ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

চীনের শেনজেন শহরে কুকুর-বিড়ালের মাংস নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের শেনজেন শহর কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি ও খাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির কোন শহর প্রথমবারের মত এই দুটি প্রাণির মাংস নিষিদ্ধ করলো। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর মাংসের সম্পর্ক উদ্ভাবন হবার পর চীনের কর্তৃপক্ষ বন্যপ্রাণী খাওয়া এবং বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

শেনজেন এক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে শুধু বন্যপ্রাণী নয়, কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি এবং খাওয়াও নিষিদ্ধ করেছে। আগামী পহেলা মে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

হিউম্যাইন সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল বলছে প্রতি বছর ৩ কোটি কুকুর মারা হয় শুধু এশিয়াতে। মাংসের জন্যই এটা করা হয় মূলত।

তবে চীনে কুকুরের মাংস খাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা নয়। অধিকাংশ চীনারা কখনোই কুকুরের মাংস খায়নি বা খেতেও চায় না। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শেনজেন শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, কুকুর ও বিড়ালের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর। উন্নত দেশে কুকুর ও বিড়াল খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে আরো আগে।

এই নিষেধাজ্ঞাকে মানব সভ্যতার অংশ বলছেন তারা। প্রাণীদের অধিকারবিষয়ক সংগঠণ, হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল, চীনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

সংস্থাটির হয়ে চীনে কাজ করেন ড. পিটার লি। তিনি বলছেন, যেখানে চীনে প্রতি বছর ১ কোটি কুকুর ও ৪০ লাখ বিড়াল মারা হয় ব্যবসার জন্য। সেখানে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই একটা বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।

তবে একই সময়ে চীনে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য ভালুকের পিত্তরস ব্যবহার করার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ভালুকের পিত্তরস চীনে প্রাচীনকাল থেকেই ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে, যেটা বন্দী ভালুকের পাকস্থলী থেকে সংগ্রহ করা হয় একদম তরতাজা অবস্থায়।

এটি লিভারের নানা ব্যধি থেকে সারিয়ে তোলা এবং গলপাথর গলানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ভালুকের পিত্তরস করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর এমন কোন প্রমাণ নেই। একইসাথে যেভাবে এই পিত্তরস সংগ্রহ করা হয় সেটি প্রাণীটির জন্য কষ্টদায়ক।

এনিমেলস এশিয়া ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র ব্রায়ান ডালি বলেন, ‘আমরা এমন একটা রোগের বিরুদ্ধে ভালুকের পিত্তরস ব্যবহার করছি যেটা কিনা বন্যপ্রাণী থেকেই সংক্রমিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

ফেব্রুয়ারি মাসে চীনের কর্তৃপক্ষ সকল বন্যপ্রাণী বাণিজ্য ও খাওয়া নিষিদ্ধ করে দেয়। উহানের একটি বাজারে বন্যপ্রাণী বিক্রি করা হতো এবং ধারণা করা হয় সেখান থেকেই করোনাভাইরাস প্রাণী দেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে। এসব খবরের পর চীনের সরকার কঠোরভাবে এসব বাজারে নিষেধাজ্ঞা আনে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

চীনের শেনজেন শহরে কুকুর-বিড়ালের মাংস নিষিদ্ধ

আপডেট টাইম : ০৮:০৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের শেনজেন শহর কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি ও খাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির কোন শহর প্রথমবারের মত এই দুটি প্রাণির মাংস নিষিদ্ধ করলো। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর মাংসের সম্পর্ক উদ্ভাবন হবার পর চীনের কর্তৃপক্ষ বন্যপ্রাণী খাওয়া এবং বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

শেনজেন এক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে শুধু বন্যপ্রাণী নয়, কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি এবং খাওয়াও নিষিদ্ধ করেছে। আগামী পহেলা মে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

হিউম্যাইন সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল বলছে প্রতি বছর ৩ কোটি কুকুর মারা হয় শুধু এশিয়াতে। মাংসের জন্যই এটা করা হয় মূলত।

তবে চীনে কুকুরের মাংস খাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা নয়। অধিকাংশ চীনারা কখনোই কুকুরের মাংস খায়নি বা খেতেও চায় না। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শেনজেন শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, কুকুর ও বিড়ালের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর। উন্নত দেশে কুকুর ও বিড়াল খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে আরো আগে।

এই নিষেধাজ্ঞাকে মানব সভ্যতার অংশ বলছেন তারা। প্রাণীদের অধিকারবিষয়ক সংগঠণ, হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল, চীনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

সংস্থাটির হয়ে চীনে কাজ করেন ড. পিটার লি। তিনি বলছেন, যেখানে চীনে প্রতি বছর ১ কোটি কুকুর ও ৪০ লাখ বিড়াল মারা হয় ব্যবসার জন্য। সেখানে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই একটা বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।

তবে একই সময়ে চীনে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য ভালুকের পিত্তরস ব্যবহার করার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ভালুকের পিত্তরস চীনে প্রাচীনকাল থেকেই ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে, যেটা বন্দী ভালুকের পাকস্থলী থেকে সংগ্রহ করা হয় একদম তরতাজা অবস্থায়।

এটি লিভারের নানা ব্যধি থেকে সারিয়ে তোলা এবং গলপাথর গলানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ভালুকের পিত্তরস করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর এমন কোন প্রমাণ নেই। একইসাথে যেভাবে এই পিত্তরস সংগ্রহ করা হয় সেটি প্রাণীটির জন্য কষ্টদায়ক।

এনিমেলস এশিয়া ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র ব্রায়ান ডালি বলেন, ‘আমরা এমন একটা রোগের বিরুদ্ধে ভালুকের পিত্তরস ব্যবহার করছি যেটা কিনা বন্যপ্রাণী থেকেই সংক্রমিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

ফেব্রুয়ারি মাসে চীনের কর্তৃপক্ষ সকল বন্যপ্রাণী বাণিজ্য ও খাওয়া নিষিদ্ধ করে দেয়। উহানের একটি বাজারে বন্যপ্রাণী বিক্রি করা হতো এবং ধারণা করা হয় সেখান থেকেই করোনাভাইরাস প্রাণী দেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে। এসব খবরের পর চীনের সরকার কঠোরভাবে এসব বাজারে নিষেধাজ্ঞা আনে।


প্রিন্ট