পছন্দের জীবনসঙ্গী বেছে নিতে এক ব্যতিক্রমী মেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা জড়ো হয়েছিলেন। তরুণ-তরুণী ছাড়াও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন বয়সী মানুষের পাশাপাশি মেলায় বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
উৎসবমুখর পরিবেশে বুধবার (২৬ অক্টোবর) দিনাজপুরের বীরগঞ্জের গোপালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রম ধর্মী এ মেলা। স্থানীয় লোকজনের কাছে মেলাটি বাসিয়াহাট বা বউমেলা নামে পরিচিত।
প্রায় ২০০ বছর ধরে এ মেলার আয়োজন করছেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। সাধারণত দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরদিন এ মেলা বসে। এ মেলার বিশেষ আকর্ষণ হলো: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েরা এখান থেকে পছন্দের জীবনসঙ্গী খুঁজে নিতে পারেন। এখানে কোনো পাত্র বা পাত্রী পছন্দ হলে পরিবারের মাধ্যমে ধুমধামে বিয়ে দেয়া হয়। সময়ের ধারাবাহিকতায় মেলার ঐতিহ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে।
নীলফামারী জেলা হতে আসা রবীন্দ্র সরেন বলেন, ‘সামাজিক এবং আর্থিক অবস্থা পরিবর্তনের কারণে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। প্রকাশ্যে জীবনসঙ্গী বেছে নিতেও অনেকে অনাগ্রহ দেখা যায়।’
মেলায় আসা পঞ্চগড়ের বাসিন্দা রীতা হেমরম বলেন, ‘বর্তমান সমাজে আধুনিকতার ছোঁয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তরুণদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছে। আদিবাসীদের জীবন যাত্রায় এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে। বেশিরভাগ আদিবাসী ছেলে মেয়েরা এখন বিদ্যালয়মুখী হয়েছে। তাই পুরনো ঐতিহ্যগুলি অনেকটাই মুছে যেতে বসেছে।’
বীরগঞ্জ আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির নেতা শ্যামলাল মুরমু বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরা এ মেলা শুরু করে, আমরা শুধু ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যাচ্ছি। তবে কবে থেকে এ মেলার প্রচলন শুরু হয়েছে, সেটি সঠিকভাবে বলা যাবে না। আনুমানিকভাবে ২০০ বছর পূর্ব থেকে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।’
মেলায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিলো। বীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম জানান, মেলায় যেন কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল পর্যাপ্ত।
মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী হেলাল বলেন, ‘মেলাটি আমার পূর্ব পুরুষদের আমল হতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর মেলাকে আরও আনন্দ মুখর এবং বর্ণিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছি।’
মেলা পরিদর্শন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপাল বলেন, ‘এটি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী মেলা। যুগ যুগ ধরে আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের ঐতিহ্য বজায় রেখে এ মেলায় অংশ নেয়।’
মেলাকে কেন্দ্র করে বিক্রেতারা নানা রকমের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন।
আয়োজকরা জানান, দিনাজপুর ছাড়াও ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ এ মেলায় দেখতে আসেন।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















