ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

অদম্য সাহস আর ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে সফল নারী উদ্যোক্তা রুনা লায়লা

মো: আজিজুর রহমান, নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ

 

 

পরিশ্রম, অদম্য সাহস আর ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে নড়াইলে পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন নারী উদ্যোক্তা রুনা লায়লা। সীমিত পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও আধুনিক ব্যবস্থাপনা আর নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি এখন একজন স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হিসেবে স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন।জানা যায়, কয়েক বছর আগে নড়াইল জেলা পরিবার ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ছোট পরিসরে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি পালনের মাধ্যমে রুনা লায়লার যাত্রা শুরু হয়।

 

এরপর অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও নিজের মেধা খাটিয়ে ধীরে ধীরে খামারটি বড় করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে ব্রয়লার ও লেয়ারের পাশাপাশি দেশি মুরগি, কবুতর, হাঁস ও কোয়েল পাখিও রয়েছে। বিশেষ করে ওষুধি গুণসম্পন্ন কাদাকনাথ ও ফাউমী জাতের মুরগি তার খামারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।সফলতার পথটি রুনা লায়লার জন্য সহজ ছিল না। তিনি জানান, শুরুতে অনেক সামাজিক ও প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এমনকি তার স্বামী স্কুল শিক্ষক ইউনুছ আলী সুমন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে খামারের কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে দমে যাননি তিনি। বর্তমানে খামারটি আবার সচল হয়েছে এবং স্থানীয় বাজারে নিয়মিত ডিম ও মুরগি সরবরাহ করা হচ্ছে।​রুনা লায়লা বলেন,শুরুতে অনেক বাধা ছিল।প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুকরণ করে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছি। এখন সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয় করতে পারছি।

আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

​খামারে নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম খাদ্য এবং সময়মতো টিকাদানের মাধ্যমে মুরগির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় উৎপাদনও বেড়েছে বহুগুণ। তবে রুনা লায়লার মতে, সরকারি অর্থ সহায়তা বা সহজ শর্তে বড় অংকের ঋণ পেলে খামারটিকে আরও আধুনিক ও বিশাল পরিসরে গড়ে তোলা সম্ভব হতো।এই সফলতার বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক এলাহী বলেন, “রুনা লায়লা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ গ্রহণ করেছেন। তার অদম্য ইচ্ছা তাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় পরিসরে ঋণ সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”

​স্থানীয়রা মনে করছেন, রুনা লায়লার এই সাফল্য নড়াইল জেলার বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কঠোর পরিশ্রম করলে যে ঘরে বসেই ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব, তা তিনি প্রমাণ করে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

অদম্য সাহস আর ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে সফল নারী উদ্যোক্তা রুনা লায়লা

আপডেট টাইম : ০২:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মো: আজিজুর রহমান, নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ

 

 

পরিশ্রম, অদম্য সাহস আর ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে নড়াইলে পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন নারী উদ্যোক্তা রুনা লায়লা। সীমিত পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও আধুনিক ব্যবস্থাপনা আর নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি এখন একজন স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হিসেবে স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন।জানা যায়, কয়েক বছর আগে নড়াইল জেলা পরিবার ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ছোট পরিসরে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি পালনের মাধ্যমে রুনা লায়লার যাত্রা শুরু হয়।

 

এরপর অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও নিজের মেধা খাটিয়ে ধীরে ধীরে খামারটি বড় করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে ব্রয়লার ও লেয়ারের পাশাপাশি দেশি মুরগি, কবুতর, হাঁস ও কোয়েল পাখিও রয়েছে। বিশেষ করে ওষুধি গুণসম্পন্ন কাদাকনাথ ও ফাউমী জাতের মুরগি তার খামারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।সফলতার পথটি রুনা লায়লার জন্য সহজ ছিল না। তিনি জানান, শুরুতে অনেক সামাজিক ও প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এমনকি তার স্বামী স্কুল শিক্ষক ইউনুছ আলী সুমন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে খামারের কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে দমে যাননি তিনি। বর্তমানে খামারটি আবার সচল হয়েছে এবং স্থানীয় বাজারে নিয়মিত ডিম ও মুরগি সরবরাহ করা হচ্ছে।​রুনা লায়লা বলেন,শুরুতে অনেক বাধা ছিল।প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুকরণ করে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছি। এখন সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয় করতে পারছি।

আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

​খামারে নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম খাদ্য এবং সময়মতো টিকাদানের মাধ্যমে মুরগির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় উৎপাদনও বেড়েছে বহুগুণ। তবে রুনা লায়লার মতে, সরকারি অর্থ সহায়তা বা সহজ শর্তে বড় অংকের ঋণ পেলে খামারটিকে আরও আধুনিক ও বিশাল পরিসরে গড়ে তোলা সম্ভব হতো।এই সফলতার বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক এলাহী বলেন, “রুনা লায়লা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ গ্রহণ করেছেন। তার অদম্য ইচ্ছা তাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় পরিসরে ঋণ সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”

​স্থানীয়রা মনে করছেন, রুনা লায়লার এই সাফল্য নড়াইল জেলার বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কঠোর পরিশ্রম করলে যে ঘরে বসেই ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব, তা তিনি প্রমাণ করে।


প্রিন্ট