ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

নিজেরাই একটি মসজিদ ধ্বংস করলেন শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ:নিজেরাই একটি মসজিদ ধ্বংস করলেন শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা। দেশটিতে ইস্টার সানডেতে হামলার ঘটনার পর থেকেই সেখানকার মুসলিমদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অমুসলিমরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।

ইস্টার সানডে উদযাপনের সময় বেশ কয়েকটি গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নিহত হয়। ওই হামলার জন্য একটি মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠীকে দায়ী করা হচ্ছে। এরপর থেকেই বেশ চাপের মুখে রয়েছেন সেখানকার মুসলিমরা।
পুরো রমজান মাস জুড়ে মুসলিমরা যখন রোজা পালন করেছেন তখন উগ্রবাদীদের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য শ্রীলংকার মুসলিমদের ছোট একটি গ্রুপ একটি ভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। তারা সংঘাত এড়াতে একটি মসজিদ ধ্বংস করেছে।

মাদাতুগামার প্রধান মসজিদের একজন ট্রাস্টি আকবর খান। সেখানকার মুসলিমরা এটা কেন করল সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

আকবর খান বলেন, ইস্টার সানডের হামলার পর পুলিশ কয়েক দফা তল্লাশি চালিয়েছে এই মসজিদে। এতে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। মুসলিমদের প্রতি অন্য সম্প্রদায়গুলোর অবিশ্বাস বেড়ে গেছে।

যে মসজিদটি ধ্বংস করা হয়েছে সেটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতের (এনটিজে) সদস্যরা বেশি যাতায়াত করতো বলে মনে করা হয়। পরে ওই মসজিদটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

মাদাতুগামার ওই মসজিদটি ঐতিহাসিক, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কোন কারণেই খুব বেশি উল্লেখযোগ্য নয়। আকবর খান বলেন, আমাদের শহরে অন্য যে মসজিদ আছে সেটি মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য যথেষ্ট। কয়েক বছর আগে অন্য একটি গোষ্ঠী প্রশ্নবিদ্ধ মসজিদটি নির্মাণ করে।

পরে মে মাসে পুরনো মসজিদের সদস্যরা একটি সভায় মিলিত হয়ে সর্বসম্মত হয়ে বিতর্কিত মসজিদটি ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে স্থানীয়রা সেটি ধ্বংস করে। তিনি বলেন, মিনার, নামাজ কক্ষ ধ্বংস করে ভবনটি পুরনো মালিকের হাতে দিয়ে দেয়া হয়েছে।

শ্রীলংকায় ৭০ ভাগ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। আর মুসলিম আছে দশ ভাগের মতো। মসজিদ ধ্বংস করে ফেলার সিদ্ধান্ত সবাই ভালোভাবে নেয়নি। শ্রীলংকায় মুসলিমদের সর্বোচ্চ তাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ অল সিলন জামিয়াতুল উলামা বলছে, প্রার্থনার জায়গার ক্ষতি করা উচিত নয়।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মসজিদ আল্লাহর ঘর। এর ধ্বংস বা ক্ষতি করা ইসলামী চেতনার পরিপন্থী। শ্রীলংকা সরকার বলছে, দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৫৯৬টি রেজিস্টার্ড মসজিদ আছে।

শ্রীলংকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আ রামিজ বলেন, মসজিদ ধ্বংসের পন্থা বেছে নিলে এমন শত শত মসজিদ ধ্বংস করতে হবে।

তার ধারণা, দশ থেকে পনের শতাংশ মসজিদ উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো চালায়। কারণ গত দু’দশকে বেশ কিছু গোষ্ঠী ওয়াহাবী মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই শ্রীলংকার মুসলিমরা উগ্রবাদীদের সহ্য করে আসছিল। কিন্তু তারা চুপ থাকায় উগ্রবাদীরা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

দেশটির মুসলিমরা সবদিক থেকেই বেশ চাপের মধ্যে আছে। ওই ঘটনার পর বহু জায়গায় মুসলিমদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে।

ড. রামিজ বলেন, তিনি নিজেও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। অপরদিকে, রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু সরকার থেকে মুসলিম মন্ত্রীদের সরিয়ে নেয়ার দাবিতে অনশনের ডাক দিয়েছেন।

তবে মসজিদ ধ্বংসের পর মাদাতুগামায় কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। সেখানকার মুসলিমদের এখন কম ক্ষোভের শিকার হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিংহলি ও তামিলরা মুসলিমদের প্রতিবেশী হিসেবে সম্পৃক্ত করছে ফলে উত্তেজনাও কমছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

নিজেরাই একটি মসজিদ ধ্বংস করলেন শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা

আপডেট টাইম : ১১:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ:নিজেরাই একটি মসজিদ ধ্বংস করলেন শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা। দেশটিতে ইস্টার সানডেতে হামলার ঘটনার পর থেকেই সেখানকার মুসলিমদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অমুসলিমরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।

ইস্টার সানডে উদযাপনের সময় বেশ কয়েকটি গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নিহত হয়। ওই হামলার জন্য একটি মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠীকে দায়ী করা হচ্ছে। এরপর থেকেই বেশ চাপের মুখে রয়েছেন সেখানকার মুসলিমরা।
পুরো রমজান মাস জুড়ে মুসলিমরা যখন রোজা পালন করেছেন তখন উগ্রবাদীদের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য শ্রীলংকার মুসলিমদের ছোট একটি গ্রুপ একটি ভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। তারা সংঘাত এড়াতে একটি মসজিদ ধ্বংস করেছে।

মাদাতুগামার প্রধান মসজিদের একজন ট্রাস্টি আকবর খান। সেখানকার মুসলিমরা এটা কেন করল সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

আকবর খান বলেন, ইস্টার সানডের হামলার পর পুলিশ কয়েক দফা তল্লাশি চালিয়েছে এই মসজিদে। এতে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। মুসলিমদের প্রতি অন্য সম্প্রদায়গুলোর অবিশ্বাস বেড়ে গেছে।

যে মসজিদটি ধ্বংস করা হয়েছে সেটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতের (এনটিজে) সদস্যরা বেশি যাতায়াত করতো বলে মনে করা হয়। পরে ওই মসজিদটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

মাদাতুগামার ওই মসজিদটি ঐতিহাসিক, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কোন কারণেই খুব বেশি উল্লেখযোগ্য নয়। আকবর খান বলেন, আমাদের শহরে অন্য যে মসজিদ আছে সেটি মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য যথেষ্ট। কয়েক বছর আগে অন্য একটি গোষ্ঠী প্রশ্নবিদ্ধ মসজিদটি নির্মাণ করে।

পরে মে মাসে পুরনো মসজিদের সদস্যরা একটি সভায় মিলিত হয়ে সর্বসম্মত হয়ে বিতর্কিত মসজিদটি ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে স্থানীয়রা সেটি ধ্বংস করে। তিনি বলেন, মিনার, নামাজ কক্ষ ধ্বংস করে ভবনটি পুরনো মালিকের হাতে দিয়ে দেয়া হয়েছে।

শ্রীলংকায় ৭০ ভাগ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। আর মুসলিম আছে দশ ভাগের মতো। মসজিদ ধ্বংস করে ফেলার সিদ্ধান্ত সবাই ভালোভাবে নেয়নি। শ্রীলংকায় মুসলিমদের সর্বোচ্চ তাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ অল সিলন জামিয়াতুল উলামা বলছে, প্রার্থনার জায়গার ক্ষতি করা উচিত নয়।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মসজিদ আল্লাহর ঘর। এর ধ্বংস বা ক্ষতি করা ইসলামী চেতনার পরিপন্থী। শ্রীলংকা সরকার বলছে, দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৫৯৬টি রেজিস্টার্ড মসজিদ আছে।

শ্রীলংকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আ রামিজ বলেন, মসজিদ ধ্বংসের পন্থা বেছে নিলে এমন শত শত মসজিদ ধ্বংস করতে হবে।

তার ধারণা, দশ থেকে পনের শতাংশ মসজিদ উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো চালায়। কারণ গত দু’দশকে বেশ কিছু গোষ্ঠী ওয়াহাবী মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই শ্রীলংকার মুসলিমরা উগ্রবাদীদের সহ্য করে আসছিল। কিন্তু তারা চুপ থাকায় উগ্রবাদীরা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

দেশটির মুসলিমরা সবদিক থেকেই বেশ চাপের মধ্যে আছে। ওই ঘটনার পর বহু জায়গায় মুসলিমদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে।

ড. রামিজ বলেন, তিনি নিজেও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। অপরদিকে, রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু সরকার থেকে মুসলিম মন্ত্রীদের সরিয়ে নেয়ার দাবিতে অনশনের ডাক দিয়েছেন।

তবে মসজিদ ধ্বংসের পর মাদাতুগামায় কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। সেখানকার মুসলিমদের এখন কম ক্ষোভের শিকার হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিংহলি ও তামিলরা মুসলিমদের প্রতিবেশী হিসেবে সম্পৃক্ত করছে ফলে উত্তেজনাও কমছে।


প্রিন্ট