ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েমেন হামলার পরিকল্পনা ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি ইয়েমেনে সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গোপন আলোচনা ফাঁস হয়েছে। কারণ ওই আলোচনা সংক্রান্ত গ্রুপ চ্যাটে ভুল করে এক সাংবাদিককে যুক্ত করা হয়েছিল। বিষয়টি হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করার পর, ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক’র এক সাংবাদিকের সাথে ভুল করে ইয়েমেন যুদ্ধ পরিকল্পনা শেয়ার করার বিষয়টি স্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। আটলান্টিকে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর হোয়াইট হাউস ভুল স্বীকার করে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মূলত গত কয়েক দিন ধরেই ইয়েমেনে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর সেখানে যে হামলা চালানো হবে, তা আগেই জেনে গিয়েছিলেন এক সাংবাদিক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি ভুলের কারণেই ওই কথা আগেই জেনে যান ওই সাংবাদিক।

কারণ ওই গ্রুপেরই সদস্য ছিলেন ‘দি আটলান্টিক’ ম্যাগাজিনের এডিটর-ইন-চিফ জেফরি গোল্ডবার্গ। ওই ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে সেই কথা জানানোর পরে নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করে নেয় হোয়াইট হাউস। এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

সোমবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের ওপর আমেরিকার আক্রমণের কিছুক্ষণ আগে একটি বার্তা ভুল করে একজন সাংবাদিকসহ অন্যদের কাছে যুদ্ধ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন। এই ঘটনায় ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতারা দ্রুত এই ভুলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার লঙ্ঘন এবং আইন লঙ্ঘন যা কংগ্রেস কর্তৃক তদন্ত করা উচিত।

সংবাদমাধ্যম বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এ ধরনের তথ্য যদি শত্রুদের হাতে পড়ে, তাহলে তা কেবল জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এনক্রিপ্টেড চ্যাট অ্যাপ ‘সিগনাল’-এ যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েমেনে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ‘দি আটলান্টিক’ ম্যাগাজিনের জেফরি গোল্ডবার্গ জানান, ভুলবশত তাকে এই গোপন গ্রুপ চ্যাটে যুক্ত করেন হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজ।

গত ১৫ মার্চ ইয়েমেনে হামলা শুরু হয়। হামলা শুরুর প্রায় ২ ঘণ্টা আগে সেই সম্পর্কিত সব তথ্য ওই গ্রুপে দেওয়া হয়েছিল। কখন হামলা হবে, কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কোথায় হামলা হবে সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয় সেখানে।

ম্যাগাজিনের এডিটর-ইন-চিফ আরও জানিয়েছেন, ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টি আগেই জেনেছিলেন তিনি। কারণ, যুদ্ধের পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি তথ্য তাকে দিয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। যুদ্ধের যাবতীয় খুঁটিনাটি সম্পর্কে আগাম তথ্য তিনি পেয়েছিলেন।

গোল্ডবার্গ আরও জানিয়েছেন, ওই চ্যাট গ্রুপে আছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সিআইএ-র ডিরেক্টর জন র‍্যাটক্লিফ, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের ডিরেক্টর তুলসী গ্যাবার্ড-সহ জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজ। কীভাবে নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত না থাকা এক ব্যক্তির নাম্বার ওই গ্রুপে যুক্ত হয়েছে তা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক মুখপাত্র বলেছেন, “এই মেসেজ থ্রেডটি আসল বলেই মনে হচ্ছে”।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভুল নিয়ে সরব হয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের সদস্যরা। এই বিষয়টিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন তারা। তাদের মতে, এই আইন লঙ্ঘন কংগ্রেস কর্তৃক তদন্ত করা উচিত।

সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার বলেন, “এই প্রশাসন গোপন তথ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বহীন আচরণ করছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”

এছাড়া এই ভুলের জন্য রিপাবলিকান নেতারাও সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেসম্যান ডন বেকন বলেন, “এ ধরনের তথ্য অনিরাপদ প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা উচিত হয়নি। রাশিয়া ও চীন অবশ্যই এসব মনিটর করছে।”


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েমেন হামলার পরিকল্পনা ফাঁস

আপডেট টাইম : ০৫:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি ইয়েমেনে সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গোপন আলোচনা ফাঁস হয়েছে। কারণ ওই আলোচনা সংক্রান্ত গ্রুপ চ্যাটে ভুল করে এক সাংবাদিককে যুক্ত করা হয়েছিল। বিষয়টি হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করার পর, ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক’র এক সাংবাদিকের সাথে ভুল করে ইয়েমেন যুদ্ধ পরিকল্পনা শেয়ার করার বিষয়টি স্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। আটলান্টিকে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর হোয়াইট হাউস ভুল স্বীকার করে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মূলত গত কয়েক দিন ধরেই ইয়েমেনে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর সেখানে যে হামলা চালানো হবে, তা আগেই জেনে গিয়েছিলেন এক সাংবাদিক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি ভুলের কারণেই ওই কথা আগেই জেনে যান ওই সাংবাদিক।

কারণ ওই গ্রুপেরই সদস্য ছিলেন ‘দি আটলান্টিক’ ম্যাগাজিনের এডিটর-ইন-চিফ জেফরি গোল্ডবার্গ। ওই ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে সেই কথা জানানোর পরে নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করে নেয় হোয়াইট হাউস। এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

সোমবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের ওপর আমেরিকার আক্রমণের কিছুক্ষণ আগে একটি বার্তা ভুল করে একজন সাংবাদিকসহ অন্যদের কাছে যুদ্ধ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন। এই ঘটনায় ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতারা দ্রুত এই ভুলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার লঙ্ঘন এবং আইন লঙ্ঘন যা কংগ্রেস কর্তৃক তদন্ত করা উচিত।

সংবাদমাধ্যম বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এ ধরনের তথ্য যদি শত্রুদের হাতে পড়ে, তাহলে তা কেবল জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এনক্রিপ্টেড চ্যাট অ্যাপ ‘সিগনাল’-এ যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েমেনে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ‘দি আটলান্টিক’ ম্যাগাজিনের জেফরি গোল্ডবার্গ জানান, ভুলবশত তাকে এই গোপন গ্রুপ চ্যাটে যুক্ত করেন হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজ।

গত ১৫ মার্চ ইয়েমেনে হামলা শুরু হয়। হামলা শুরুর প্রায় ২ ঘণ্টা আগে সেই সম্পর্কিত সব তথ্য ওই গ্রুপে দেওয়া হয়েছিল। কখন হামলা হবে, কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কোথায় হামলা হবে সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয় সেখানে।

ম্যাগাজিনের এডিটর-ইন-চিফ আরও জানিয়েছেন, ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টি আগেই জেনেছিলেন তিনি। কারণ, যুদ্ধের পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি তথ্য তাকে দিয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। যুদ্ধের যাবতীয় খুঁটিনাটি সম্পর্কে আগাম তথ্য তিনি পেয়েছিলেন।

গোল্ডবার্গ আরও জানিয়েছেন, ওই চ্যাট গ্রুপে আছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সিআইএ-র ডিরেক্টর জন র‍্যাটক্লিফ, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের ডিরেক্টর তুলসী গ্যাবার্ড-সহ জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজ। কীভাবে নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত না থাকা এক ব্যক্তির নাম্বার ওই গ্রুপে যুক্ত হয়েছে তা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক মুখপাত্র বলেছেন, “এই মেসেজ থ্রেডটি আসল বলেই মনে হচ্ছে”।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভুল নিয়ে সরব হয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের সদস্যরা। এই বিষয়টিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন তারা। তাদের মতে, এই আইন লঙ্ঘন কংগ্রেস কর্তৃক তদন্ত করা উচিত।

সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার বলেন, “এই প্রশাসন গোপন তথ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বহীন আচরণ করছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”

এছাড়া এই ভুলের জন্য রিপাবলিকান নেতারাও সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেসম্যান ডন বেকন বলেন, “এ ধরনের তথ্য অনিরাপদ প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা উচিত হয়নি। রাশিয়া ও চীন অবশ্যই এসব মনিটর করছে।”


প্রিন্ট