ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের মহোৎসব,ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে—প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্ট মহল্লায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর (পিতা: মোঃ বাবু মিয়া)-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার নিজস্ব জমির অজুহাতে প্রতিদিন শতশত ট্রাক বালি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন,যা স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,দিনের পাশাপাশি দিনে ও রাতের আঁধারেও ট্রাক ও লোকজন দিয়ে নির্বিচারে বালি উত্তোলন চলছে। এতে করে শুধু ওই জমিই নয়,আশপাশের আবাদি জমি গুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমির প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে,কোথাও আবার জমি দেবে গিয়ে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
কৃষকরা জানান,তাদের বছরের পর বছর ধরে চাষ করা জমি এখন হুমকির মুখে। ধান,গম,ভুট্টা ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের উৎপাদন মারাত্মক ভাবে কমে গেছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি,দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
পরিবেশবিদদের মতে,এভাবে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে জমি থেকে বালি উত্তোলন করলে ভূমির ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে করে জলাবদ্ধতা,মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
সরকারি আইন অনুযায়ী,কৃষিজমি বা যেকোনো ভূমি থেকে অনুমতি ছাড়া বালি উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় এ ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবুও কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব আইনকে তোয়াক্কা না করে অবাধে বালি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন,সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলেন,“আমাদের ফসলি জমি বাঁচাতে হলে এখনই এই অবৈধ বালি কাটা বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

”এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ বালি উত্তোলনের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে শুধু কৃষি নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের মহোৎসব,ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে—প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি

আপডেট টাইম : ০৮:২৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্ট মহল্লায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর (পিতা: মোঃ বাবু মিয়া)-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার নিজস্ব জমির অজুহাতে প্রতিদিন শতশত ট্রাক বালি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন,যা স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,দিনের পাশাপাশি দিনে ও রাতের আঁধারেও ট্রাক ও লোকজন দিয়ে নির্বিচারে বালি উত্তোলন চলছে। এতে করে শুধু ওই জমিই নয়,আশপাশের আবাদি জমি গুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমির প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে,কোথাও আবার জমি দেবে গিয়ে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
কৃষকরা জানান,তাদের বছরের পর বছর ধরে চাষ করা জমি এখন হুমকির মুখে। ধান,গম,ভুট্টা ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের উৎপাদন মারাত্মক ভাবে কমে গেছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি,দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
পরিবেশবিদদের মতে,এভাবে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে জমি থেকে বালি উত্তোলন করলে ভূমির ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে করে জলাবদ্ধতা,মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
সরকারি আইন অনুযায়ী,কৃষিজমি বা যেকোনো ভূমি থেকে অনুমতি ছাড়া বালি উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় এ ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবুও কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব আইনকে তোয়াক্কা না করে অবাধে বালি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন,সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলেন,“আমাদের ফসলি জমি বাঁচাতে হলে এখনই এই অবৈধ বালি কাটা বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

”এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ বালি উত্তোলনের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে শুধু কৃষি নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।


প্রিন্ট