ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

ঝালকাঠিতে হাদির পরিবারের সংবাদ সম্মেলন: শুধু শুটার নয়, পুরো চক্রের বিচার দাবি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহতের বোন মাসুমা হাদি।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনার পর কীভাবে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেল সেটিও এখনো রহস্যজনক রয়ে গেছে। তবে গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত।

হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, দায়সারা কোনো চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় নিহত ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবার সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

ঝালকাঠিতে হাদির পরিবারের সংবাদ সম্মেলন: শুধু শুটার নয়, পুরো চক্রের বিচার দাবি

আপডেট টাইম : ০৩:১৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহতের বোন মাসুমা হাদি।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনার পর কীভাবে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেল সেটিও এখনো রহস্যজনক রয়ে গেছে। তবে গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত।

হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, দায়সারা কোনো চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় নিহত ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবার সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।


প্রিন্ট