ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম পটুয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার

দিনাজপুরের বিরামপুরে সরকারি ইউক্যালিপটাস গাছ কর্তনের পর আত্মসাতের অভিযোগ: রহস্য ঘনীভূত

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

 

 

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের কলেজ রোডে সরকারি ইউক্যালিপটাস (Eucalyptus) গাছ কর্তনের পর তা আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি—রাস্তা উন্নয়নের নামে সরকারি সম্পদ লুটপাট করে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যা জানা গেল সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,কয়েকদিন পূর্বে কলেজ রোডের পাশে সরকারি নম্বরিং করা ৪টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা হয়। গাছগুলো কাটার পর সেগুলো কাটলা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সংরক্ষিত ছিল বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে কাটলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুদ জানান, “এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।”তাদের এমন বক্তব্যে ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। স্থানীয়দের বিস্ফোরক অভিযোগ এলাকার সচেতন নাগরিকরা জানান,রাস্তা উন্নয়নের অজুহাতে সরকারি সম্পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত ও নম্বরিং করা গাছ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য—“সরকারি সম্পদ জনগণের। উন্নয়নের নামে যদি লুটপাট হয়,তবে তা মেনে নেওয়া যায় না। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।” সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্যে অসংগতি বিরামপুর উপজেলা ফরেস্ট অফিসের কর্মকর্তা সুলতান জানান, কাটলা ইউনিয়নের রাস্তার ৪টি গাছ কাটা হয়েছে। অপরদিকে, Local Government Engineering Department (এলজিইডি) বিরামপুর উপজেলার সহকারী কর্মকর্তা সুরুজ আলী মুঠোফোনে বলেন—“আমার সামনেই কাটা গাছগুলো ফরেস্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুলতান কাটলার বিদ্যুৎ নামের ব্যক্তির গাড়িতে নিয়ে যান।”এই দুই বক্তব্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। যদি গাছগুলো সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জব্দ বা সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে,তবে তার লিখিত নথিপত্র কোথায়? কোন প্রক্রিয়ায় পরিবহন করা হয়েছে? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। সরকারি বিধি অনুযায়ী কী বলে আইন?

বাংলাদেশের বন আইন ও সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিধি অনুযায়ী—নম্বরিং করা সরকারি গাছ কর্তন করতে হলে যথাযথ অনুমোদন আবশ্যক।

গাছ কর্তনের পর নিলাম বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত হতে হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লিখিত অনুমতি ও রশিদ ছাড়া পরিবহন সম্পূর্ণ বেআইনি।

সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,যদি প্রকৃতপক্ষে গাছ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ লুটের শামিল—যা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন—ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর নজরদারি সরকারি সম্পদ জনগণের সম্পদ। উন্নয়নের নামে যদি অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করা হয়,তবে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কত দ্রুত এবং কতটা নিরপেক্ষভাবে এই অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

দিনাজপুরের বিরামপুরে সরকারি ইউক্যালিপটাস গাছ কর্তনের পর আত্মসাতের অভিযোগ: রহস্য ঘনীভূত

আপডেট টাইম : ০৯:১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

 

 

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের কলেজ রোডে সরকারি ইউক্যালিপটাস (Eucalyptus) গাছ কর্তনের পর তা আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি—রাস্তা উন্নয়নের নামে সরকারি সম্পদ লুটপাট করে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যা জানা গেল সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,কয়েকদিন পূর্বে কলেজ রোডের পাশে সরকারি নম্বরিং করা ৪টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা হয়। গাছগুলো কাটার পর সেগুলো কাটলা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সংরক্ষিত ছিল বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে কাটলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুদ জানান, “এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।”তাদের এমন বক্তব্যে ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। স্থানীয়দের বিস্ফোরক অভিযোগ এলাকার সচেতন নাগরিকরা জানান,রাস্তা উন্নয়নের অজুহাতে সরকারি সম্পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত ও নম্বরিং করা গাছ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য—“সরকারি সম্পদ জনগণের। উন্নয়নের নামে যদি লুটপাট হয়,তবে তা মেনে নেওয়া যায় না। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।” সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্যে অসংগতি বিরামপুর উপজেলা ফরেস্ট অফিসের কর্মকর্তা সুলতান জানান, কাটলা ইউনিয়নের রাস্তার ৪টি গাছ কাটা হয়েছে। অপরদিকে, Local Government Engineering Department (এলজিইডি) বিরামপুর উপজেলার সহকারী কর্মকর্তা সুরুজ আলী মুঠোফোনে বলেন—“আমার সামনেই কাটা গাছগুলো ফরেস্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুলতান কাটলার বিদ্যুৎ নামের ব্যক্তির গাড়িতে নিয়ে যান।”এই দুই বক্তব্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। যদি গাছগুলো সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জব্দ বা সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে,তবে তার লিখিত নথিপত্র কোথায়? কোন প্রক্রিয়ায় পরিবহন করা হয়েছে? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। সরকারি বিধি অনুযায়ী কী বলে আইন?

বাংলাদেশের বন আইন ও সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিধি অনুযায়ী—নম্বরিং করা সরকারি গাছ কর্তন করতে হলে যথাযথ অনুমোদন আবশ্যক।

গাছ কর্তনের পর নিলাম বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত হতে হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লিখিত অনুমতি ও রশিদ ছাড়া পরিবহন সম্পূর্ণ বেআইনি।

সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,যদি প্রকৃতপক্ষে গাছ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ লুটের শামিল—যা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন—ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর নজরদারি সরকারি সম্পদ জনগণের সম্পদ। উন্নয়নের নামে যদি অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করা হয়,তবে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কত দ্রুত এবং কতটা নিরপেক্ষভাবে এই অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করে।


প্রিন্ট