ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

ভাষার মর্যাদা ও গণতন্ত্রের অঙ্গীকারে একুশে প্রহর: নেত্রকোনায় শ্রদ্ধা, শপথ ও ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর প্রত্যয়

সৈয়দ সময় , নেত্রকোনা :

 

 

 

অমর একুশের প্রথম প্রহরেই নীরবতা ভেঙে ফুলে ফুলে ঢেকে যায় নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। রাত ১২টা ১ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ। ভাবগাম্ভীর্য, শোক আর গর্বের মিশেলে দিনভর চলে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি।

শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ডা. আনোয়ারুল হক। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, “শহিদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা আজ বিশ্বস্বীকৃত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এটি আমাদের গর্ব। তবে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলার পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ এখনো নিশ্চিত হয়নি; সরকার তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে।”

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একুশের কর্মসূচি সফল হয়েছে। “নতুন আঙ্গিক ও উদ্দীপনায় মানুষ দিনটি পালন করছে,” বলেন তিনি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “একুশের চেতনাকে ধারণ করে তা সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এদিন নেত্রকোনা পৌর প্রশাসক মো আরিফুল ইসলাম সরদার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধায় ভাষা শহিদদের স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা ও শপথের এ দিনে উচ্চারিত হয় একটাই প্রতিজ্ঞা বাংলার মর্যাদা রক্ষা আর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের অঙ্গীকার।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

ভাষার মর্যাদা ও গণতন্ত্রের অঙ্গীকারে একুশে প্রহর: নেত্রকোনায় শ্রদ্ধা, শপথ ও ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর প্রত্যয়

আপডেট টাইম : ০২:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৈয়দ সময় , নেত্রকোনা :

 

 

 

অমর একুশের প্রথম প্রহরেই নীরবতা ভেঙে ফুলে ফুলে ঢেকে যায় নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। রাত ১২টা ১ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ। ভাবগাম্ভীর্য, শোক আর গর্বের মিশেলে দিনভর চলে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি।

শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ডা. আনোয়ারুল হক। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, “শহিদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা আজ বিশ্বস্বীকৃত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এটি আমাদের গর্ব। তবে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলার পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ এখনো নিশ্চিত হয়নি; সরকার তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে।”

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একুশের কর্মসূচি সফল হয়েছে। “নতুন আঙ্গিক ও উদ্দীপনায় মানুষ দিনটি পালন করছে,” বলেন তিনি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “একুশের চেতনাকে ধারণ করে তা সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এদিন নেত্রকোনা পৌর প্রশাসক মো আরিফুল ইসলাম সরদার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধায় ভাষা শহিদদের স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা ও শপথের এ দিনে উচ্চারিত হয় একটাই প্রতিজ্ঞা বাংলার মর্যাদা রক্ষা আর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের অঙ্গীকার।


প্রিন্ট