পঞ্চগড়ে জেলা শহরের একটি বসতবাড়ি থেকে বিরল প্রজাতির একটি গন্ধগোকুল নামের প্রাণী উদ্ধার করেছে বন বিভাগের কর্মীরা। উদ্ধারের পর ওই প্রাণীটিকে জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে পঞ্চগড় পৌর এলাকার মসজিদ পাড়া এলাকার আশরাফুল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে থাকা কবুতরের খাঁচা থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা ও বন বিভাগের কর্মীরা বলছেন, আশরাফুলের বাড়ির সব সদস্য বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যায়। পরদিন শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে কবুতরের খাঁচায় একটি ভিন্ন প্রাণী দেখতে পান। এর মাঝে প্রাণীটি দুইটি কবুতরকে মেরে রেখে আরো দুইটি কবুতর খেয়ে নেয়। এর মাঝে খাঁচায় আটকা পড়লে আজব প্রাণী আটক হওয়ার বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমবারের মতো প্রাণীটিকে দেখতে অনেকই ভিড় জমান ওই বাড়িতে। এদিকে বিকেলে খবর পেয়ে পঞ্চগড় বন বিভাগের কর্মীরা প্রাণীটিকে উদ্ধার করে রাতে সদরের লাঠুয়াপাড়া এলাকায় একটি জঙ্গলে প্রাণীতে অবমুক্ত করে।
বন বিভাগের কর্মীরা বলছেন, প্রাণীটির নাম গন্ধগোকুল। আর এটির ওজন প্রায় ৮ কেজি হলেও লম্বায় আড়াই ফিট ও উচ্চতায় দুই ফিট।
এ বিষয়ে বাড়ির মালিক আশরাফুলের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি খাঁচার ভেতর দুইটি কবুতর মরে আছে। আর দুটিকে খাচ্ছে প্রাণীটি। এরকম প্রাণী আগে দেখিনি, আমরা দেখে অবাক।
আশরাফুলের ছেলে আতিক বলেন, শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি কবুতরের খাঁচার ভেতর এই আজব প্রাণীটি। খাঁচায় থাকা চারটি কবুতরের মধ্যে দুইটিকে খেয়ে ফেলে দুইটি কবুতরকে মেরে ফেলে রেখেছে। পরে প্রাণীটির সম্পর্কে এলাকার মানুষের কাছে জানার চেষ্টা করি। এর মাঝে বন বিভাগ খবর পেয়ে খাঁচা থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে। তবে বন বিভাগের লোক আসার পর আমরা জানতে পারি এটি গন্ধগোকুল।
পঞ্চগড়ের সামাজিক বনায়ন ও নার্সারি প্রশিক্ষ কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মধুসুদন বর্মন বলেন, এই বিরল প্রজাতির প্রাণীটি প্রায় বিলুপ্ত। খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে প্রাণীটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদরের লাঠুয়াপাড়া এলাকায় একটি বনে অবমুক্ত করি। মূলত এটি অরক্ষিত এবং নিশাচর প্রাণী হওয়ায় প্রাণীটিকে আবার প্রকৃতির মাঝে ছেড়ে দেয়া হয়।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 

























