ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সামাজিক আন্দোলন ছাড়া মাদক নির্মূল করা যাবে না। এমপি, ফজলুল হক মিলন জোনাকী শিল্পীগোষ্টি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন নবনিযুক্ত গাইবান্ধা ডিসিকে বিএনপি নেতৃবৃন্দের ফুলেল শুভেচ্ছা। সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সুনামগঞ্জ জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের নেতৃবৃন্দরা রিংকি হত্যা: ন্যায়বিচারের দাবিতে উলিপুরে মানববন্ধন বঙ্গভবনে নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর আহ্বান সাত বছর পর নাটকে ফিরলেন শার্লিন ফারজানা `২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল’ অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা সামনে কাজে লাগাতে চান শান্ত

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

অনলাইন ডেক্স: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। বৃহস্পতিবার এ উদ্বেগ জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদ উদ্বেগের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও লেখকসহ বেশ কয়েকজনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার পর্যবেক্ষণ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল তুচ্ছ কিংবা অপ্রমাণসিদ্ধ। ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন, গুজব ছড়ানো ও সরকারের সমালোচনা করার মতো কারণ দেখিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে যে কোনো অভিযোগেই গ্রেপ্তার হতে হয় বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সম্প্রতি ফটো সাংবাদিক কাজলকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে আনা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যেসব গ্রেপ্তার হয়েছে তার পেছনে ছিলো, আইনপ্রনেতা, জেলা কর্তৃপক্ষ ও ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সাধারণ সমালোচনা। আইনপ্রনেতারা সাধারণত সবসময় মুক্ত গণমাধ্যম এবং চিন্তার স্বাধীনতার পক্ষে থাকেন।

কিন্তু বাংলাদেশে একটি কার্যকর মানহানী আইন থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হচ্ছে। এ থেকে বুঝা যায়, এর আসল উদ্দেশ্য বিচার পাওয়া নয় বরঞ্চ অভিযুক্তকে হেনস্থা করা ও হুমকি প্রদান।

সম্পাদক পরিষদ জানিয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে প্রশাসনের ব্যর্থতা চিহ্নিত করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। সরকার যখন হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে মহামারি থামাতে তখন সাংবাদিকদের এ দায়িত্ব আরো বেশি গুরুত্বপূর্ন। সম্পাদক পরিষদ প্রথম থেকেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধিতা করে আসছে। এটি গণমাধ্যমকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে এমন আশঙ্কা সবসময়ই ছিলো। সেই আশঙ্কা এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সম্পাদক পরিষদ।

সংগঠনটি অবিলম্বে আটক সকল সাংবাদিকের মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। প্রকাশিত বিবৃতিতে গণমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যথেচ্ছা ব্যবহারের নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে  এই আইন রদেরও দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

মহামারি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়তে সমগ্র জাতিকে এক হয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এমন আঘাত ও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার শুধুমাত্র এই ঐক্যের পথে বাধাই সৃষ্টি করবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সামাজিক আন্দোলন ছাড়া মাদক নির্মূল করা যাবে না। এমপি, ফজলুল হক মিলন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

আপডেট টাইম : ১০:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২০

অনলাইন ডেক্স: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। বৃহস্পতিবার এ উদ্বেগ জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদ উদ্বেগের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও লেখকসহ বেশ কয়েকজনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার পর্যবেক্ষণ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল তুচ্ছ কিংবা অপ্রমাণসিদ্ধ। ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন, গুজব ছড়ানো ও সরকারের সমালোচনা করার মতো কারণ দেখিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে যে কোনো অভিযোগেই গ্রেপ্তার হতে হয় বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সম্প্রতি ফটো সাংবাদিক কাজলকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে আনা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যেসব গ্রেপ্তার হয়েছে তার পেছনে ছিলো, আইনপ্রনেতা, জেলা কর্তৃপক্ষ ও ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সাধারণ সমালোচনা। আইনপ্রনেতারা সাধারণত সবসময় মুক্ত গণমাধ্যম এবং চিন্তার স্বাধীনতার পক্ষে থাকেন।

কিন্তু বাংলাদেশে একটি কার্যকর মানহানী আইন থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হচ্ছে। এ থেকে বুঝা যায়, এর আসল উদ্দেশ্য বিচার পাওয়া নয় বরঞ্চ অভিযুক্তকে হেনস্থা করা ও হুমকি প্রদান।

সম্পাদক পরিষদ জানিয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে প্রশাসনের ব্যর্থতা চিহ্নিত করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। সরকার যখন হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে মহামারি থামাতে তখন সাংবাদিকদের এ দায়িত্ব আরো বেশি গুরুত্বপূর্ন। সম্পাদক পরিষদ প্রথম থেকেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধিতা করে আসছে। এটি গণমাধ্যমকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে এমন আশঙ্কা সবসময়ই ছিলো। সেই আশঙ্কা এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সম্পাদক পরিষদ।

সংগঠনটি অবিলম্বে আটক সকল সাংবাদিকের মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। প্রকাশিত বিবৃতিতে গণমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যথেচ্ছা ব্যবহারের নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে  এই আইন রদেরও দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

মহামারি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়তে সমগ্র জাতিকে এক হয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এমন আঘাত ও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার শুধুমাত্র এই ঐক্যের পথে বাধাই সৃষ্টি করবে।


প্রিন্ট