাপ্ত রেখেই সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করেন। চলে যাওয়ার সময়ও তার ছলছল করছিল তার চোখ।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

রস টেলর সংবাদ সম্মেলনে হাসতে হাসতে, কাঁদলেন

আপডেট টাইম : ০৫:০২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২০

ক্রীড়া ডেস্ক: দল ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। তারপরও কাল সিডনি টেস্ট শেষে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রস টেলর সংবাদ সম্মেলনে আসলেন হাসতে হাসতে। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলাও শুরু করলেন হাসিমুখেই। কিন্তু সেই হাসির মধ্যেই হঠাৎ কেঁদে ফেললেন তিনি। সেই কান্নার স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে, দুহাতে বারবার মুছেও চোখের জলের স্রোতে বাঁধ দিতে পারলেন না। নিরুপায় হয়ে ক্ষমা চেয়ে কাঁদতে কাঁদতেই সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করলেন।

শুরুতে টেলরের মুখে হাসি ফোটাটা স্বাভাবিকই ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজেই স্টিফেন ফ্লেমিংকে টপকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট রানের মালিক বনে গেছেন। দেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার আনন্দে টেলরের মুখে হাসি তো ঝরবেই।

তবে সেই হাসির মধ্যেই হঠাৎ টেলরের চোখ জোড়া জলের বাষ্পে ঝাপসা হয়ে উঠে গুরু মার্টিন ক্রো’র কথা মনে পড়ায়। এক সময় নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট রানের মালিক ছিলেন কিংবদন্তি মার্টিন ক্রো। সেই ক্রোই ছিলেন টেলরের ক্রিকেট গুরু। টেলরকে আজকের টেলর হয়ে উঠতে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তিনি।

দিয়েছেন ক্রিকেটীয় পরামর্শ। গড়ে দিয়েছেন ক্যারিয়ারের ভিত্তি। অনুপ্রাণিত করেছেন খেলাটা চালিয়ে যাওয়ার। শুধু তাই নয়, কিংবদন্তি মার্টিন ক্রো টেলরের পরিচয় দিতেন নিজের ছেলে হিসেবে। মানে মার্টিন ক্রো একই সঙ্গে টেলরের ‘গুরু এবং বাবা।’ এমনকি মার্টিন ক্রোই নিজের ‘ছাত্র এবং ছেলে’ টেলরের মনে বুনে দিয়েছিলেন দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট রান করার স্বপ্ন। বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে নিউজিল্যান্ডের সর্বো্চ্চ টেস্ট রানের মালিক দেখতে চাই।’

গুরুর আঁকিয়ে দেওয়া সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। ফ্লেমিংকে পেছনে ফেলে টেলর এখন নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট রানের মালিক। ফ্লেমিং ১১১ টেস্টে করেছেন ৭১৭২ রান। টেলর ৯৯ টেস্টেই করে ফেললেন ৭১৭৪ রান। শিষ্য তার এঁকে দেওয়া স্বপ্ন পূরণ করেছে। বেঁচে থাকলে নিশ্চয় ‘ছেলে’র অর্জনে খুব খুশি হতেন। দুহাত তুলে ঈশ্বরের কাছে আশির্বাদ করতেন। কিন্তু মার্টিন ক্রো আর দুনিয়ায় নেই। ২০১৬ সালে ক্যানসারের কাছে হার মেনে ওপাড়ে চলে গেছেন।

প্রয়াত গুরুর কথা মনে করেই তাই কাঁদলেন টেলর। সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে যাওয়ার আগে কান্না জড়িত কণ্ঠে কান্নার কারণটাও জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘দেশের পক্ষে সর্বো্চ্চ টেস্ট রান করা। সত্যিই আমি খুব খুশি। কিন্তু আমি আসলে আবেগি হয়ে পড়েছি আমার গুরু মার্টিন ক্রো’র কথা মনে পড়ায়। আসলে তিনিই আমার ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমাকে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক হিসেবে দেখতে চান। সত্যি বলতে, আমি কখনোই এটা বিশ্বাস করতাম না। তার ভালোবাসাই আজ আমাকে এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। আমি এই কীর্তি উদযাপন করতে পারছি।’

গুরু ক্রো’র ছাত্র বনে যাওয়ার ঘটনার বর্ণনা করে টেলর বলেছেন, ‘আমি যখন নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা শুরু করি, আমার ভালো একটা ওয়ানডে ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছিল। তখন আমার মাত্র ৩-৪টি প্রথম শ্রেণীর সেঞ্চুরি ছিল। টি-টোয়েন্টি খেলাটাও সবে শুরু করেছি। আমি সব সময় নিজেকে ওয়ানডে ক্রিকেটারই মনে করতাম। টেস্টে নিজেকে অতটা ভালো মনে হতো না। ঠিক তখনই আমি পরামর্শ নিতে মার্টিন ক্রো’র কাছে যাই। তিনিই আমার ক্যারিয়ারের পথটা বদলে দিয়েছেন। আর সেজন্যই আজ আমি এখানে।’

কথাগুলো বলার সময় তার দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জল। ফলে কথা অসমাপ্ত রেখেই সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করেন। চলে যাওয়ার সময়ও তার ছলছল করছিল তার চোখ।


প্রিন্ট