ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

ঝালকাঠিতে হাদির পরিবারের সংবাদ সম্মেলন: শুধু শুটার নয়, পুরো চক্রের বিচার দাবি

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহতের বোন মাসুমা হাদি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনার পর কীভাবে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেল সেটিও এখনো রহস্যজনক রয়ে গেছে। তবে গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত।

হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, দায়সারা কোনো চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় নিহত ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবার সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

মো. নাঈম হাসান ঈমন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
মোবাইল ০১৭৪৭-৯৮৬৩৫৮ /০১৭৫৬-৫৫৫৩২১
তারিখ: ৯ মার্চ ২০২৬


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

ঝালকাঠিতে হাদির পরিবারের সংবাদ সম্মেলন: শুধু শুটার নয়, পুরো চক্রের বিচার দাবি

আপডেট টাইম : ০২:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহতের বোন মাসুমা হাদি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনার পর কীভাবে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেল সেটিও এখনো রহস্যজনক রয়ে গেছে। তবে গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত।

হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, দায়সারা কোনো চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় নিহত ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবার সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

মো. নাঈম হাসান ঈমন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
মোবাইল ০১৭৪৭-৯৮৬৩৫৮ /০১৭৫৬-৫৫৫৩২১
তারিখ: ৯ মার্চ ২০২৬


প্রিন্ট