ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

রাজাপুরে কাঁচামাল ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

 

 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠী বাজারে চাঁদা না দেওয়ায় মো. আল-আমীন (২৮) নামে এক কাঁচামাল (তরিতরকারি) ব্যবসায়ীকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আলোচিত মনু সিকদারের নেতৃত্বাধীন একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শনিবার (৭ মার্চ) রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী মো. আল-আমীন উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং নৈকাঠী এলাকার মোকসেদ আলী হাওলাদারের ছেলে। অভিযুক্ত মাওদুদ সিকদার ওরফে মনু সিকদার একই এলাকার বেলায়েত সিকদার (তোতা সিকদার)-এর ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, সাতুরিয়া ইউনিয়নে মনু সিকদারের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে। স্থানীয় নুরুজ্জামানসহ কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. আল-আমীনসহ একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় চাঁদা আদায় করা হয়েছে। সাতুরিয়া ইউনিয়নের মধ্যে কেউ ব্যবসা পরিচালনা করলে তাকে এই চক্রকে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর, বাড়িঘরে হামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সবাই ভয়ে কোন প্রতিবাদ না করেই ব্যবসা ও জীবন বাঁচানোর জন্য চাঁদা দিতেন। এরই মধ্যে কেউ কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশের কোন সহযোগিতা পায়নি উল্টো মনু সিকদারের দল তাদের তাড়িয়ে বেরাতে ফলে পরবর্তীতে আর কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি।

 

ভুক্তভোগী মো. আল-আমীন জানান, কিছুদিন আগে মনু সিকদারের লোকজন তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে বাজারে তার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যস্থতায় বাধ্য হয়ে তিনি ১০ হাজার টাকা দেন।

তিনি আরও জানান, গত বুধবার (৪ মার্চ) আবারও তার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে ওই দিন সকালে নৈকাঠী বাজারে মনু সিকদারসহ কয়েকজন তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

আল-আমীনের দাবি, একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মনু সিকদার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবলসহ তার বসতবাড়ি এবং বড় ভাই শহিদুলের বাড়িতে হামলা চালায়। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভয়ে তার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও জানান।

 

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মাওদুদ সিকদার ওরফে মনু সিকদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই এবং কারো কাছ থেকে চাঁদা নেই না।”

 

এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

রাজাপুরে কাঁচামাল ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৩:২০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

 

 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠী বাজারে চাঁদা না দেওয়ায় মো. আল-আমীন (২৮) নামে এক কাঁচামাল (তরিতরকারি) ব্যবসায়ীকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আলোচিত মনু সিকদারের নেতৃত্বাধীন একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শনিবার (৭ মার্চ) রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী মো. আল-আমীন উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং নৈকাঠী এলাকার মোকসেদ আলী হাওলাদারের ছেলে। অভিযুক্ত মাওদুদ সিকদার ওরফে মনু সিকদার একই এলাকার বেলায়েত সিকদার (তোতা সিকদার)-এর ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, সাতুরিয়া ইউনিয়নে মনু সিকদারের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে। স্থানীয় নুরুজ্জামানসহ কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. আল-আমীনসহ একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় চাঁদা আদায় করা হয়েছে। সাতুরিয়া ইউনিয়নের মধ্যে কেউ ব্যবসা পরিচালনা করলে তাকে এই চক্রকে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর, বাড়িঘরে হামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সবাই ভয়ে কোন প্রতিবাদ না করেই ব্যবসা ও জীবন বাঁচানোর জন্য চাঁদা দিতেন। এরই মধ্যে কেউ কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশের কোন সহযোগিতা পায়নি উল্টো মনু সিকদারের দল তাদের তাড়িয়ে বেরাতে ফলে পরবর্তীতে আর কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি।

 

ভুক্তভোগী মো. আল-আমীন জানান, কিছুদিন আগে মনু সিকদারের লোকজন তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে বাজারে তার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যস্থতায় বাধ্য হয়ে তিনি ১০ হাজার টাকা দেন।

তিনি আরও জানান, গত বুধবার (৪ মার্চ) আবারও তার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে ওই দিন সকালে নৈকাঠী বাজারে মনু সিকদারসহ কয়েকজন তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

আল-আমীনের দাবি, একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মনু সিকদার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবলসহ তার বসতবাড়ি এবং বড় ভাই শহিদুলের বাড়িতে হামলা চালায়। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভয়ে তার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও জানান।

 

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মাওদুদ সিকদার ওরফে মনু সিকদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই এবং কারো কাছ থেকে চাঁদা নেই না।”

 

এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 


প্রিন্ট