ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু

কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এলপিজি গ্যাস পাম্পের আগুনে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিম নামে আহত ব্যক্তি গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যু বরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তারই বড় ভাই সলিম উল্লাহ।

আব্দুর রহিম কলাতলী এলাকার মৃত মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছেলে। তার শরীরের ৫০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন বাসস’কে জানিয়েছেন, আগুনে এ পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সাকলে এই ঘটনায় প্রথম মারা যাওয়া আবু তাহেরের নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডে দ্বগ্ধ আবু তাহের ৩ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

আবু তাহের (৪২) কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ধরে যায়।

বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। আগুনে ৩০টির মতো গাড়ি, ৪টি বাড়িসহ নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধসহ আহত হন ১৫ জন। এরমধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানিয়েছেন, গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে যেখানে চিকিৎসাধীন ৬ জনের মধ্যে আবু তাহের ৯০ শতাংশ, রহিম ৫০ শতাংশ,  সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ, মেহেদি আর মোতাহের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

আগুনের ঘটনায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম। কমিটি ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

রোববার রাতে আগুনের ঘটনায় পাম্প মালিক নুরুল আলম ওরফে এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিস্ফোরণ অধিদপ্তর। কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস.এম সাখাওয়াত হোসেন বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আগুনের ঘটনার পর পরিদর্শন করে যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে গ্যাস পাম্প স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সর্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইন্সেন নেন নি মালিক এন আলম। যা বিস্ফোরণ আইনে অপরাধ।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু

আপডেট টাইম : ১২:০৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এলপিজি গ্যাস পাম্পের আগুনে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিম নামে আহত ব্যক্তি গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যু বরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তারই বড় ভাই সলিম উল্লাহ।

আব্দুর রহিম কলাতলী এলাকার মৃত মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছেলে। তার শরীরের ৫০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন বাসস’কে জানিয়েছেন, আগুনে এ পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সাকলে এই ঘটনায় প্রথম মারা যাওয়া আবু তাহেরের নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডে দ্বগ্ধ আবু তাহের ৩ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

আবু তাহের (৪২) কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ধরে যায়।

বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। আগুনে ৩০টির মতো গাড়ি, ৪টি বাড়িসহ নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধসহ আহত হন ১৫ জন। এরমধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানিয়েছেন, গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে যেখানে চিকিৎসাধীন ৬ জনের মধ্যে আবু তাহের ৯০ শতাংশ, রহিম ৫০ শতাংশ,  সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ, মেহেদি আর মোতাহের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

আগুনের ঘটনায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম। কমিটি ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

রোববার রাতে আগুনের ঘটনায় পাম্প মালিক নুরুল আলম ওরফে এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিস্ফোরণ অধিদপ্তর। কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস.এম সাখাওয়াত হোসেন বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আগুনের ঘটনার পর পরিদর্শন করে যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে গ্যাস পাম্প স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সর্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইন্সেন নেন নি মালিক এন আলম। যা বিস্ফোরণ আইনে অপরাধ।


প্রিন্ট