ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাক্ষী না আসায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল তিন দশকের অবদানে বিশেষ সম্মাননা পেলেন রানি মুখার্জি গণমাধ্যম স্বাধীন না হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না : রিজভী হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর এজবাস্টনে লজ্জার রেকর্ড পাকিস্তানের, প্রথম দিনেই লিড ইংল্যান্ডের বিশ্বে রেকর্ড উষ্ণতম মাস আগস্ট গাজায় ইসরাইলি হা/ম/লায় একই পরিবারের ৪ সদস্য নি/হত ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানিতে ১,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ: ধর্মমন্ত্রী বিএমইউতে আত্মহ/ত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত বরিশাল বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণে পাস করেছে ৭৯ এসএসসি পরীক্ষার্থী

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পিডি ডা: মো: আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পের পিডি ডা: মো: আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্ম্সাতের অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। অভিযোগটি বর্তমানে দুদকের যাচাই বাছাই সেলে রয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
দুদকের অভিযোগের বর্ণনায় জানাগেছে, সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পের পিডি ডা: মো: আনিছুর রহমান দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নানা কৌশলে প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমান প্রকল্পের স্টেমিটেড কস্ট ২২০ কোটি টাকা। মেয়াদ ৩০/০৬/২০২৩ ইং পর্যন্ত। অদ্যাবধি প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২০-২৫% । তিনি মুল কাজ না করে কেবল ডিপিপি সংশোধন ও কেনাকাটায় ব্যস্ত। অথচ: কাজগুলো করার কথা ছিলো প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ করার পর। তিনি অনুমোদিদ এপিপি অনুযায়ী ৪০ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করেছেন। যেমন: ভবিষ্যতে নির্মিত হবে ভবনের জন্য আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ ০৪ কোটি টাকা। ৬৫ টি জেলায় ট্রেনিং রুম মাটি ভরাট ,ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ বাবদ ২৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন দপ্তরে ফ্রিজ সরবরাহের জন্য ৩ কোটি ৪০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। বিভিন্ন দপ্তরে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ৪ কোটি ০৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ২৬ জেলায় ক্লোডরুম স্থাপন বাবদ ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বিভিন্ন দপ্তরে ডেক্সটপ কম্পিউটর সরবরাহের জন্য ১ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা, এসি ,ফটোকপিয়ার, ল্যাপটপ,বইপত্র ক্রয়ের জন্য ৫০ লাখ টাকা। এবং অন্যান্য মোট ৪০ কোটি টাকা খরচ করেছেন।
এসব খাতে নানা প্রকার কৌশল প্রযোগ করে তিনি সিংহভাগ টাকা আত্মসাত করেছেন। আর সেসব টাকা দিয়ে বসুন্ধরা ডি ব্লকে ২২০০ বর্গ ফুটের এবং ই-ব্লকে ১৬৫০ বর্গ ফুটের ২ টি ফ্ল্যাট কিনেছেন । মিরপুর-৬ শিয়াল বাড়ী এলাকায় ১৩৩৮ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। পুর্ব রাজাবাজার ফার্মগেট এলাকায় ২২০০ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর পাড়ায় ১০ কাঠা জায়গার ওপর বিশাল বাড়ী নির্মাণ করেছেন। নিজের ও পরিবারের ব্যবহারের জন্য ২ খানা লেটেষ্ট মডেলের গাড়ি ক্রয় করেছেন। তার নামে বেনামে ব্যাংক ও পোষ্ট অফিসে কোটি কোটি টাকা, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে। যা তার চাকুরী জীবনের আয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। দুদক সঠিকভাবে অনুসন্ধান করলেই তার থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়বে।
উল্লেখ যে, এর আগে ৩ টি প্রকল্পে কর্মকালীন সময়ে তিনি ব্যাপক দুর্নীতি করায় কর্তৃপক্ষ তাকে অপসারণ করে দুরবর্তী উপজেলায় বদলী করেন। ফলে অদ্যাবধি তার কোন প্রমোশন হয়নি। বর্তমানে তিনি নিজেকে সরকার সমর্থিত একজন কর্মকর্তা হিসাবে পরিচয় দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডি ডা: মো: আনিছুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলো কাল্পনিক এবং মনগড়া। সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পে কোন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। শতভাগ সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুদকে যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন তিনিও ভুয়া। আপনারা প্রয়োজনে অভিযোগকারীর মোবাইল ফোনে (কল) করে দেখতে পারেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাক্ষী না আসায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পিডি ডা: মো: আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

আপডেট টাইম : ০৬:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পের পিডি ডা: মো: আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্ম্সাতের অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। অভিযোগটি বর্তমানে দুদকের যাচাই বাছাই সেলে রয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
দুদকের অভিযোগের বর্ণনায় জানাগেছে, সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পের পিডি ডা: মো: আনিছুর রহমান দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নানা কৌশলে প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমান প্রকল্পের স্টেমিটেড কস্ট ২২০ কোটি টাকা। মেয়াদ ৩০/০৬/২০২৩ ইং পর্যন্ত। অদ্যাবধি প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২০-২৫% । তিনি মুল কাজ না করে কেবল ডিপিপি সংশোধন ও কেনাকাটায় ব্যস্ত। অথচ: কাজগুলো করার কথা ছিলো প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ করার পর। তিনি অনুমোদিদ এপিপি অনুযায়ী ৪০ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করেছেন। যেমন: ভবিষ্যতে নির্মিত হবে ভবনের জন্য আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ ০৪ কোটি টাকা। ৬৫ টি জেলায় ট্রেনিং রুম মাটি ভরাট ,ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ বাবদ ২৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন দপ্তরে ফ্রিজ সরবরাহের জন্য ৩ কোটি ৪০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। বিভিন্ন দপ্তরে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ৪ কোটি ০৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ২৬ জেলায় ক্লোডরুম স্থাপন বাবদ ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বিভিন্ন দপ্তরে ডেক্সটপ কম্পিউটর সরবরাহের জন্য ১ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা, এসি ,ফটোকপিয়ার, ল্যাপটপ,বইপত্র ক্রয়ের জন্য ৫০ লাখ টাকা। এবং অন্যান্য মোট ৪০ কোটি টাকা খরচ করেছেন।
এসব খাতে নানা প্রকার কৌশল প্রযোগ করে তিনি সিংহভাগ টাকা আত্মসাত করেছেন। আর সেসব টাকা দিয়ে বসুন্ধরা ডি ব্লকে ২২০০ বর্গ ফুটের এবং ই-ব্লকে ১৬৫০ বর্গ ফুটের ২ টি ফ্ল্যাট কিনেছেন । মিরপুর-৬ শিয়াল বাড়ী এলাকায় ১৩৩৮ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। পুর্ব রাজাবাজার ফার্মগেট এলাকায় ২২০০ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর পাড়ায় ১০ কাঠা জায়গার ওপর বিশাল বাড়ী নির্মাণ করেছেন। নিজের ও পরিবারের ব্যবহারের জন্য ২ খানা লেটেষ্ট মডেলের গাড়ি ক্রয় করেছেন। তার নামে বেনামে ব্যাংক ও পোষ্ট অফিসে কোটি কোটি টাকা, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে। যা তার চাকুরী জীবনের আয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। দুদক সঠিকভাবে অনুসন্ধান করলেই তার থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়বে।
উল্লেখ যে, এর আগে ৩ টি প্রকল্পে কর্মকালীন সময়ে তিনি ব্যাপক দুর্নীতি করায় কর্তৃপক্ষ তাকে অপসারণ করে দুরবর্তী উপজেলায় বদলী করেন। ফলে অদ্যাবধি তার কোন প্রমোশন হয়নি। বর্তমানে তিনি নিজেকে সরকার সমর্থিত একজন কর্মকর্তা হিসাবে পরিচয় দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডি ডা: মো: আনিছুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলো কাল্পনিক এবং মনগড়া। সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পে কোন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। শতভাগ সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুদকে যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন তিনিও ভুয়া। আপনারা প্রয়োজনে অভিযোগকারীর মোবাইল ফোনে (কল) করে দেখতে পারেন।


প্রিন্ট