ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কাপ্রাপ্ত এ্যাথলেট শামিমা সাত্তার মিমু আর নেই

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক এ্যাথলেট, ক্রীড়া সংগঠক ও বিকেএসপির সাবেক উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষক) শামিমা সাত্তার মিমু আর নেই। গতকাল শুক্রবার রাত ১১ টায় ঢাকার নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ভার্টিগোজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন মিমু। কয়েক মাস আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁর শেষ ইচ্ছানুযায়ী দিনাজপুরে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

শামিমা সাত্তার মিমু ছিলেন একাধারে সফল এ্যাথলেট, দক্ষ প্রশিক্ষক, আন্তর্জাতিক বিচারক এবং ক্রীড়া প্রশাসক।

এ্যাথলেট হিসেবে তাঁর উত্থান ছিল কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প। সেই সময়ের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জাতীয় পর্যায়ের একজন উজ্জ্বল এ্যাথলেট হিসেবে। এ্যাথলেটিক্সে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০০ সালে লাভ করেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার- যা দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলেও থেমে থাকেননি তিনি। বরং নতুন এক অধ্যায় শুরু করেন ক্রীড়া প্রশাসন ও প্রশিক্ষণের জগতে। তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে। সেই দায়িত্বে থেকে তিনি দেশের এ্যাথলেটিক্সের উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এছাড়া বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটিতেও দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন।

শুধু সংগঠক হিসেবেই নয়, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ প্রশিক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মানের বিচারকও। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় বিচারক ও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। নতুন প্রজন্মের এ্যাথলেটদের গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা ছিল নিঃস্বার্থ এবং অনুপ্রেরণাদায়ী।

ক্রীড়া প্রশাসনের পাশাপাশি তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে। সেখানে তিনি অসংখ্য তরুণ খেলোয়াড়কে শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং স্বপ্ন দেখার শিক্ষা দিয়েছেন। অনেকেই আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যাদের পেছনে মিমুর মতো মানুষের নীরব অবদান রয়েছে।

পেশাগত জীবনের বাইরে পারিবারিক জীবনেও তিনি ছিলেন এক স্নেহময়ী মা, দায়িত্বশীল অভিভাবক এবং পরিবারের প্রেরণার উৎস। একমাত্র সন্তান শাহরিয়ার শরীফ ও পরিবার ছিল তাঁর শক্তি, আর ক্রীড়াঙ্গন ছিল তাঁর বিস্তৃত পরিবার। পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং অসংখ্য এ্যাথলেটের কাছে তিনি ছিলেন এক প্রিয় মুখ, যাঁর কাছে পাওয়া যেত উৎসাহ, সাহস আর দিকনির্দেশনা।

শামিমা সাত্তার মিমুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশন, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস এসোসিয়েশন (বিএসপিএ), বাংলাদেশ মাস্টার্স এ্যাথলেটিক্স এসোসিয়েশন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কাপ্রাপ্ত এ্যাথলেট শামিমা সাত্তার মিমু আর নেই

আপডেট টাইম : ০২:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক এ্যাথলেট, ক্রীড়া সংগঠক ও বিকেএসপির সাবেক উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষক) শামিমা সাত্তার মিমু আর নেই। গতকাল শুক্রবার রাত ১১ টায় ঢাকার নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ভার্টিগোজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন মিমু। কয়েক মাস আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁর শেষ ইচ্ছানুযায়ী দিনাজপুরে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

শামিমা সাত্তার মিমু ছিলেন একাধারে সফল এ্যাথলেট, দক্ষ প্রশিক্ষক, আন্তর্জাতিক বিচারক এবং ক্রীড়া প্রশাসক।

এ্যাথলেট হিসেবে তাঁর উত্থান ছিল কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প। সেই সময়ের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জাতীয় পর্যায়ের একজন উজ্জ্বল এ্যাথলেট হিসেবে। এ্যাথলেটিক্সে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০০ সালে লাভ করেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার- যা দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলেও থেমে থাকেননি তিনি। বরং নতুন এক অধ্যায় শুরু করেন ক্রীড়া প্রশাসন ও প্রশিক্ষণের জগতে। তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে। সেই দায়িত্বে থেকে তিনি দেশের এ্যাথলেটিক্সের উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এছাড়া বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটিতেও দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন।

শুধু সংগঠক হিসেবেই নয়, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ প্রশিক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মানের বিচারকও। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় বিচারক ও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। নতুন প্রজন্মের এ্যাথলেটদের গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা ছিল নিঃস্বার্থ এবং অনুপ্রেরণাদায়ী।

ক্রীড়া প্রশাসনের পাশাপাশি তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে। সেখানে তিনি অসংখ্য তরুণ খেলোয়াড়কে শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং স্বপ্ন দেখার শিক্ষা দিয়েছেন। অনেকেই আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যাদের পেছনে মিমুর মতো মানুষের নীরব অবদান রয়েছে।

পেশাগত জীবনের বাইরে পারিবারিক জীবনেও তিনি ছিলেন এক স্নেহময়ী মা, দায়িত্বশীল অভিভাবক এবং পরিবারের প্রেরণার উৎস। একমাত্র সন্তান শাহরিয়ার শরীফ ও পরিবার ছিল তাঁর শক্তি, আর ক্রীড়াঙ্গন ছিল তাঁর বিস্তৃত পরিবার। পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং অসংখ্য এ্যাথলেটের কাছে তিনি ছিলেন এক প্রিয় মুখ, যাঁর কাছে পাওয়া যেত উৎসাহ, সাহস আর দিকনির্দেশনা।

শামিমা সাত্তার মিমুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশন, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস এসোসিয়েশন (বিএসপিএ), বাংলাদেশ মাস্টার্স এ্যাথলেটিক্স এসোসিয়েশন।


প্রিন্ট