ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

ঝালকাঠিতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, তিন দিনের মধ্যে জবাবের নির্দেশ

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি পৌরসভার ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের আওতায় গ্রহণ করা সাতটি খাল খনন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমির বিল্ডার্স লিমিটেড-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

সোমবার (১৬ মার্চ) পৌরসভার জারি করা নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের আওতাধীন সাতটি খালের মধ্যে ছয়টির কাজ আংশিকভাবে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো খালের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি। এমনকি কোনো খালই আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর (হ্যান্ডওভার) বা কমপ্লিশন সার্টিফিকেটসহ পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে একটি খালের কাজ এখনও শুরুই করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাত্র দুটি খালের আংশিক কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে সেই কাজগুলোও যথাযথভাবে সম্পন্ন করে হস্তান্তর না করে বাকি খালগুলোর কাজে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং পৌরসভার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে খাল খননের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এর ফলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পৌরসভার তথ্যমতে, প্রকল্পটির মোট চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার ৩৭৭ টাকা। এর মধ্যে সম্পাদিত কাজের বিপরীতে ইতোমধ্যে ৫২ লাখ ৭১ হাজার ১১ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত বিলের জন্য আবেদন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিল আদায়ের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়ার চেষ্টার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) টি. এম. রেজাউল হক রিজভী বলেন, “ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত এবং লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।”

অন্যদিকে, উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে আজমির বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রোপাইটর মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, “প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এক বছর এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। এতদিন পর হঠাৎ করে এ ধরনের নোটিশ জারি করা যৌক্তিক নয়। আমরা সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং কাজও সম্পন্ন করেছি।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন দ্রুত কাজ সম্পন্নের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

ঝালকাঠিতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, তিন দিনের মধ্যে জবাবের নির্দেশ

আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি পৌরসভার ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের আওতায় গ্রহণ করা সাতটি খাল খনন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমির বিল্ডার্স লিমিটেড-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

সোমবার (১৬ মার্চ) পৌরসভার জারি করা নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের আওতাধীন সাতটি খালের মধ্যে ছয়টির কাজ আংশিকভাবে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো খালের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি। এমনকি কোনো খালই আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর (হ্যান্ডওভার) বা কমপ্লিশন সার্টিফিকেটসহ পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে একটি খালের কাজ এখনও শুরুই করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাত্র দুটি খালের আংশিক কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে সেই কাজগুলোও যথাযথভাবে সম্পন্ন করে হস্তান্তর না করে বাকি খালগুলোর কাজে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং পৌরসভার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে খাল খননের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এর ফলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পৌরসভার তথ্যমতে, প্রকল্পটির মোট চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার ৩৭৭ টাকা। এর মধ্যে সম্পাদিত কাজের বিপরীতে ইতোমধ্যে ৫২ লাখ ৭১ হাজার ১১ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত বিলের জন্য আবেদন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিল আদায়ের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়ার চেষ্টার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) টি. এম. রেজাউল হক রিজভী বলেন, “ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত এবং লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।”

অন্যদিকে, উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে আজমির বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রোপাইটর মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, “প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এক বছর এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। এতদিন পর হঠাৎ করে এ ধরনের নোটিশ জারি করা যৌক্তিক নয়। আমরা সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং কাজও সম্পন্ন করেছি।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন দ্রুত কাজ সম্পন্নের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


প্রিন্ট