ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

রাজাপুরে খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের ভাঙার নির্দেশ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের কাঁচারিবাড়ী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আব্দুল খালেক হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারসংলগ্ন খালের ভেতরে রড দিয়ে পিলার নির্মাণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচারিবাড়ী বাজারে এর আগেও একাধিক ব্যক্তি খালের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের দেখাদেখি আব্দুল খালেক হাওলাদারও খালের জমি দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। এতে করে খাল ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে কৃষকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল খালেকের মেয়ে জামাই বিএনপি নেতা মাস্টার জাহিদুল ইসলাম এবং বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যোগসাজশে এই দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে বাজার কমিটির সেক্রেটারি মো. লিটন হাওলাদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আগে থেকেই অনেকেই খালের পাড় ঘেঁষে দোকান নির্মাণ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় খালেকও কাজ করছেন। এতে খাল দখলের বিষয়টি আমি মনে করি না।”

এ বিষয়ে আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, “নির্মাণাধীন ভবনটি আমার নিজস্ব জমিতে হলেও কিছু অংশ খালের মধ্যে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে দেখে গেছেন। প্রয়োজনে আমার জামাই কথা বলবেন, দরকার হলে এমপির সঙ্গেও কথা বলা হবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি এটি সরকারি খালের জমি প্রমাণিত হয় এবং ইউএনও ভেঙে ফেলতে বলেন, তাহলে তা ভেঙে ফেলা হবে।” তবে ইউএনও নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন কাজ বন্ধ করা হয়নি—এ প্রশ্নে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, “খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মিত পিলার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে খাল দখলমুক্ত করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও কৃষি সংকট তৈরি হতে পারে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

রাজাপুরে খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের ভাঙার নির্দেশ

আপডেট টাইম : ০৬:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের কাঁচারিবাড়ী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আব্দুল খালেক হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারসংলগ্ন খালের ভেতরে রড দিয়ে পিলার নির্মাণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচারিবাড়ী বাজারে এর আগেও একাধিক ব্যক্তি খালের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের দেখাদেখি আব্দুল খালেক হাওলাদারও খালের জমি দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। এতে করে খাল ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে কৃষকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল খালেকের মেয়ে জামাই বিএনপি নেতা মাস্টার জাহিদুল ইসলাম এবং বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যোগসাজশে এই দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে বাজার কমিটির সেক্রেটারি মো. লিটন হাওলাদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আগে থেকেই অনেকেই খালের পাড় ঘেঁষে দোকান নির্মাণ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় খালেকও কাজ করছেন। এতে খাল দখলের বিষয়টি আমি মনে করি না।”

এ বিষয়ে আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, “নির্মাণাধীন ভবনটি আমার নিজস্ব জমিতে হলেও কিছু অংশ খালের মধ্যে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে দেখে গেছেন। প্রয়োজনে আমার জামাই কথা বলবেন, দরকার হলে এমপির সঙ্গেও কথা বলা হবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি এটি সরকারি খালের জমি প্রমাণিত হয় এবং ইউএনও ভেঙে ফেলতে বলেন, তাহলে তা ভেঙে ফেলা হবে।” তবে ইউএনও নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন কাজ বন্ধ করা হয়নি—এ প্রশ্নে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, “খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মিত পিলার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে খাল দখলমুক্ত করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও কৃষি সংকট তৈরি হতে পারে।


প্রিন্ট