ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাক্ষী না আসায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল তিন দশকের অবদানে বিশেষ সম্মাননা পেলেন রানি মুখার্জি গণমাধ্যম স্বাধীন না হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না : রিজভী হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর এজবাস্টনে লজ্জার রেকর্ড পাকিস্তানের, প্রথম দিনেই লিড ইংল্যান্ডের বিশ্বে রেকর্ড উষ্ণতম মাস আগস্ট গাজায় ইসরাইলি হা/ম/লায় একই পরিবারের ৪ সদস্য নি/হত ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানিতে ১,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ: ধর্মমন্ত্রী বিএমইউতে আত্মহ/ত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত বরিশাল বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণে পাস করেছে ৭৯ এসএসসি পরীক্ষার্থী

গরুর মাংস ৫৮০ টাকা কেজি

শহরের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭০০-৭২০ টাকা। গ্রামের বাজারে ৬৮০ টাকা। এমন সময়ে ৫৮০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি করে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন কসাই নজরুল ইসলাম ওরফে কালু।

ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায়। বিষয়টি লোকমুখে এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ভিড় থাকছে তার দোকানে। এক বছর ধরে বাজারের চেয়ে কম দামে মাংস বিক্রি করছেন নশিপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী মোড়ে নজরুল ইসলাম ওরফে কালু কসাই।

জানা যায়, বগুড়া শহরের সাতমাথা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে শিমুলতলী মোড়। বাগবাড়ী সড়কের এই মোড় এখন পরিচিত হয়ে উঠেছে কালু কসাইয়ের ‘গোশত ঘর’ হিসেবে। শহর থেকে ৩০ টাকা অটোরিকশা ভাড়ায় ছুটছেন ক্রেতারা। যাতায়াতে ৬০ টাকা খরচ হলেও বাজারের চেয়ে সাশ্রয় হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা।

মঙ্গলবার সকালে শিমুলতলী মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়দের চেয়ে মাংস কেনার জন্য অন্য এলাকার মানুষের ভিড় বেশি। সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট থেকে এসেছেন মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বালুয়াহাটে প্রতি কেজি মাংস ৬৮০ টাকা। ফেসবুকে দেখেছি, এই মোড়ে মাংস ৫৮০ টাকা কেজি। এক কেজি মাংসে ১০০ টাকা কম। এ কারণে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছি। ১০০ টাকার তেল খরচ হলেও ৩০০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা মিয়া জানান, ‘বাইরের এত মানুষ প্রতিদিন মাংস কিনতে আসেন যে এলাকার মানুষ কালুর দোকান থেকে মাংস নিতে পারেন না। দূর-দূরান্তের মানুষ এলাকার অতিথি, এ জন্য তাদের আগে মাংস দিয়ে বিদায় করতে হয়। এলাকার যারা মাংস নিতে চান তারা আগে কালুকে বলে যান, পরে এসে মাংস নিয়ে যান।

কসাই নজরুল ইসলাম কালু জানান, প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি এই পেশায় জড়িত। এক বছর আগেও তিনি বাগবাড়ী বাজারে মাংস বিক্রি করতেন। কিন্তু গত বছর সেখানে টোল বাড়ানো হয়। এত টাকা কেন দিতে হবে, এ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তখনই তিনি হাটে দোকান না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বাড়ির পাশে শিমুলতলী মোড়ে দোকান বসান।

তিনি আরো জানান, ওই সময় হাটে মাংস বিক্রি হচ্ছিল ৫৫০ টাকা কেজি। তিনি তখন ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি শুরু করেন। তখন শহরে দাম ছিল ৬০০ টাকা কেজি। এই কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার দোকানে ক্রেতা বাড়তে থাকেন।

কালু জানান, আগে হাটে দোকান দিয়ে দিনে একটা গরুও বিক্রি হতো না। এখন সপ্তাহে অন্তত ২৫টা গরু বিক্রি হচ্ছে। চারজন কর্মচারীর মজুরি বাদ দিয়ে গরুপ্রতি ৫০০ টাকা টিকলেও মাসে ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকে। তিনি জানান, হাটের টোল যেখানে কম, সেসব এলাকার কসাইরা চাইলেই কম দামে মাংস বিক্রি করতে পারেন। এতে হয়তো লাভ কম হবে, কিন্তু মানুষের উপকার হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাক্ষী না আসায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

গরুর মাংস ৫৮০ টাকা কেজি

আপডেট টাইম : ১১:৪৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩

শহরের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭০০-৭২০ টাকা। গ্রামের বাজারে ৬৮০ টাকা। এমন সময়ে ৫৮০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি করে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন কসাই নজরুল ইসলাম ওরফে কালু।

ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায়। বিষয়টি লোকমুখে এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ভিড় থাকছে তার দোকানে। এক বছর ধরে বাজারের চেয়ে কম দামে মাংস বিক্রি করছেন নশিপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী মোড়ে নজরুল ইসলাম ওরফে কালু কসাই।

জানা যায়, বগুড়া শহরের সাতমাথা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে শিমুলতলী মোড়। বাগবাড়ী সড়কের এই মোড় এখন পরিচিত হয়ে উঠেছে কালু কসাইয়ের ‘গোশত ঘর’ হিসেবে। শহর থেকে ৩০ টাকা অটোরিকশা ভাড়ায় ছুটছেন ক্রেতারা। যাতায়াতে ৬০ টাকা খরচ হলেও বাজারের চেয়ে সাশ্রয় হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা।

মঙ্গলবার সকালে শিমুলতলী মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়দের চেয়ে মাংস কেনার জন্য অন্য এলাকার মানুষের ভিড় বেশি। সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট থেকে এসেছেন মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বালুয়াহাটে প্রতি কেজি মাংস ৬৮০ টাকা। ফেসবুকে দেখেছি, এই মোড়ে মাংস ৫৮০ টাকা কেজি। এক কেজি মাংসে ১০০ টাকা কম। এ কারণে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছি। ১০০ টাকার তেল খরচ হলেও ৩০০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা মিয়া জানান, ‘বাইরের এত মানুষ প্রতিদিন মাংস কিনতে আসেন যে এলাকার মানুষ কালুর দোকান থেকে মাংস নিতে পারেন না। দূর-দূরান্তের মানুষ এলাকার অতিথি, এ জন্য তাদের আগে মাংস দিয়ে বিদায় করতে হয়। এলাকার যারা মাংস নিতে চান তারা আগে কালুকে বলে যান, পরে এসে মাংস নিয়ে যান।

কসাই নজরুল ইসলাম কালু জানান, প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি এই পেশায় জড়িত। এক বছর আগেও তিনি বাগবাড়ী বাজারে মাংস বিক্রি করতেন। কিন্তু গত বছর সেখানে টোল বাড়ানো হয়। এত টাকা কেন দিতে হবে, এ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তখনই তিনি হাটে দোকান না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বাড়ির পাশে শিমুলতলী মোড়ে দোকান বসান।

তিনি আরো জানান, ওই সময় হাটে মাংস বিক্রি হচ্ছিল ৫৫০ টাকা কেজি। তিনি তখন ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি শুরু করেন। তখন শহরে দাম ছিল ৬০০ টাকা কেজি। এই কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার দোকানে ক্রেতা বাড়তে থাকেন।

কালু জানান, আগে হাটে দোকান দিয়ে দিনে একটা গরুও বিক্রি হতো না। এখন সপ্তাহে অন্তত ২৫টা গরু বিক্রি হচ্ছে। চারজন কর্মচারীর মজুরি বাদ দিয়ে গরুপ্রতি ৫০০ টাকা টিকলেও মাসে ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকে। তিনি জানান, হাটের টোল যেখানে কম, সেসব এলাকার কসাইরা চাইলেই কম দামে মাংস বিক্রি করতে পারেন। এতে হয়তো লাভ কম হবে, কিন্তু মানুষের উপকার হবে।


প্রিন্ট