ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

মার্কিন সমর্থিত বিমান হামলায় আতঙ্কিত ইকুয়েডরের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী

ইকুয়েডর-কলম্বিয়া সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযানে খামারবাড়িতে বোমা হামলা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং গ্রামবাসীদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

৬৬ বছর বয়সী হোসে পেনা জানান, গত ৬ মার্চ ইকুয়েডরের দুটি সামরিক হেলিকপ্টার তার মাথার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন। এরপর একটি বিকট বিস্ফোরণে চারপাশ কেঁপে ওঠে এবং তিনি যে খামারে কাজ করতেন তা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএফপি’কে জানান, দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিকল্পনার পর ওই হামলা চালানো হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল ‘বর্ডার কমান্ডো’ নামক একটি গেরিলা গোষ্ঠীর আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া।

এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কোকা ক্ষেত থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মাদক পাচারের পথ দখলের লড়াইয়ে লিপ্ত। গত কয়েক বছরে ইকুয়েডর হয়ে উঠেছে কোকেন পাচারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এক সময়ের নিরাপদ এই দেশটি এখন লাতিন আমেরিকার অন্যতম সহিংস রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

সরকার হামলাগুলো অপরাধী চক্রের ওপর হয়েছে বলে দাবি করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এএফপি’র প্রতিনিধিরা দুর্গম ওই সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনটি ধ্বংসস্তূপ দেখতে পেয়েছেন। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল মরা পশুপাখি এবং পুড়ে যাওয়া লেবু ও অ্যাভোকাডো গাছ। তবে সেখানে মাদক উৎপাদন বা পাচারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিমান হামলার কয়েক দিন আগে সৈন্যরা তিনটি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল।

২৬ বছর বয়সী গিলসন ভার্গাস জানান, তাকেসহ আরও চারজনকে চোখ বেঁধে মারধর করা হয়েছে এবং একটি সামরিক ঘাঁটিতে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজনকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে হেলিকপ্টারে তোলা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সৈন্যরা মাটিতে গুলি চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আইনজীবী লিনা মারিয়া এস্পিনোসা জানান, তার মক্কেলরা ইলেকট্রিক শক এবং পানিতে ডুবিয়ে রাখার মতো নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। এক ব্যক্তির হাতে হাতকড়ার গভীর ক্ষত দেখা গেছে। তবে এএফপি এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

অন্য একটি গ্রামে বাসিন্দারা জানান, গত ৩ মার্চ ছোট বিমান থেকে ফেলা বোমায় একটি খামারে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

ইকুয়েডর সরকার বা প্রসিকিউটররা এই নির্যাতন বা ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগের সরাসরি কোনো জবাব দেননি।

প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন টোটাল এক্সটারমিনেশন’ বা ‘সম্পূর্ণ নির্মূল অভিযান’ চালানো হচ্ছে। ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারকারীদের দমনে এই অভিযান চলছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করলেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, ইকুয়েডর থেকে ছোড়া একটি অবিস্ফোরিত বোমা কলম্বিয়ার সীমান্তের ভেতরে একটি বাড়ির পাশে এসে পড়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

মার্কিন সমর্থিত বিমান হামলায় আতঙ্কিত ইকুয়েডরের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী

আপডেট টাইম : ১২:১৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ইকুয়েডর-কলম্বিয়া সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযানে খামারবাড়িতে বোমা হামলা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং গ্রামবাসীদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

৬৬ বছর বয়সী হোসে পেনা জানান, গত ৬ মার্চ ইকুয়েডরের দুটি সামরিক হেলিকপ্টার তার মাথার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন। এরপর একটি বিকট বিস্ফোরণে চারপাশ কেঁপে ওঠে এবং তিনি যে খামারে কাজ করতেন তা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএফপি’কে জানান, দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিকল্পনার পর ওই হামলা চালানো হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল ‘বর্ডার কমান্ডো’ নামক একটি গেরিলা গোষ্ঠীর আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া।

এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কোকা ক্ষেত থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মাদক পাচারের পথ দখলের লড়াইয়ে লিপ্ত। গত কয়েক বছরে ইকুয়েডর হয়ে উঠেছে কোকেন পাচারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এক সময়ের নিরাপদ এই দেশটি এখন লাতিন আমেরিকার অন্যতম সহিংস রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

সরকার হামলাগুলো অপরাধী চক্রের ওপর হয়েছে বলে দাবি করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এএফপি’র প্রতিনিধিরা দুর্গম ওই সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনটি ধ্বংসস্তূপ দেখতে পেয়েছেন। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল মরা পশুপাখি এবং পুড়ে যাওয়া লেবু ও অ্যাভোকাডো গাছ। তবে সেখানে মাদক উৎপাদন বা পাচারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিমান হামলার কয়েক দিন আগে সৈন্যরা তিনটি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল।

২৬ বছর বয়সী গিলসন ভার্গাস জানান, তাকেসহ আরও চারজনকে চোখ বেঁধে মারধর করা হয়েছে এবং একটি সামরিক ঘাঁটিতে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজনকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে হেলিকপ্টারে তোলা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সৈন্যরা মাটিতে গুলি চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আইনজীবী লিনা মারিয়া এস্পিনোসা জানান, তার মক্কেলরা ইলেকট্রিক শক এবং পানিতে ডুবিয়ে রাখার মতো নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। এক ব্যক্তির হাতে হাতকড়ার গভীর ক্ষত দেখা গেছে। তবে এএফপি এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

অন্য একটি গ্রামে বাসিন্দারা জানান, গত ৩ মার্চ ছোট বিমান থেকে ফেলা বোমায় একটি খামারে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

ইকুয়েডর সরকার বা প্রসিকিউটররা এই নির্যাতন বা ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগের সরাসরি কোনো জবাব দেননি।

প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন টোটাল এক্সটারমিনেশন’ বা ‘সম্পূর্ণ নির্মূল অভিযান’ চালানো হচ্ছে। ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারকারীদের দমনে এই অভিযান চলছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করলেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, ইকুয়েডর থেকে ছোড়া একটি অবিস্ফোরিত বোমা কলম্বিয়ার সীমান্তের ভেতরে একটি বাড়ির পাশে এসে পড়েছে।


প্রিন্ট