ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

আমিরাতে লবণের সিমেন্ট

অনলাইন ডেস্ক: আধুনিক স্থাপত্য শিল্পে সিমেন্ট এক অনন্য উপাদান। সুউচ্চ ইমারত থেকে শুরু করে দীর্ঘ সেতু নির্মাণে সিমেন্টের ব্যবহার হয়। প্রচলিত সিমেন্টের ব্যবহারের ধারণা পাল্টে দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই প্রকৌশলী।

তারা আবিষ্কার করেছেন লবণের সিমেন্ট। সিএনএন জানায়, ওয়াইওয়াই নামক সংস্থার অন্যতম দুই প্রকৌশলী ওয়ায়েল আল আওয়ার ও কেনিচি তেরামোতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের নির্লবণীকরণ প্ল্যান্টে এ সিমেন্ট আবিষ্কার করেন।

এ প্ল্যান্টগুলোতে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ পৃথক করা হয়। আরব আমিরাতের খনিজ সম্পদে ভরপুর সাবখাকে (সল্ট প্ল্যান্ট) তারা নতুন এ সিমেন্ট তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। কয়েকশ’ বছর ধরেই স্থাপত্য শিল্পে সাবখা ব্যবহার হয়ে আসছে। লিবিয়া সীমান্ত ঘেঁষা মিসরের মধ্যযুগীয় শহর সিউয়া তৈরিতে লবণের চাই (সাবখা) ব্যবহার করা হয়েছিল। নির্লবণীকরণ প্ল্যান্টের বর্জ্য পানি থেকে ওই দুই প্রকৌশলী নতুন ধরনের সাবখা তৈরি করেন। ওই বর্জ্য পানিতে লবণের উপস্থিতি না থাকলেও অন্য খনিজ উপাদান রয়েছে, সেটাই কাজে লাগায় দুই প্রকৌশলী।

মিঠা পানির দুষ্প্রাপ্যতার দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম নির্লবণীকরণ প্ল্যান্ট। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্লবণীকরণ প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৮ মিলিয়ন কিউবিক মিটার বর্জ্য পানি ফেলা হয়। এই পানি ফের সাগরে ফেলা হলে সামুদ্রিক প্রাণীদের ক্ষতি হতে পারে। এ চিন্তা থেকে চলতি বছরের শুরুর দিকে ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে ‘রিথিংক ব্রাইন চ্যালেঞ্জ’ প্রকল্পের সূচনা করা হয়। এ বর্জ্য পানির মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। বিজ্ঞানীরা ওই পানি থেকে ম্যাঙ্গানিজকে পৃথক করেন, যা দিয়েই মূলত সিমেন্ট তৈরি করা হয়। আবুধাবির নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সিভিল অ্যান্ড আরবান ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামাল সেলিকের মতে, নতুন আবিষ্কৃত এ সিমেন্ট উৎপাদন খুব কঠিন নয়। সিমেন্টটি পরীক্ষার জন্য জাপানে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে শক্তি ও অনমনীয়তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। প্রকৌশলী আল আওয়ারের মতে, প্রচলিত পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের মতোই শক্তিশালী এ নতুন সিমেন্ট।

আল আওয়ার বলেন, শিগরিগই একতলা বিল্ডিং নির্মাণে এ সিমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তিনি ও তেরামোতো আশা করছেন, আগামীতে এটি আরও বিকাশ লাভ করবে এবং বহুতল ভবন নির্মাণেও ব্যবহৃত হবে। আল আওয়ার দাবি করেছেন, পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের সমান কাজ করতে পারে তাদের ম্যাগনেসিয়াম-ভিত্তিক সিমেন্ট। পোর্টল্যান্ড সিমেন্টে ক্যালসিয়াম কার্বোনেটকে কাঁচা উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে এবং কংক্রিটের ভবন নির্মাণে এটি সর্বাধিক ব্যবহৃত সিমেন্ট। তবে ম্যাগনেসিয়াম সিমেন্টের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। লবণভিত্তিক পণ্য হওয়ায় ইস্পাতের মতোই শক্ত করা কিছুটা কঠিন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

আমিরাতে লবণের সিমেন্ট

আপডেট টাইম : ০৮:০১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: আধুনিক স্থাপত্য শিল্পে সিমেন্ট এক অনন্য উপাদান। সুউচ্চ ইমারত থেকে শুরু করে দীর্ঘ সেতু নির্মাণে সিমেন্টের ব্যবহার হয়। প্রচলিত সিমেন্টের ব্যবহারের ধারণা পাল্টে দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই প্রকৌশলী।

তারা আবিষ্কার করেছেন লবণের সিমেন্ট। সিএনএন জানায়, ওয়াইওয়াই নামক সংস্থার অন্যতম দুই প্রকৌশলী ওয়ায়েল আল আওয়ার ও কেনিচি তেরামোতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের নির্লবণীকরণ প্ল্যান্টে এ সিমেন্ট আবিষ্কার করেন।

এ প্ল্যান্টগুলোতে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ পৃথক করা হয়। আরব আমিরাতের খনিজ সম্পদে ভরপুর সাবখাকে (সল্ট প্ল্যান্ট) তারা নতুন এ সিমেন্ট তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। কয়েকশ’ বছর ধরেই স্থাপত্য শিল্পে সাবখা ব্যবহার হয়ে আসছে। লিবিয়া সীমান্ত ঘেঁষা মিসরের মধ্যযুগীয় শহর সিউয়া তৈরিতে লবণের চাই (সাবখা) ব্যবহার করা হয়েছিল। নির্লবণীকরণ প্ল্যান্টের বর্জ্য পানি থেকে ওই দুই প্রকৌশলী নতুন ধরনের সাবখা তৈরি করেন। ওই বর্জ্য পানিতে লবণের উপস্থিতি না থাকলেও অন্য খনিজ উপাদান রয়েছে, সেটাই কাজে লাগায় দুই প্রকৌশলী।

মিঠা পানির দুষ্প্রাপ্যতার দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম নির্লবণীকরণ প্ল্যান্ট। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্লবণীকরণ প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৮ মিলিয়ন কিউবিক মিটার বর্জ্য পানি ফেলা হয়। এই পানি ফের সাগরে ফেলা হলে সামুদ্রিক প্রাণীদের ক্ষতি হতে পারে। এ চিন্তা থেকে চলতি বছরের শুরুর দিকে ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে ‘রিথিংক ব্রাইন চ্যালেঞ্জ’ প্রকল্পের সূচনা করা হয়। এ বর্জ্য পানির মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। বিজ্ঞানীরা ওই পানি থেকে ম্যাঙ্গানিজকে পৃথক করেন, যা দিয়েই মূলত সিমেন্ট তৈরি করা হয়। আবুধাবির নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সিভিল অ্যান্ড আরবান ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামাল সেলিকের মতে, নতুন আবিষ্কৃত এ সিমেন্ট উৎপাদন খুব কঠিন নয়। সিমেন্টটি পরীক্ষার জন্য জাপানে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে শক্তি ও অনমনীয়তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। প্রকৌশলী আল আওয়ারের মতে, প্রচলিত পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের মতোই শক্তিশালী এ নতুন সিমেন্ট।

আল আওয়ার বলেন, শিগরিগই একতলা বিল্ডিং নির্মাণে এ সিমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তিনি ও তেরামোতো আশা করছেন, আগামীতে এটি আরও বিকাশ লাভ করবে এবং বহুতল ভবন নির্মাণেও ব্যবহৃত হবে। আল আওয়ার দাবি করেছেন, পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের সমান কাজ করতে পারে তাদের ম্যাগনেসিয়াম-ভিত্তিক সিমেন্ট। পোর্টল্যান্ড সিমেন্টে ক্যালসিয়াম কার্বোনেটকে কাঁচা উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে এবং কংক্রিটের ভবন নির্মাণে এটি সর্বাধিক ব্যবহৃত সিমেন্ট। তবে ম্যাগনেসিয়াম সিমেন্টের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। লবণভিত্তিক পণ্য হওয়ায় ইস্পাতের মতোই শক্ত করা কিছুটা কঠিন।


প্রিন্ট