ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

নিম্নআয়ের পরিবারের সুরক্ষায় ডিএনসিসি’র ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ শুরু

রাজধানীর নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।

‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় আজ রাজধানীর মিরপুরের ওলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ি বস্তির উপকারভোগীদের মধ্যে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে এ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি’র প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি প্রতীকীভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামেলি কার্ড তুলে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ এলাকার প্রতিটি নিম্নআয়ের পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামেলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

তিনি তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপি যা বলে, তা করে। আমি বলেছিলাম যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমি নিজেই আপনাদের হাতে ফ্যামেলি কার্ড পৌঁছে দেবো। আজ আমি সেই অঙ্গীকার পূরণ করেছি।’

এ সময় ডিএনসিসি’র প্রশাসক আরও বলেন, দেশ গঠনে শুধু সরকারের নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে, সম্মিলিতভাবে একটি সমৃদ্ধ আগামী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদেরকেই এই কার্ড প্রদান করা হচ্ছে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব রাখা হয়নি।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, মিরপুরের বাগানবাড়ি বস্তির ১১৭টি পরিবার এবং ওলিমিয়ার টেক বস্তির ৩৯২টি পরিবারসহ মোট ৫০৯টি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ফ্যামেলি কার্ড পাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএনসিসি’র অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— ডিএনসিসি’র প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে যাদের হাতে ফ্যামেলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়, তাদের মধ্যে ছিলেন— রিনা আক্তার, শারমিন আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, নাসরিন আখতার, শাকিলা বেগম, মাহফুজা বেগম, মোসাম্মদ পারভীন ও নিপা আখতারসহ অন্যান্য উপকারভোগী।

কার্ড পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন উপকারভোগী রিনা আক্তার।

তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচ জনের পরিবার। আমরা কল্পনাও করিনি যে এত দ্রুত এই কার্ড হাতে পাবো। এই সহায়তার টাকা দিয়ে মেয়ের পড়াশোনা চালাবো। এছাড়া এই টাকা থেকে কিছু সঞ্চয় করে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনাও আমার আছে। আমরা স্বাবলম্বী হতে চাই।’

তিনি এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

আরেক উপকারভোগী শারমিন আক্তার বলেন, ‘ফ্যামেলি কার্ড পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত। আমরা এই সহায়তা পেয়েছি, এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের বড় কোনো আশা নেই, ছোট ছোট আশা আছে। আমরা আশা করি সরকার সব সময় আমাদের পাশে থাকবে।’

অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের মাঝে প্রতীকীভাবে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

নিম্নআয়ের পরিবারের সুরক্ষায় ডিএনসিসি’র ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ শুরু

আপডেট টাইম : ০৪:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।

‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় আজ রাজধানীর মিরপুরের ওলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ি বস্তির উপকারভোগীদের মধ্যে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে এ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি’র প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি প্রতীকীভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামেলি কার্ড তুলে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ এলাকার প্রতিটি নিম্নআয়ের পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামেলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

তিনি তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপি যা বলে, তা করে। আমি বলেছিলাম যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমি নিজেই আপনাদের হাতে ফ্যামেলি কার্ড পৌঁছে দেবো। আজ আমি সেই অঙ্গীকার পূরণ করেছি।’

এ সময় ডিএনসিসি’র প্রশাসক আরও বলেন, দেশ গঠনে শুধু সরকারের নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে, সম্মিলিতভাবে একটি সমৃদ্ধ আগামী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদেরকেই এই কার্ড প্রদান করা হচ্ছে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব রাখা হয়নি।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, মিরপুরের বাগানবাড়ি বস্তির ১১৭টি পরিবার এবং ওলিমিয়ার টেক বস্তির ৩৯২টি পরিবারসহ মোট ৫০৯টি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ফ্যামেলি কার্ড পাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএনসিসি’র অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— ডিএনসিসি’র প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে যাদের হাতে ফ্যামেলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়, তাদের মধ্যে ছিলেন— রিনা আক্তার, শারমিন আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, নাসরিন আখতার, শাকিলা বেগম, মাহফুজা বেগম, মোসাম্মদ পারভীন ও নিপা আখতারসহ অন্যান্য উপকারভোগী।

কার্ড পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন উপকারভোগী রিনা আক্তার।

তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচ জনের পরিবার। আমরা কল্পনাও করিনি যে এত দ্রুত এই কার্ড হাতে পাবো। এই সহায়তার টাকা দিয়ে মেয়ের পড়াশোনা চালাবো। এছাড়া এই টাকা থেকে কিছু সঞ্চয় করে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনাও আমার আছে। আমরা স্বাবলম্বী হতে চাই।’

তিনি এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

আরেক উপকারভোগী শারমিন আক্তার বলেন, ‘ফ্যামেলি কার্ড পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত। আমরা এই সহায়তা পেয়েছি, এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের বড় কোনো আশা নেই, ছোট ছোট আশা আছে। আমরা আশা করি সরকার সব সময় আমাদের পাশে থাকবে।’

অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের মাঝে প্রতীকীভাবে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়।


প্রিন্ট