ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংসদের অধিবেশন শুরু ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা দুঃসময়ে বিবেকের পাশে ছিলেন অক্ষয়, যা বললেন অভিনেতা সাভারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় এনসিপির বিক্ষোভ স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপরেই ভরসা ব্রাজিলের ইউক্রেন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ নিয়ে শুরু ন্যাটো সম্মেলন রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা।  ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেটে এখন উপচেপড়া ভিড়। সকাল দশটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে চড়াদামে নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ।

শহরের বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়,  তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নতুন ডিজাইনের পাকিস্তানি থ্রি-পিস, শাড়ি, ছেলেদের পাঞ্জাবি আর শিশুদের বাহারি পোশাক কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা। যেখানে এক একটি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। আর পাকিস্তানি থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। তবে গত বছরের তুলনায় দাম বেশি থাকায় পছন্দের পোশাক কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। অভিযোগ করছেন, বাড়তি দামের। বাড়তি দাম এবং অরিজিনাল কাপড় নিয়ে কিছুটা সন্দিহান ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও এখন ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। তবে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে আমদানি করা পোশাক। বিক্রেতারা জানান, আমদানির কারণে কিছুটা দাম বাড়লেও গত বছরের চেয়ে অনেক কম।

ফারজানা আক্তার। শহরের সুরমা মার্কেটে একাধিক কাপড়ের দোকানে ঘুরে দেখলাম দাম খুব চড়া। মার্কেটের অবস্থা একেবারে ভয়াবহ। কারণ, যে কাপড় গত বছর আমরা দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় কিনেছি। ঠিক একই কাপড় মার্কেটে বিক্রি করছে চার হাজার টাকা থেকে ছয় হাজার টাকায়। পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার কমে কোনো পছন্দের কাপড় পাওয়া যায় না। হোক ছোট্ট বাচ্চা বা বড়দের। এই কাপড় ঈদের পরে দুই হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় কেনা যায়। বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।

সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী পুষ্পা বাসস’কে বলেন, কাপড়ের অতিরিক্ত দাম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর দামটা বেশি। মার্কেটে রেডি থ্রি পিস কিনতে এসেছি। একেকটা থ্রি পিস তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা চায় দোকানদারেরা। আমরা মার্কেটে ঘুরে ঘুরে দেখেছি, সব মার্কেটে একই দাম।

শহরের ওয়েজখালীর বাসিন্দা তফাজ্জুল জানান, গত বছর আমি সাড়ে পাঁচশত টাকায় যে টি-শার্ট এবং প্যান্ট কিনেছিলাম। এই বছর একই টি শার্ট এবং প্যান্ট কিনেছি আটশ’ পঞ্চাশ টাকায়। এবছর কাপড়ের দাম বেশি।

শহরের লন্ডন প্লাজায় বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ঈদকে ঘিরে মেয়েদের পাকিস্তানি থ্রি পিস, ইন্ডিয়ান থ্রি পিস এবং প্রিন্টের থ্রি পিসের চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও মহিলাদের সুতি ও টাঙ্গাইল শাড়ি এবং ছেলেদের শার্ট এবং পাঞ্জাবিসহ ছোট বাচ্চাদের টি-শার্ট এবং পাঞ্জাবির চাহিদা রয়েছে। প্রকারভেদে পাকিস্তানি থ্রি পিস ৩ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপুল ব্রান্ডের ইন্ডিয়ান থ্রি-পিস ৯ শ’ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রিন্টের থ্রি পিস ৯শ’ টাকা থেকে ১৭শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ছোট বাচ্চাদের টি শার্ট এবং পাঞ্জাবি ১ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শহরের দোজা মার্কেট, নেজা প্লাজাসহ মধ্যবাজারের বিভিন্ন বিপনী বিতানে কাপড়ের দামটা একই রকম। সুরমা মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন গলিতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।

এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বাসস’কে বলেছেন, আমরা নিয়মিতই অভিযান পরিচালনা করছি। দাম বেশি রাখলে এবং এর তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেব।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদের অধিবেশন শুরু

সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

আপডেট টাইম : ০২:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা।  ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেটে এখন উপচেপড়া ভিড়। সকাল দশটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে চড়াদামে নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ।

শহরের বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়,  তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নতুন ডিজাইনের পাকিস্তানি থ্রি-পিস, শাড়ি, ছেলেদের পাঞ্জাবি আর শিশুদের বাহারি পোশাক কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা। যেখানে এক একটি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। আর পাকিস্তানি থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। তবে গত বছরের তুলনায় দাম বেশি থাকায় পছন্দের পোশাক কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। অভিযোগ করছেন, বাড়তি দামের। বাড়তি দাম এবং অরিজিনাল কাপড় নিয়ে কিছুটা সন্দিহান ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও এখন ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। তবে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে আমদানি করা পোশাক। বিক্রেতারা জানান, আমদানির কারণে কিছুটা দাম বাড়লেও গত বছরের চেয়ে অনেক কম।

ফারজানা আক্তার। শহরের সুরমা মার্কেটে একাধিক কাপড়ের দোকানে ঘুরে দেখলাম দাম খুব চড়া। মার্কেটের অবস্থা একেবারে ভয়াবহ। কারণ, যে কাপড় গত বছর আমরা দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় কিনেছি। ঠিক একই কাপড় মার্কেটে বিক্রি করছে চার হাজার টাকা থেকে ছয় হাজার টাকায়। পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার কমে কোনো পছন্দের কাপড় পাওয়া যায় না। হোক ছোট্ট বাচ্চা বা বড়দের। এই কাপড় ঈদের পরে দুই হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় কেনা যায়। বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।

সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী পুষ্পা বাসস’কে বলেন, কাপড়ের অতিরিক্ত দাম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর দামটা বেশি। মার্কেটে রেডি থ্রি পিস কিনতে এসেছি। একেকটা থ্রি পিস তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা চায় দোকানদারেরা। আমরা মার্কেটে ঘুরে ঘুরে দেখেছি, সব মার্কেটে একই দাম।

শহরের ওয়েজখালীর বাসিন্দা তফাজ্জুল জানান, গত বছর আমি সাড়ে পাঁচশত টাকায় যে টি-শার্ট এবং প্যান্ট কিনেছিলাম। এই বছর একই টি শার্ট এবং প্যান্ট কিনেছি আটশ’ পঞ্চাশ টাকায়। এবছর কাপড়ের দাম বেশি।

শহরের লন্ডন প্লাজায় বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ঈদকে ঘিরে মেয়েদের পাকিস্তানি থ্রি পিস, ইন্ডিয়ান থ্রি পিস এবং প্রিন্টের থ্রি পিসের চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও মহিলাদের সুতি ও টাঙ্গাইল শাড়ি এবং ছেলেদের শার্ট এবং পাঞ্জাবিসহ ছোট বাচ্চাদের টি-শার্ট এবং পাঞ্জাবির চাহিদা রয়েছে। প্রকারভেদে পাকিস্তানি থ্রি পিস ৩ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপুল ব্রান্ডের ইন্ডিয়ান থ্রি-পিস ৯ শ’ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রিন্টের থ্রি পিস ৯শ’ টাকা থেকে ১৭শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ছোট বাচ্চাদের টি শার্ট এবং পাঞ্জাবি ১ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শহরের দোজা মার্কেট, নেজা প্লাজাসহ মধ্যবাজারের বিভিন্ন বিপনী বিতানে কাপড়ের দামটা একই রকম। সুরমা মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন গলিতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।

এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বাসস’কে বলেছেন, আমরা নিয়মিতই অভিযান পরিচালনা করছি। দাম বেশি রাখলে এবং এর তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেব।


প্রিন্ট