ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীর মামলা: বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা নরসিংদী জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে ৫২ কেজি পিরানহা মাছ জ/ব্দ সহ ২ হাজার টাকা জরিমানা যে কারণে ‘ট্রাইব্যুনাল’ থেকে সরে দাঁড়ালেন নুসরাত ফারিয়া এমডি-সিইওদের কর্মদক্ষতা মাপতে নতুন কেপি আই কাঠামো সিটি নির্বাচন: ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারী আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ভি অ্যাওয়ার্ড ২.০: মিজানুর রহমান ও উত্তরা নার্সিং হোমসহ বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সম্মানিত এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ এমবাপ্পের জোড়া গোলে রায়োকে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ

ভালোবাসা দিবসে ২৩ শিশুকে মুক্তি দিলো আদালত

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের দিনে রাজশাহীতে প্রবেশনে মুক্তি পেয়েছে ২৩ শিশু। রাজশাহীর নারী ও শিশু আদালতের বিভিন্ন মামলার আসামি ছিল তারা।

মঙ্গলবার মুক্তি পাওয়া শিশুদের পলাশ ফুল দিয়ে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানান আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাজশাহীতে শিশু আইনে হওয়া মামলার মধ্যে চারটি মাদক ও ১৬টি মারামারির মামলায় আসামি হয় এই ২৩ শিশু। প্রথমবারের মতো অপরাধী হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান প্রবেশনে তাদের মুক্তি দেন।

বেশ কয়েকটি শর্তে নিজ বাড়িতে জেলা প্রবেশন কর্মকর্তার তদারকিতে থাকবে তারা। মুক্তি পাওয়ার পর তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা মতিনুর রহমান, পেশকার হেমন্ত বর্মণ ও সাঁটলিপিকার আবু সালেহ।

এ বিষয়ে প্রবেশন কর্মকর্তা মতিনুর রহমান বলেন, মামলার প্রকৃতি অনুযায়ী শর্তগুলো আরোপ করা হবে। এছাড়া সাধারণ কিছু শর্ত থাকবে। যেমন শিশুরা মাদকে জড়াতে পারবে না, বাল্যবিবাহ করতে পারবে না, মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে পারবে না, কোনো মারামারিতে জড়াতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, এসব শিশুর পরিবারের কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। কনফারেন্সের সময় মামলার বাদীরাও উপস্থিত থাকবেন। দুই মাসের মাথায় আদালতে প্রথম প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। দুই মাস পরপর একটি করে প্রতিবেদন আদালতে দিতে হবে। ছয় মাসে মোট তিনটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাসরিন আকতার মিতা বলেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে ২০ শিশু উপস্থিত ছিল। বাকি তিন জনের পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়েছিল। পরে তাদের সবার মুক্তি দেয় আদালত। বিচারক রায়ে তার পর্যবেক্ষণে ভালোবাসার নানা দিক তুলে ধরে পরিবার, দেশ ও গুণীজনদের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে জাতির কল্যাণে শিশুদের আত্মনিয়োগে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। এদিকে, বিকল্প পন্থায় সংশোধনের সুযোগ পেয়ে খুশি এই ২৩ শিশুর অভিভাবকেরা। গত বছর একই আদালত একই নিয়মে আরও ৩৭ শিশুকে মুক্তি দিয়েছিল।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীর মামলা: বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা

ভালোবাসা দিবসে ২৩ শিশুকে মুক্তি দিলো আদালত

আপডেট টাইম : ০৮:৩০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের দিনে রাজশাহীতে প্রবেশনে মুক্তি পেয়েছে ২৩ শিশু। রাজশাহীর নারী ও শিশু আদালতের বিভিন্ন মামলার আসামি ছিল তারা।

মঙ্গলবার মুক্তি পাওয়া শিশুদের পলাশ ফুল দিয়ে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানান আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাজশাহীতে শিশু আইনে হওয়া মামলার মধ্যে চারটি মাদক ও ১৬টি মারামারির মামলায় আসামি হয় এই ২৩ শিশু। প্রথমবারের মতো অপরাধী হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান প্রবেশনে তাদের মুক্তি দেন।

বেশ কয়েকটি শর্তে নিজ বাড়িতে জেলা প্রবেশন কর্মকর্তার তদারকিতে থাকবে তারা। মুক্তি পাওয়ার পর তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা মতিনুর রহমান, পেশকার হেমন্ত বর্মণ ও সাঁটলিপিকার আবু সালেহ।

এ বিষয়ে প্রবেশন কর্মকর্তা মতিনুর রহমান বলেন, মামলার প্রকৃতি অনুযায়ী শর্তগুলো আরোপ করা হবে। এছাড়া সাধারণ কিছু শর্ত থাকবে। যেমন শিশুরা মাদকে জড়াতে পারবে না, বাল্যবিবাহ করতে পারবে না, মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে পারবে না, কোনো মারামারিতে জড়াতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, এসব শিশুর পরিবারের কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। কনফারেন্সের সময় মামলার বাদীরাও উপস্থিত থাকবেন। দুই মাসের মাথায় আদালতে প্রথম প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। দুই মাস পরপর একটি করে প্রতিবেদন আদালতে দিতে হবে। ছয় মাসে মোট তিনটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাসরিন আকতার মিতা বলেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে ২০ শিশু উপস্থিত ছিল। বাকি তিন জনের পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়েছিল। পরে তাদের সবার মুক্তি দেয় আদালত। বিচারক রায়ে তার পর্যবেক্ষণে ভালোবাসার নানা দিক তুলে ধরে পরিবার, দেশ ও গুণীজনদের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে জাতির কল্যাণে শিশুদের আত্মনিয়োগে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। এদিকে, বিকল্প পন্থায় সংশোধনের সুযোগ পেয়ে খুশি এই ২৩ শিশুর অভিভাবকেরা। গত বছর একই আদালত একই নিয়মে আরও ৩৭ শিশুকে মুক্তি দিয়েছিল।


প্রিন্ট